প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৭৮)

X
প্রতীকী ছবি
আখেরি চাহর শোম্বা’ মূলত আরবি ও ফারসি ভাষার সমন্বয়ে গঠিত একটি শব্দগুচ্ছ। ‘আখেরি’ শব্দের অর্থ ‘শেষ’, আর ফারসি ‘চাহর শোম্বা’ অর্থ ‘বুধবার’। ফলে ‘আখেরি চাহর শোম্বা’র আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়—সফর মাসের শেষ বুধবার।
মুসলিম সমাজে দিনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। অনেক মুসলিম এই দিনটিকে আনন্দ ও খুশির দিন হিসেবে পালন করে থাকেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের কারণে বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে বিশেষ দোয়া, ইবাদত ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রসূলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র জীবনের প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজ আর সমস্ত আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, গতি-বিধি, পদক্ষেপ, সময়-ক্ষণ তথা সমগ্র জীবনই উত্তম আদর্শের অনুপম নিদর্শন। যা কোরআন শরীফে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে।
তবে মক্কায় তার নবুওয়্যাত- রেসালত জীবনের ১৩টি বছরই তাঁকে মক্কার কাফের কোরাইশদের নানামুখী নির্মম নির্যাতন নীরবে সহ্য করতে হয়েছে। হিজরতের পর মদীনায় আগমনের পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদী-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হন।
মক্কার কাফেররা তাকে, মদীনার ইহুদী মোনাফেকদের যোগ সাজশে স্বস্তিতে-শান্তিতে থাকতে দেয়নি এবং তারা সর্বদা আগ্রাসী ষড়যন্ত্র লিপ্ত থাকে এমনকি বহু রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করে এবং সর্বক্ষেত্রেই ওরা শোচনীয় পরাজয় করে।
ঐতিহাসিক সত্য এই যে, ওরা মহানবী (সা.) এর প্রাণনাশের পর্যন্ত অপচেষ্টা চালাতে থাকে। মোনাফেক ইহুদী চক্র বিধর্মীরা মর্মে মর্মে অনুভব করতে পারে যে, ইসলামের বিজয়কে প্রতিহত করা সম্ভব নয়।
অবশেষে রসুলুল্লাহ (সা.) এর অসুস্থ হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইহুদী ও মোনাফেকদের আনন্দের সীমা রইল না, অপর দিকে মুসলমানদের দুঃশ্চিন্তাও বেড়ে যেতে থাকে, তারা দারুণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, হুজুর (সা.) এর চিরবিদায়ের আশঙ্কায়।
তাদের চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে হঠাৎ সাময়িকভাবে তিনি আরোগ্য লাভ করার সংবাদে সাহাবায়েকরামের মাঝে যে বিপুল আনন্দ-উল্লাসের সঞ্চার হয়, তা এক অভূতপূর্ব ঘটনা।
মহানবী (স.) এর সুস্থতার খবরে সাহাবিরা উচ্ছ্বসিত হয়ে অনেক দান-খয়রাত করেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। এ দিনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে ইবাদত ও উৎসব প্রচলিত তাই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’।
মুসলিম বিশ্বে ‘আখেরী চাহার শোম্বা’ ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন।
প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী, ‘আখেরী চাহার শোম্বা’কে অনেকেই ‘শুকরিয়া দিবস’ হিসেবে পালন করেন। এ উপলক্ষে অনেকে গোসল করে দুই রাকাত শুকরানা নফল নামাজ আদায় করেন এবং সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাতেরও আয়োজন করা হয়।
এ দিন বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার ও খানকাহে ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনেকে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।