
X
ছবি : প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন। তিনি বলেন, জবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ইতিহাস সংরক্ষণের সময় তাঁদের এই ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় উপাচার্য এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা ছিল না। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে একদফা দাবিতে তা আরও বিস্তৃত হয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি বা বিকৃতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ প্রামাণ্যভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আন্দোলনে বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তথ্য ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জবি উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি তৈরির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই তাঁদের অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ও তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা ও পড়াশোনার পরিবেশের সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে পড়াশোনা করতে হয়। বিশেষ করে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে অবস্থান করেন।
লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লাইব্রেরির সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। একই সঙ্গে লাইব্রেরির পরিসর সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।
লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যাগ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত সেলফ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান উপাচার্য। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের ধীরগতির কারণে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নিয়েও বক্তব্য দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রকল্পটির প্রকৃত অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে, সে বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেসব উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোও নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে বিকল্প লাইব্রেরি তৈরির বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। তবে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর বিস্তারিত প্রকাশ করতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান উপাচার্য। এ ক্ষেত্রে ‘টিম জগন্নাথ’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তির রাজনৈতিক বা আদর্শগত অবস্থান ভিন্ন হতে পারে; তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে।
শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, যথাসময়ে পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান উপাচার্য। দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
নিজের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রসঙ্গে উপাচার্য জানান, তিনি প্রতিদিনের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। প্রয়োজন হলে রাত পর্যন্ত অফিসে থেকে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সত্য ও যৌক্তিক বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানান উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শনিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার দাবির বিষয়েও বক্তব্য দেন উপাচার্য। জনবল সংকট থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার কথা বিবেচনা করে শনিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।এ বিষয়ে লাইব্রেরি সম্পাদককে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বলেন, আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।