
X
নারী উন্নয়ন শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কর্মশালা
গত শনিবার (২৫ জুলাই) রামপুরার বনশ্রীতে নারী উন্নয়ন শক্তি (NUS) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস এন্ড ক্লাইমেট ও নারী উন্নয়ন শক্তি এর যৌথ আয়োজনে "যুব নারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: ৬ মাসের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা" শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে।
এই কর্মশালায় সহায়তা করে গ্লোবাল ওয়ার্কফোর্স সার্ভিসেস ও ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট। বিজ্ঞানভিত্তিক সময়োপযোগী শ্রম বাজারে বাংলাদেশী নারীদের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয়তা যা চায় ও সুপারিশ মালা নির্ধারণ এই কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।
কর্মশালায় মূল কৌশলী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস এন্ড ক্লাইমেট এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন নুসরাত সুলতানা আফরোজ। সভা সঞ্চালনা সহ সভাপতির বক্তব্য রাখেন নারী উন্নয়ন শক্তির সভাপতি সেহেলি জাহান।
কর্মশালার উদ্দেশ্য প্রয়োজনীয়তা ফলাফল এবং কেন এনজিওদের সাথে সরকার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নারীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন এ বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ারস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ এর সদস্য হ্যাপি ফয়জুন নাহার (হ্যাপি), দুঃখিত যুব নারীদের চাকরিজনিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন নারী উন্নয়ন শক্তির স্বেচ্ছাসেবক সাবরিনা নুজহাত, যুবকদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ওয়াইডব্লিউডিআরসি এর স্বেচ্ছাসেবক ফারদিন এহসান, নারীরদের জন্য উপজেলা ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির জন্য প্রস্তাবনা করেন ঢাকার বনশ্রী সোসাইটির যুগ্ম সম্পাদক, রেহানা পারভীন, যুব সম্প্রদায়ের কালচারাল সমস্যা ওর সমাধানের উপায় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট এর সদস্য আবদুল মোমিন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষণের কারণ, প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে কোন বিষয়ের উপরে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরী, কিভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় এই বিষয় সমুহ নিয়ে আলোচিত হয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে কর্মবাজারের ধরন বদলে যাচ্ছে, বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মসংস্থানের প্রয়োজন, ঘরে বসে বিদেশ থেকে আয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সুযোগ সৃষ্টি, রিমোট জব ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে নারীদের ব্যাপক চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার ও এনজিও সংস্থার অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণ কারিগর যে সকল দাবি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পেশ করেছেন সেগুলো হল: ১০টি পেশায় (কম্পিউটার বেসিক, গ্রাফিক্স, ডেটা এন্ট্রি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্ট্যান্সি, ই-কমার্স, কন্টেন্ট রাইটিং) ৬ মাসের ফ্রি/স্বল্পমূল্যের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট প্রদান, ল্যাপটপ/ট্যাবলেট ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে, দেশে ও বিদেশে রিমোট জবের ব্যবস্থা করতে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, আইইএলটিএস/টিওএফইল প্রস্তুতি কোর্স, বিদেশগামী নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক PDO ট্রেনিং ও বৈধ এজেন্সিদের নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করতে হবে, দেশে ও বিদেশে নারী-বান্ধব কর্মপরিবেশ ও নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে সৃষ্টি করতে হবে।
উপরের বিষয়গুলি বাস্তবায়ন করলে নারীরা মাসে ২০,০০০–৫০,০০০ টাকা আয় করে স্বনির্ভর হবেন, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে নারীদের অংশগ্রহণ ১২% থেকে ৫০% বাড়ানো সম্ভবহবে, পরিবারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নতি ঘটবে, এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নারীদের অবদান বৃদ্ধি হবে।