প্রকাশ: রোববার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২, ১০:৫৬ এএম আপডেট: ৩০.০১.২০২২ ১০:৫৯ এএম (ভিজিট : ৪১৯)

X
একজন 'ব্যালে বালিকা'র ব্যালে নৃত্যের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুরো নাম মোবাশ্বিরা কামাল ইরা হলেও এখন সবাই তাকে চেনেন ‘ব্যালে বালিকা’ হিসেবেই। শুধু দেশে নয় তার কীর্তি ছড়িয়ে গেছে বিদেশ বিভূঁইয়েও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরসহ বিভিন্ন স্হানে তার ব্যালে নৃত্যকলা দারুণ মুগ্ধতায় ডুবিয়েছে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমী এমনকি সাধারণ মানুষদেরও। শুধু তাই নয়, তিনি এখন ওঠে এসেছেন গনমাধ্যমের শিরোনামেও। তার প্রতি মুগ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষ তাকে নানা উপাধি উপাধি দিচ্ছেন। যেমনঃ উচ্ছল মুক্ত বিহঙ্গ বা বাংলার উড়ন্ত মানবী অথবা আগুন ডানার পাখি ইত্যাদি।
আবার কেউ তার নৃত্যের প্রকাশভঙ্গিকে বিবেচনা করছেন ‘নারীমুক্তির অভিব্যক্তি’ হিসেবে। যে কলা-কৌশলে ছবিতে পোজ দেওয়া হয়েছে, সেটি নাচের একটি নতুন ধরন। ব্যালে ও জিমন্যাস্টিকসের সমন্বয়ে নাচের এ ফর্ম। এখানে নাচের সঙ্গে অভিনয় এবং সংগীতের অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যকার্ড ও পোস্টার থাকায় অনেকে এমন নান্দনিক প্রকাশকে ‘সংকট থেকে মুক্তির প্রতীক’ও বলছেন। কেউ কেউ আবার ছবির ক্যাপশনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পঙ্ক্তিও জুড়ে দিচ্ছেন।
ইরার বাড়ি নওগাঁ শহরের জগসিংহপুর মহল্লার বটতলা মোড়ে। আবু হায়াৎ মোহাম্মদ কামাল ও ফাহমিদা আক্তার দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে মোবাশ্বিরা কামাল ইরা তৃতীয়। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। নওগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে বাণিজ্য শাখায় পড়ছেন ইরা। ২০২০ সালে নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শৈশব থেকেই ইরা ছিলেন অদম্য মেধাবী ও চঞ্চল প্রকৃতির। ইরার বেড়ে ওঠা নওগাঁ শহরেই। বরাবরই নাচ করতে ভালোবাসেন। শৈশবে শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছেন। পরে ঢাকায় ভরতনাট্যম শেখেন। তবে ব্যালে নৃত্যের ভাবনা মনে আসে ২০২০ সালের লকডাউনের সময়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিখতে শুরু করেন ব্যালে। এজন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। ২০২১ সালে সাধনা নামে একটি নাচের সংগঠনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন ইরা।
হঠাৎই একদিন পরিচয় হয় ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জয়িতা আফরিনের সঙ্গে। তিনি থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। গত ২০-২২ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নৃত্য উত্সবে যোগ দিতে এসে জয়িতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইরা। দুজনে ফটোগ্রাফির আলাদা একটা অর্থ তৈরির চিন্তা করছিলেন। ২৩ জানুয়ারি সকালে দুজনে বেরিয়ে পড়েন। এমন সময় চোখে পড়ে রাজু ভাস্কর্যের পাশে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড-পোস্টার। সেখানে কয়েকটি ফটোশুট করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হয় ছবিগুলো। সে ছবিই ছড়াতে ছড়াতে এখন সবার মুখে মুখে ইরার নাম।
মোবাশ্বিরা কামাল ইরা বলেন, 'পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছি। ২০২০ সালে এসএসসি পাশ করলাম। সে সময় ভারতে গিয়ে শাস্ত্রীয় নৃত্য ও ভরত নাট্যমের ওপর কিছু শেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন ঘোষণা হলে মন খারাপ হয়ে যায়। তখন ভাবলাম আমার দ্বারা কিছু হবে না বা কিছুই করতে পারব না। তখন মা পরামর্শ দিলেন ইউটিউব দেখে ঘরে বসে নাচ করতে। বলা যায়, ইন্টারনেট দেখেই ‘ব্যালে’ শেখা। সবসময় ইচ্ছা ছিল নতুন কিছু শেখার। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যালে করে এমন শিল্পী খুবই কম আছেন। ছবিগুলো ভাইরাল হবে, এমন কোনো চিন্তা মাথায় ছিল না। আমার মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মিডিয়া সাক্ষাত্কার নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করে। সবাই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন। এটা আমার কাছে বড় একটা প্রাপ্তি, সামনে পথচলার বড় অনুপ্রেরণা।'
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুকে আপলোড করেন 'ব্যালে নৃত্যে'র তালে ও ছন্দে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি। মুহুর্তেই সেগুলো দেশ-বিদেশের সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেই থেকে তাকে সবাই 'ব্যালে বালিকা' বলে সম্মোধণ করতে থাকেন সবাই। ইরার এই ছবিগুলো তুলেছেন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জয়িতা আফরিন।