
X
সংগৃহীত ছবি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার কথা জানানোর একদিন পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশুও রয়েছে। হামলায় রাজধানী কিয়েভ, জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহ এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভসহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১টার কিছু পর রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিয়েভে একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রের তাণ্ডবে ‘নীরব মৃত্যু’ হচ্ছে রুশ সেনাদের
আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। পোলতাভা অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। শহরের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল বলেন, রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে আরও আটজন আহত হয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় ভিলকুল বলেন, এটি ছিল ‘এক অন্ধকার রাত’। তিনি জানান, রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চল থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনও চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন লভিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ, লভিভ ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় শহর ওডেসার কাছে তিনটি মালবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার অভিযোগ, জাহাজগুলোতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার এই সন্ত্রাস আবারও প্রমাণ করেছে, আমাদের মানুষের জীবন বাঁচাতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব শুধু ইউক্রেন বা কোনও একটি দেশের একার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়।
অবশ্য বুধবারই জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া ‘বড় ধরনের’ হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে কতটা প্রস্তুত, তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দিতে সম্মত হয়েছেন। এক্সে দেয়া আরেক পোস্টে তিনি আবারও মিত্র দেশগুলোর কাছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্পও ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তখন রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছিল। বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম।
তবে ইউক্রেনের কাছে প্রয়োজনীয় পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই ঘাটতি আরও বেড়েছে।