
X
গুচ্ছভুক্ত ২২ টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের বানিজ্য বিভাগে ('সি' ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার দুপুর ১২ থেকে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতি আসনের জন্য লড়বেন ১৪ জন শিক্ষার্থী।
আজ (২০ আগস্ট) সারাদেশে ২৫ টি কেন্দ্রে ও উপকেন্দ্রে বাণিজ্য বিভাগের মোট ৩ হাজার ৭০টি আসনের বিপরীতে ৪২ হাজার ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিবেন। পরিক্ষা শুরু হবে দুপুর ১২ থেকে শেষ হবে বেলা ১ টায়।
এরই মধ্যে কেন্দ্রেগুলোতে পরীক্ষা নেয়ার সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার।
উপাচার্য ড. নাছিম আখতার বলেন, ১৯ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের আওতায় কিছু উপকেন্দ্র মিলে মোট ২৫ কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। কুমিল্লা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইটি করে উপকেন্দ্র রয়েছে। পরীক্ষার আসন-বিন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে সকল কেন্দ্রে প্রশ্নপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সকল কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় সর্বমোট ১৮ হাজার ৫২৫ জন পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১২ হাজার ২৫ জন। এ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাইরের দুটি উপকেন্দ্র রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ৩ হাজার ৫০ জন, উইস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে ৩ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এ দুই কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা হবে।
এরই মাঝে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা যেন সহজেই নিজেদের আসন খুঁজে পান, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ডিজিটাল ব্যানারে রোল নম্বর, কেন্দ্র এবং ভবন নির্দেশক বসানো হয়েছে। পূর্বের ইউনিটের পরীক্ষার মতো শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ফটক ও পোগোজ স্কুলের ফটকসহ মোট চারটি ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষা আয়োজন কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক কাজ করবে। এছাড়াও পরীক্ষার্থীদের আইটি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র কিংবা কেউ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ব্যাপারে সন্দেহ হলে সাথে সাথে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যাবে। এই টিমের দায়িত্বে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলের সহযোগী পরিচালক ড. মো. জুলফিকার মাহমুদ।
গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। এতে মোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। পাশ নম্বর হবে ৩০। তবে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদা কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না।
এদিকে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সারাদেশের ২৯ কেন্দ্রে একযোগে গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (২০ আগস্ট) বাণিজ্য অনুষদভুক্ত 'সি' ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে।
-বাবু/শোভা