প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১০ পিএম (ভিজিট : ১৫৫)

X
রকেটের ধাক্কায় চাঁদে গর্ত
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অন্ধকার মহাকাশে একা একা ভেসে থাকার পর, অবশেষে সেই অবধারিত পরিণতিই ঘটলো। প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের একটি বিশাল ফ্যালকন-৯ রকেটের অবশিষ্টাংশ অতর্কিতভাবে আছড়ে পড়েছে চাঁদের বুকে!
প্রায় চার টন ওজনের এই বিশালাকার ধাতব অংশটি যখন ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল দূরন্ত গতিতে চাঁদের পিঠে আঘাত হানলে বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে। বিজ্ঞানীদের মতে এটির ধ্বংসক্ষমতা ছিল প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান। এই তীব্র ধাক্কায় চাঁদের অমসৃণ শরীরে তৈরি হয়েছে এক নতুন গভীর ক্ষত, তৈরি হয়েছে এক অচেনা গর্ত!
এই চাঞ্চল্যকর মহাজাগতিক সংঘর্ষের ঠিক আগের এবং পরের দুর্লভ ছবিগুলো এখন প্রকাশ্যে এসেছে। যা দেখে পুরো বিজ্ঞান বিশ্ব হতবাক। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ মহাকাশযান ‘দনুরি’ চাঁদের কক্ষপথ থেকে নিখুঁতভাবে ধারণ করেছে আঘাতের পর তৈরি হওয়া সেই গর্তের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন। শুধু দনুরিই নয় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিখ্যাত ‘লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার’ থেকেও আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়ার জন্য দম বন্ধ করে অপেক্ষা করছেন বিজ্ঞানীরা।
মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুটি চন্দ্রযানকে মহাকাশে সফলভাবে পাঠানোর পর, ফ্যালকন-৯ রকেটের নিচের অংশটি পৃথিবীতে সুরক্ষিতভাবে ফিরে এলেও চার টন ওজনের এই বিশাল ওপরের অংশটি অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকা পড়ে মহাকাশের শূন্যতায়। এরপর সূর্যের প্রখর তেজ আর মহাকর্ষীয় বলের অমোঘ টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি অন্ধের মতো ছুটতে থাকে চাঁদের দিকে এবং শেষ পর্যন্ত ঘটে এই রুক্ষ সংঘর্ষ।
তবে মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, চাঁদের গায়ে এই সামান্য একটা গর্ত তৈরি হওয়াটা মূল ভয়ের বিষয় নয়; প্রকৃত বিপদ লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়! পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা হাজার হাজার টন বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক মহাকাশ-আবর্জনা নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে তীব্র শঙ্কা। এই ধ্বংসাবশেষগুলো এতই প্রচণ্ড গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছুর সাথে ধাক্কা লাগলে এক প্রলয়ঙ্করী শক্তির সৃষ্টি হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট ব্র্যাড টাকার ইতোমধ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই মহাকাশ-আবর্জনা নিচে খসে পড়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চাঁদের পিঠে রকেটের এই তীব্র আছাড় খাওয়া কেবল একটি নতুন গর্তের জন্ম দেয়নি বরং এটি গোটা মানবজাতিকে এক বিরাট সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।