মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার নতুন কৌশল ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো ব্যবহার করে

2026-07-30T12:23:50+00:00
2026-07-30T12:23:50+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার নতুন কৌশল ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম   (ভিজিট : ২৭)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থান এবং হামলার কার্যকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে ইরান। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র।

অনলাইনে ছড়ানো ভিডিও থেকেই তথ্য পাচ্ছে ইরান

রয়টার্সের হাতে আসা ২৮ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও থেকে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সেনাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা প্রতিক্রিয়া, ছবি ও ভিডিও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এসব উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স) ইরানকে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক অভিযানের বিষয়ে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করছে।

কুপারের ভাষায়, এই ধরনের তথ্য প্রকাশের চূড়ান্ত মূল্য দিতে হতে পারে মার্কিন সেনাসদস্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ দিয়ে। তাই তিনি সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা আরও কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

মোবাইল ফোন জব্দের পরিকল্পনা

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকে জানানো হয়েছে যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু জর্ডান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই এমন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, এটি মূলত অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সাধারণ সতর্কবার্তা। অ্যাডমিরাল কুপার নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন উপায়ে সেনাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার বিষয়ে অবহিত করে থাকেন।

বাঙ্কারে আশ্রয়ের ভিডিও নিয়ে উদ্বেগ

চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মার্কিন সেনারা দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন।

১৭ জুলাইয়ের ওই হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হন।

অ্যাডমিরাল কুপার জানান, ভিডিওটি মেটার স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে সেনাসদস্যটি কোথায় এবং কীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছেন, যা শত্রুপক্ষের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক জ্যামিং ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে সাধারণত ইরানের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, ছবি ও সংবাদ প্রতিবেদন সেই ঘাটতি পূরণ করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ইরান জানে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, কিন্তু সেটি লক্ষ্যবস্তু থেকে কত দূরে পড়েছে, খালি রানওয়েতে আঘাত করেছে নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে—এসব তথ্য তারা পরে অনলাইন সূত্র থেকেই জানতে পারছে।

দ্বিতীয় দফা হামলার শঙ্কা

কুপার সতর্ক করে বলেন, হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে ইরান আরও নিখুঁতভাবে দ্বিতীয় দফা এবং আরও ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসতর্কভাবে তথ্য প্রকাশ সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

কংগ্রেসে বাড়ছে চাপ

অন্যদিকে, মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির রাডার টাওয়ার, ব্যারাক ও বিমান হ্যাঙ্গারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ইরানে একটি বালিকাবিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।

আগে থেকেই ছিল সতর্কতা

মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ, বিশেষ করে অবস্থানভিত্তিক (লোকেশন) অ্যাপ, শত্রুপক্ষের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।

চলতি বছরের মে মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্মার্টফোন থেকে সংগৃহীত বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মার্কিন সেনাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy