বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়ন ও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে।
‘ডেইলি ওয়াদা’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা। মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির ওই নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মহাসচিবকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দল মনোনীত করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডেইলি ওয়াদা বিএনপির আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রায় সবাই জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি একান্তই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। তবে তার পছন্দের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন নেতা নিশ্চিত করেছেন যে ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার (৯ আগস্ট) সকালে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই কাগজপত্র সংগ্রহ করেন।
এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি দলের প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছিল। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, সংসদীয় সমর্থনে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন না ঘটলে দলটির মনোনীত প্রার্থীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেছে; প্রয়োজনে সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মির্জা ফখরুল যদি একমাত্র বৈধ প্রার্থী হন, তবে কোনো সংসদীয় ভোটের প্রয়োজন হবে না এবং তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যেতে পারে।
এর আগে, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক।