প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম (ভিজিট : ১)

X
২২৮ রানের লিডে টাইগাররা, ডারউইনে অজি-বধের অপেক্ষা
একদিকে বাংলাদেশের ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে পতন হয়েছে চার উইকেটের। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের সমীকরণ এখন বাংলাদেশের পক্ষেই। জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই উজ্জ্বল হচ্ছে টাইগারদের সামনে, বিপরীতে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ চার উইকেটে ১৬১ রান। ফলে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। শেষ দুই দিনে এই ঘাটতি পেরিয়ে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও এখন পর্যন্ত ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন হাসান। বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড টপকে যাওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও পরিষ্কার; লিডের ঘাটতি পেরোনোর আগেই স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়া।
সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্টে চতুর্থ দিনটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় এক অধ্যায় লেখার দিন হয়ে উঠতে পারে।