
X
সংগৃহীত ছবি
গ্রিসে দাবানল মোকাবিলার সময় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দমকল বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাটিকার পসাথা এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় জড়িত ক্রুদের উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি হেলিকপ্টারই এলেফসিনা সামরিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। গ্রিক দমকল পরিষেবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি হেলিকপ্টারে দুজন করে ক্রু ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আকাশপথে আগুন নেভানোর অভিযান চলাকালে দমকল বিভাগের ভাড়া করা দুটি বেল (Bell) হেলিকপ্টার, প্রতিটিতে দুজন করে ক্রু নিয়ে, অ্যাটিকার পসাথা এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে।’
আরও বলা হয়, ‘হেলিকপ্টার দুটি এলেফসিনা সামরিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স ও রোমানিয়ার দমকলকর্মীদের সহায়তায় প্রায় ৫০০ গ্রিক দমকলকর্মীকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, গ্রিসজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে হাজার হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ক্রিট দ্বীপে দাবানল বিস্তীর্ণ এলাকা গ্রাস করেছে। এর ফলে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সাময়িকভাবে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্য গ্রিসেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। দাবানলের আগ্রাসী বিস্তারের কারণে প্রায় ৫০০ জনকে, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া পারোস, আন্দ্রোস এবং ক্যালিম্নোস দ্বীপেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সংকটে শুধু গ্রিসই নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ এবং প্রবল বাতাস দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস আজ সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, আমাদের দেশের জন্য এই দিনগুলো অত্যন্ত কঠিন। চরম আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাস, যা অনেক এলাকায় বোফোর্ট স্কেলে ফোর্স ১০ পর্যন্ত পৌঁছেছে, পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস, বেসামরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার এবং সাধারণ নাগরিকদের সহনশীলতার কঠিন পরীক্ষা হচ্ছে এবং এখনও চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করেছি। আরও আধুনিক আকাশ ও স্থল সরঞ্জাম সংগ্রহ, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল নিয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত করা হয়েছে। তবুও এমন সময় আসে, যখন আবহাওয়ার তীব্রতা ও প্রকৃতি মানুষের সব ধরনের পরিকল্পনা এবং সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়।’