প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১১ পিএম (ভিজিট : ৩৭)

X
বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত ৫ বছরের শিশু জামিনুল
রাজশাহীর বাগমারার পাঁচ বছর বয়সী শিশু জামিনুল ইসলাম বিরল স্নায়ুরোগ সাসপেক্টেড গিলিয়ান-বারে সিনড্রোম (Suspected GBS)-এ আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে অসহায় পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
শিশুটির বাবা আজাদ আলী (৪০) একজন দিনমজুর এবং মা সাবিনা বেগম (৩০) গৃহিণী। তিন সন্তানের মধ্যে জামিনুল সবার ছোট। বড় ভাই শিহাব উদ্দিন (২১) হেফজ সম্পন্ন করে বর্তমানে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। মেজ বোন আসিফা আক্তার বৃষ্টি (১৩) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশুটির বাবা আজাদ আলী জানান, গত ২৮ জুন জামিনুলের জ্বর আসে। প্রায় ১৫ দিন পর ধীরে ধীরে তার শরীর অবশ হয়ে যেতে শুরু করে। প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ জুলাই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জামিনুলের রোগের চিকিৎসায় বিশেষ ধরনের দামি ইনজেকশন প্রয়োজন। প্রতিটি ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা লাগবে। অন্যান্য ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে মোট চিকিৎসা খরচ প্রায় ৬ লাখ টাকা হতে পারে। একজন দিনমজুর হিসেবে এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব।
মা সাবিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের অভাব-অনটনের সংসার। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আত্মীয়-স্বজন কেউ ২০০, কেউ ৫০০ টাকা বিকাশে পাঠাচ্ছেন, সেই টাকায় কোনোভাবে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা যে দামি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন, তা কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। বর্তমানে ৮০০ টাকা মূল্যের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমার একটাই আবেদন আমার ছেলেটিকে বাঁচাতে আপনারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।”
বর্তমানে শিশু জামিনুল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার জীবন রক্ষায় সকলের দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সহযোগিতার জন্য হিসাবঃ নগদ ও বিকাশ (পার্সোনাল) নম্বর ০১৭৩৬৪৫৫৪০৯।
একটি ছোট সহযোগিতাও হতে পারে শিশু জামিনুল ইসলামের সুস্থ জীবনে ফিরে আশার আলো।