রাষ্ট্রপতি হলে ফখরুলের আসন ও মহাসচিব পদে কে? বিএনপিতে নতুন সমীকরণ

বুলেটিন ডেস্ক

রাজনীতি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে

2026-08-12T12:35:46+00:00
2026-08-12T12:35:46+00:00
বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬
   
রাষ্ট্রপতি হলে ফখরুলের আসন ও মহাসচিব পদে কে? বিএনপিতে নতুন সমীকরণ
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৪)
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
X

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার আলোচনা জোরালো হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দলটির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় মহাসচিব পদটি নিয়ে দলের ভেতরে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং তার নির্বাচনি আসনে উপনির্বাচনের বিষয়টিও সামনে আসছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। রোববার থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় এবার জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। 

১৯৯১ সালের পর দেশে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোবারই ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী থাকায় ঐ প্রার্থীই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম বিবেচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, পরে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব। এখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। এ দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল ১১১টি মামলা। কারাগারে যেতে হয়েছে ১১ বার। প্রায় সাড়ে তিন বছর বন্দি ছিলেন। এসব বিবেচনায় জোর আলোচনায় রয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নাম।

গত ১ আগস্ট গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক হয়। সেখানে দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৩ আগস্ট। ইতিমধ্যেই গত রোববার বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন। তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে বিএনপির সামনে নতুন করে মহাসচিব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হবে। এ পদে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরায় তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।

তবে মহাসচিব পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড গুরুত্বপূর্ণ এ পদে স্থায়ী কমিটির কোনো নেতাকেই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির কমিটির বেশিরভাগ সদস্য চান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই কেউ হোক। রুহুল কবির রিজভীর পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে স্থায়ী কমিটিতে। রিজভীকে দুয়েকজন পল্টনের নেতা মনে করেন। গুলশান কার্যালয়ে তার কার্যপরিধি কম বলে তাদের দাবি।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই কাজ করছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই এখনও দলের নেতাকর্মীদের পাশে আছি।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে দলে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। দল দায়িত্ব দিলে তখন বলা যাবে, চিন্তা করব।’

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সংক্রান্ত জটিলতা : 
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামে কোনো স্থায়ী বা সুনির্দিষ্ট পদ নেই। তবে মহাসচিবের অনুপস্থিতি, অসুস্থতা কিংবা পদ শূন্য হলে বিশেষ সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে দলের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিতে পারেন।

দলের গঠনতন্ত্রে মহাসচিবের কার্যাবলি ও ক্ষমতা সম্পর্কে আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট বা বিস্তারিত কোনো ধারা উল্লেখ নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান বা প্রধানের সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনাই মহাসচিব পদের মূল পরিচালিকা শক্তি। গঠনতন্ত্রে দলের মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দলের চেয়ারম্যানের হাতে মহাসচিব নিয়োগ, পদায়ন বা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ সাংগঠনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা পরিবারের হাল ধরবেন কে: 
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮-৭৯ সালে ভূমিমন্ত্রী, ১৯৭৯-৮২ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং এর আগে বাবার নির্বাচনী প্রচারণায়ও সক্রিয় ছিলেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তিনি এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।





Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy