প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ পিএম (ভিজিট : ১)

X
লক্ষ্মণন মেইয়াপ্পান
যে বয়সে অধিকাংশ কিশোর-কিশোরী ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে ভাবতে শুরু করে, সেই বয়সেই পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লক্ষ্মণন মেইয়াপ্পান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মাত্র ১৬ বছর ১৪১ দিন বয়সে দুবাইয়ে এই রেকর্ড অর্জন করেন তিনি।
মেইয়াপ্পানের ফাইন্যান্স জগতে পথচলা শুরু হয় কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শেষ করার পর তিনি আর্থিক খাত নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (ACCA) যোগ্যতা অর্জনের জন্য পড়াশোনা শুরু করেন। প্রায় এক বছরের মধ্যেই তিনি এই যোগ্যতা সম্পন্ন করেন।
এরপর থেকে মেয়াপ্পান তার শিক্ষাগত ও পেশাগত প্রোফাইল গড়ে তুলতে থাকেন। তিনি সিএফএ চার্টার অর্জন করেন এবং বর্তমানে ফাইন্যান্সে এমএসসি করছেন। তিনি এখন দুবাইয়ের সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালে সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন, যেখানে তার কাজের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ, গবেষণা ও বিশ্লেষণ ও আর্থিক বাজারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
মহামারির সময় মেয়াপ্পানের অ্যাকাউন্টিংয়ের প্রতি প্রাথমিক আগ্রহ তৈরি হয়। পিডব্লিউসি একাডেমির আগের একটি প্রোফাইলে বলা হয়েছিল যে, তার মা কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় তাকে অ্যাকাউন্টিং-এর প্রাথমিক ধারণাগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মেয়াপ্পানের মা নিজেও একজন এসিসিএ। এরপর মেয়াপ্পান নিজেও এই যোগ্যতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
এত অল্প বয়সে এসিসিএ সম্পন্ন করাই তার শিক্ষাজীবনের শেষ ছিল না। এরপর তিনি সিএফএ যোগ্যতা অর্জন করেন এবং বর্তমানে অর্থায়নে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
পড়াশোনা ও ফাইন্যান্সের বাইরেও তার আগ্রহ রয়েছে। মেয়াপ্পান তার অবসর সময়ের কিছু অংশ ঘড়ি ডিজাইন ও তৈরি করে কাটান।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মেয়াপ্পান বলেন, ‘এই মাইলফলকটি আমার কাছে অনেক অর্থবহ, কিন্তু আমি যোগ্যতা অর্জনকে কখনো প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখিনি। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাস্তব জগতে ফাইন্যান্স কীভাবে কাজ করে তা বোঝা এবং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সময়ের সাথে সাথে প্রাসঙ্গিক থাকে। যখন শেখার চালিকাশক্তি হয় কৌতূহল, তখন তার ফলাফল অনেক বেশি অর্থবহ হয়।’