
X
২০ তারিখ হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ২০ তারিখ বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীর নাম লিখে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুত করে তা প্রকাশ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিসহ নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চিফ হুইপ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, বাছাই করা এবং প্রত্যাহারের একটা তারিখ আছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। প্রত্যাহারেরও শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। এরপর আমরা নির্বাচন করবো।”
তিনি বলেন, “আমাদের বিএনপি দলীয় প্রার্থী আমরা এখনও চূড়ান্ত করিনি। প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং আমাদের দল থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।”
বিরোধী দল থেকেও একজন প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আজকে আমরা বসেছিলাম। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, আমরা, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারের সভাপতিত্বে বৈঠক করেছি।”
ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে চিফ হুইপ বলেন, “বিকাল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নির্বাচন হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের আসন নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন। ভোটের ব্যালটে প্রার্থীর নামের সামনে ভোট দিতে হবে। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকার মহোদয় ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে। ভোটগ্রহণ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুতের সময়ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।”
চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনের ভেতরেই ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। ভোটের জন্য বুথ থাকবে। সংসদ সদস্যরা সেখানে গিয়ে ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, “মোট ৩৪৯টি ভোট আছে। যদি দেখা যায় এক ঘণ্টার মধ্যেই ভোট হয়ে গেছে, তাহলে এক ঘণ্টা পর ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। আর যদি কোনও ভোট বাকি থাকে, তাহলে বিকাল ৫টার পর ভোট শেষ করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এখানে আজকে কর্মকর্তা থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা থাকবেন। কমিশন থেকে কোনও কমিশনার এলে তিনিও থাকবেন। অন্যান্য কর্মকর্তারাও থাকবেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবেন।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “একটা বৈঠক ডাকা হবে। বৈঠকটি নির্বাচন কমিশন ডাকবে। সংবিধান যেহেতু ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর।”
দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিএনপির সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “নিজ দলের পছন্দের প্রার্থীর বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন, তখন আমরা সবাই একসঙ্গে যাবো। যেদিন নির্বাচন হবে, সেদিন মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও আমরা সবাই একসঙ্গে থাকবো।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকার দলের অবস্থান জানতে চাইলে চিফ হুইপ বলেন, “আপনারা জানেন, আমাদের বিরোধী দলের যে ১১ দলীয় জোট, তাদের পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এর আগে প্রায় ৩৫ বছরের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। দেশের মানুষকে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানাতে চাই।”
চিফ হুইপ আরও বলেন, “আমাদের যিনি প্রার্থী, তাকে আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে করছি। এটা আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়া।”