প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪২ এএম (ভিজিট : ৪)

X
রাশেদ খান
ফ্যাসিবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, তখন গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছে।
রোববার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালে যে দলকে মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখা যেত, ক্ষমতার কাছাকাছি এসে জামায়াত সেই আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্যই অর্জন করেছে।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, জামায়াত-শিবির পুরোপুরি জালিম সংগঠনে পরিণতি হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করে আজকে আবার দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিয়েছে জামায়াত-শিবির। অতীতে আমরা বিরোধীদলকে সবসময় মজলুম ও বিনয়ী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু প্রধান বিরোধীদল হয়েই আওয়ামী লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত। এরা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে ভিন্নমতকে ন্যূনতম স্পেস দেবে না।’
গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লিখেছেন, ‘গণঅধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে ধন্যবাদ জানাই যে, তারা গণঅধিকার পরিষদকে যারা জামায়াতমুখী করতে চেয়েছিল, সেসব নেতাদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে। জামায়াত-শিবির কতটা ভয়ংকর এখন অন্তত গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বুঝতে পেরেছে এবং এর প্রেক্ষিতে সারাদেশে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানাই। আশা করি, গণঅধিকার পরিষদের আর কেউ টকশো কিংবা বক্তব্যে আর কখনো জামায়াতি বয়ানে বক্তব্য দেবে না।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। বলেন, ‘দল হিসেবে জামায়াত ও তাদের সেক্রেটারি জেনারেল গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে আজকে যে জঘন্য বক্তব্য দিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
স্ট্যাটাসের শেষ দিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ফ্যাসিবাদের পতনে দল হিসেবে জামায়াতের তুলনায় গণঅধিকার পরিষদের অবদান বেশি। জামায়াত যখন গুপ্ত ছিল, গণঅধিকার পরিষদ তখন রাজপথে ছিল। কিন্তু আজকে তাদের আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে, তারাই সব করেছে! কিন্তু ইতিহাস তো বদলানো যায় না।’