প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম (ভিজিট : ৩২)

X
ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার শর্তে দেশটির ওপর পরিকল্পিত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে সামরিক পদক্ষেপ এড়াতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থে এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার জন্য আমি হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি। তবে এর শর্ত হলো, ইরানকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’
এর আগে মার্কিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও আরও জোরালো সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইরান এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
সম্প্রতি তেহরান উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে। দেশটি বলেছে, ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করা যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্র ‘যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে’।
মার্কিন সরকার এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ওই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে এলাকা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবাহিনী নিজেদের প্রস্তুত করেছে। হামলার পর ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটি সতর্কতা বাড়িয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা টিআরটি।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানে এত ব্যাপক হামলা চালাবেন যে একসময় ইরান বলবে, তারা আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়োত আহরোনোত জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে। দেশটির সামরিক কমান্ডারদের ধারণা, ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার নির্দেশ যেকোনো সময় দিতে পারেন।