
X
সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাশের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় রেকর্ড ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে, যা বোর্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মনে হচ্ছে, সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে চায়। জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও খাতার পুনর্মূল্যায়ন করাতে চাইছে। কারণ নম্বর ভবিষ্যতে পড়ালেখায় মূল্য যোগ করে। এই বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এখন প্রশ্ন কি করবে বোর্ড?
এ কারণে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবে, সেই বিষয়টি নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার বনানীতে শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’- অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জানা গেছে, এযাবত্কাল পুনর্নিরীক্ষার ক্ষেত্রে মাত্র চারটি বিষয় দেখা হলো। এগুলো হলো, সব প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বরগুলোর যোগফল ঠিক আছে কি না, খাতার ভেতরের নম্বর মূল কভার বা ওএমআর শিটে ঠিকভাবে তোলা হয়েছে কি না এবং ওএমআর শিটে নম্বর অনুযায়ী বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করা হয়েছে কি না।
এই চারটি পর্যায়ে কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশোধন করে নতুন ফল প্রকাশ করা হয়। খাতাকে কখনোই পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়নি। নতুন পদ্ধতিতে এবার পুনর্নিরীক্ষার পুরো খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনরায় নতুন করে যাচাই বা মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গতকাল বিকালে বলেন, এখন পর্যন্ত এসএসসির ১৩ লাখের বেশি খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। গতকাল রাত ১২টায় আবেদনের সময় শেষ হবে।
গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদনপত্র অনলাইনে গ্রহণ করা হয়। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে ভুল নম্বর দেওয়া হলে বা প্রাপ্য নম্বর না দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
এজন্য রিভিউ কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেছিলেন, আগে রিভিউয়ের ক্ষেত্রে মূলত ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো। শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় দেখে শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। এবার আইনগতভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।