
X
সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিরতিহীন উড়ে দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত পরীক্ষামূলক এ ফ্লাইটে বিশেষভাবে পরিবর্তিত একটি এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর বিমান টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট আকাশে থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের তুলুজে অবতরণ করে।
এয়ারবাস ও ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ২৭ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে উড্ডয়ন করে। এরপর প্রশান্ত মহাসাগর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে ২৩ হাজার ৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে ফ্রান্সের তুলুজে এয়ারবাসের সদর দপ্তরে পৌঁছায়।
এর আগে দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের রেকর্ড ছিল ২২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। ২০০৫ সালে হংকং থেকে লন্ডনে একটি পরীক্ষামূলক বোয়িং ৭৭৭-২০০এলআর ফ্লাইট সেই রেকর্ড গড়েছিল। নতুন রেকর্ড গড়া বিমানটি অবতরণের আগে নিরাপত্তাজনিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত ‘গো-অ্যারাউন্ড’ও সম্পন্ন করে।
ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, এই যাত্রা তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক অনুসরণ করা ফ্লাইটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের ৩৬ লাখেরও বেশি মানুষ ফ্লাইটটির গতিপথ অনুসরণ করেছেন। কেবল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কফিন বহনকারী ফ্লাইটই এর চেয়ে বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছিল।
বিশ্বরেকর্ড গড়া এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর বিমানটিতে অতিদীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার লিটারের জ্বালানি ট্যাংক সংযোজন করা হয়েছে। দুই মাসব্যাপী সার্টিফিকেশন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এয়ারবাস জুন মাস থেকে বিমানটির বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। ঠিক এক সপ্তাহ আগে একই বিমান তুলুজ থেকে মেলবোর্ন পর্যন্ত ভারত মহাসাগর হয়ে ১৯ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছিল।
সাম্প্রতিক এই পরীক্ষায় প্রকৌশলীরা পরিবর্তিত জ্বালানি ব্যবস্থা, কেবিনের শব্দের মাত্রা, বায়ু চলাচল এবং প্রায় একদিনব্যাপী ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা মূল্যায়ন করেন। ফ্লাইটটিতে ছিলেন ৮ জন এয়ারবাস ক্রু, ২ জন কোয়ান্টাস পাইলট এবং ২ জন এয়ারবাস প্রকৌশলীসহ মোট ১২ জন আরোহী।
কোয়ান্টাসের উচ্চাভিলাষী ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’-এর লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে সিডনি ও মেলবোর্ন থেকে লন্ডন এবং নিউইয়র্কে বিরতিহীন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করা। এ প্রকল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটি একই মডেলের ১২টি এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ইউএলআর বিমান অর্ডার দিয়েছে। প্রতিটি বিমানে ২৩৮ জন যাত্রীর আসন থাকবে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৯ থেকে ২১ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম বিমানটি ২০২৭ সালের এপ্রিলে সরবরাহ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সিডনি-লন্ডন দৈনিক বিরতিহীন ফ্লাইট চালু হবে। প্রায় এক দশকের পরিকল্পনা ও একাধিক বিলম্বের পর ‘প্রজেক্ট সানরাইজ’ এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ঐতিহাসিক ‘ক্যাঙ্গারু রুট’-এ সিডনি থেকে লন্ডন যেতে সাতটি যাত্রাবিরতি এবং প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগত। কোয়ান্টাসের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একই যাত্রা সম্পন্ন হবে মাত্র ২১ ঘণ্টার একটি বিরতিহীন ফ্লাইটে। বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, যা সিঙ্গাপুর থেকে নিউইয়র্কের মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়।