
X
সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বসতঘর থেকে এক গৃহবধূ ও এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার বোয়ালিয়া ও রতনদিয়া ইউনিয়নে এ দুটি ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের পান্নু কাজীর স্ত্রী মিম খাতুন (২০) এবং রতনদিয়া ইউনিয়নের রূপসা গ্রামের মো. হানিফের ছেলে মো. রাতুল (১৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হাতখরচের জন্য স্বামী পান্নু কাজীর কাছে টাকা চান মিম খাতুন। টাকা দিতে না পারায় এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে পান্নু কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
দুপুর দেড়টার দিকে মিমের শাশুড়ি জরিনা বেগম জোহরের নামাজের জন্য তাকে ডাকতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে স্বজনরা এসে দরজা খুলে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মিমকে দেখতে পান।
খবর পেয়ে কালুখালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে রতনদিয়া ইউনিয়নের রূপসা গ্রামে রাতুল (১৪) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতুলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার মা মারা যান। পরে তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এরপর থেকে রাতুল তার নানি নাজমা বেগমের কাছে নানাবাড়িতে লালন-পালন হয়ে আসছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিল।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে রাতুল তার নানির কাছে ৫০০ টাকা চায়। নানি তাকে মামার কাছ থেকে টাকা নিতে বলেন। এরপর কোনো কথা না বলে রাতুল নিজের শোবার ঘরে চলে যায়।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নানি নাজমা বেগম ঘরে গিয়ে রাতুলকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে পুরোনো ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
পরে কালুখালী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, “পৃথক দুটি ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পৃথক দুটি ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”