প্রকাশ: শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:০৬ পিএম আপডেট: ২৪.০৯.২০২২ ৪:০৮ পিএম (ভিজিট : ২৬৫)

X
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী আবাস্থল ''বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব'' হলে অগ্নি নির্বাপণ মহড়া এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকের আমন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই মহড়া চালানো হয়।
এসময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঢাকা জোন-১ এর কমান্ডার মো. বজলুল রশিদের নেতৃত্বে হলের শিক্ষার্থীদের সরাসরি, ভার্চুয়ালি এবং পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অগ্নি নির্বাণন বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগুন নির্বাপণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের অগ্নিকান্ডের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বাস্তব জ্ঞানসহ আগুনের নানা দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অগ্নি নির্বাপনের জন্য সহজ কিছু কৌশল শিখানো হয়েছে। এছাড়াও অগ্নি নির্বাপণ মহড়ায় তারা সরাসরি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন নিভানোর কৌশলটি শিখিয়ে দেন শিক্ষার্থীদের।
এ সময় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হলের ৩০০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে অগ্নি নির্বাপণ প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং স্লাইড আকারে বিভিন্ন ছবিসহ আগুন নির্বাপণের তাৎক্ষণিক কৌশলগুলো উপস্থাপন করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের আগুন নির্বাপণের বাস্তব কিছু অবিজ্ঞতাসহ আগুন লাগলে কিভাবে শিক্ষার্থীরা দিশেহারা না হয়ে স্থির থেকে আগুন নির্বাপণ করবে সে বিষয়ে আমরা সম্মুখ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছি। সদরঘাট শাখার সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সায়েম বলেন, আমরা হলের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছি কিন্তু কোথায় আমরা জরুরি বহির্গমনের কোনো ব্যবস্থা দেখেনি। এতবড় একটা ভবনে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকবে বলে মনে করি।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক বজলুর রশিদ বলেন, প্রত্যেকের বাসাবাড়িতে একটা ফায়ার স্ট্রিং থাকা উচিত এবং আমাদের বাসা বাড়ির বিদ্যুৎতের বোর্ডগুলো বছরে দু'বার চেক করার করতে হবে একজন ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে। তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের অসাবধানতা। আমরা যদি নিজেরা সচেতন হতে পারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে অতি সহজে আগুন নির্বাপণ করা যাবে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবি) মান অনুযায়ী প্রত্যেকটা বিল্ডিং এ কমপক্ষে ৫ ফুট চওড়া রাস্তা থাকা বাধ্যতামূলক।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জন্য এ মহড়ার আয়োজন করেছি। আগামীতে আরও এরকম আয়োজন করব যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা অগ্নি নির্বাপনণ নিজেরা অংশগ্রহণ করতে পারে। মহড়ায় হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল সহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ছাত্রী হলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ছাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়।
বাবু/জাহিদ