প্রকাশ: শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৪৩ এএম (ভিজিট : ৩০৯)

X
প্রবাসীর সঙ্গে পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তারপর প্রেম। পরে ২০২১ সালের ১৪ ফেরুয়ারি দু পক্ষের সম্মতিতে চট্টগ্রাম আদালতে দুবাই প্রবাসীকে ভিডিও কলে বিয়ে করেন জেসমিন আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। বছর না ঘুরতেই স্বামীর স্বজনদের বিরুদ্ধে তাকে সাত তলা বাড়ির ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ করেছেন জেসমিনের পরিবার।
গত শনিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নিহতের মা ওয়াছ খাতুন। ফটিকছড়ির বিবিরহাটস্থ মোমিন টাওয়ারের সাত তলার ছাদ থেকে শ্বশুরপক্ষের লোক তার মেয়ে জেসমিনকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহতের পরিবারের সদস্য আব্দুর রহিম, মুহাম্মদ রানা ও মোছাম্মৎ রীমা।
জেসমিন ফটিকছড়ি উপজেলার পশ্চিম সুন্দরপুরের কান্দির পাড় এলাকার চিকন মিয়া মিস্ত্রী বাড়ির আব্দুর রহিমের মেয়ে।
নিহতের মা ওয়াছ খাতুন জানান, ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার দৌলতপুরের হাফেজ চৌধুরী বাড়ির নুরুল আলমের দুবাই প্রবাসী ছেলে আরফাতের সঙ্গে মোবাইলে জেসমিনের পরিচয় হয়। তার সূত্র ধরে তাদের প্রেম। পরে ২০২১ সালের ১৪ ফেরুয়ারি চট্টগ্রাম আদালতে এক আইনজীবীর চেম্বারে আরফাতের সঙ্গে ভিডিও কলে ভার্চুয়ালি আক্দ হয়। এরপর শ্বশুরপক্ষের লোকজন জেসমিনকে বিবিরহাটস্থ মোমিন টাওয়ারের বাসায় নিয়ে যায়।
জেসমিনের বাবা-মা বিষয়টি জানতে পেরে আরফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মোহরানা ধার্য করে নিকাহনামা রেজিস্ট্রি করতে রাজি হয়। পরে শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। এক সময় জেসমিনকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর শাশুড়ি নাহারু বেগম বাবার বাড়ি থেকে জেসমিনকে বিবিরহাটস্থ বাসায় নিয়ে যান। ২০২১ সালের ১৮ মে দুপুরে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পারস্পরিক যোগসাজশে জেসমিনকে বাসার ছাদে তুলে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় মামলা হলে থানা পুলিশের পর এখন বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রদান করেছেন।