বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছেই

আনোয়ার বারী পিন্টু

রাজনীতি

প্রায় দুই যুগের বেশী সময় ধরে থাকা রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। দুই

2022-10-02T15:47:03+00:00
2022-10-02T15:59:52+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দ্বিতীয় দফা সংলাপেও নেই জামায়াতের নাম
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ছেই
আনোয়ার বারী পিন্টু
প্রকাশ: রোববার, ২ অক্টোবর, ২০২২, ৩:৪৭ পিএম  আপডেট: ০২.১০.২০২২ ৩:৫৯ পিএম  (ভিজিট : ২৮৩)
X

প্রায় দুই যুগের বেশী সময় ধরে থাকা রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। দুই দলের আগামীর অবস্থান কী হবে এ নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে আলাচনা ও নানা গুঞ্জন ডাল পালা মেলছে ঠিক তখনিই বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের এক সদস্যের বক্তব্যের রেশ ধরে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে। এছাড়াও আজ থেকে বিএনপির দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু হচ্ছে। বিএনপির এই সংলাপেও জামায়াতকে রাখা হয়নি। এ অবস্থায় দুই দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কার অবস্থান তুলে না ধরলেও তাদের কথাবার্তায় টের পাওয়া যায় বর্তমান সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। 

আজ রবিবার থেকে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে এটিই হবে শেষ সংলাপ। এই সংলাপের পরই গঠন করা হবে নতুন এই বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের ‘লিঁয়াজো কমিটি’। তবে এই সংলাপেও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জামায়াতে ইসলামিকে রাখা হচ্ছে না। সরকারবিরোধী বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলতি বছরের ২৪ মে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম সংলাপ শুরু করে বিএনপি। প্রথম দফার ওই সংলাপে ২৩টি দল অংশ নেয়। তখনও জামায়াতে ইসলামীকে সংলাপে ডাকা হয়নি। 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাবনা এসেছিল- সেগুলোর সঙ্গে দল সরকারে গেলে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনের আগে কোন কোন ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন করা হবে- সেগুলো নিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনার জন্য লিখিত একটি এজেন্ডা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচন-পরবর্তী জাতীয় সরকার, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও প্রশাসন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা রক্ষায় কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার কী ধরনের হবে, তার কাঠামো কী হতে পারে- এ বিষয়গুলোও রয়েছে। দ্বিতীয় দফার সংলাপে লিখিত এই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আলোচনা করবে বিএনপি। দ্বিতীয় দফার এই সংলাপে যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেই তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর নাম নেই বলে জানা গেছে। 

জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কের অবনতি একেবারেই তলানীতে গড়ায় বিএনপি নেতার এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগে এক সমাবেশে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হলেও দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ না করার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত, আর আপনারা আমাদের বলেন স্বাধীনতাবিরোধী দল। আমিও স্বীকার করলাম। কিন্তু নিবন্ধন বাতিল করলেন, বেআইনি ঘোষণা করলেন না। তার অর্থ আওয়ামী লীগ-জামায়াতের সঙ্গে তলে তলে বন্ধুত্ব করে। সেজন্য বাতিল করে না। তাহলে কি বলব জামায়াত-আওয়ামী লীগের পরকীয়া চলছে? তাই আজকে থেকে আওয়ামী-জামায়াত হবে, বিএনপি-জামায়াত আর হবে না।’

বিএনপি এই নেতার বক্তব্যের পর সম্পর্কের টানাপোড়েনে নতুন করে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার আভাস মেলে জামায়াতে ইসলামী তীব্র প্রতিক্রিয়া থেকে। রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ থেকে বক্তব্য আসার পর দিনই  জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন তা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছে। এটি কোনো রাজনীতিবিদের ভাষা হতে পারে না। তার এ বক্তব্য স্বৈরাচারী শাসনকে প্রলম্বিত করার ক্ষেত্র তৈরি করবে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা কেউই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক নেতার সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই সম্পর্শকাতর। রাজপথে এবং বিভিন্ন দলের সাথে আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তাই এই মুহুর্তে যে কোন কথাবার্তায় সতর্ক থাকা উচিত। জাতায়াতের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে তাদের দলীয় আমির স্পষ্ট করে বলেছেন। এবিষয়ে আমাদের আর কোন বক্তব্য নেই।’ 
 
এর আগে জামায়াতের আমির ঘরোয়া এক অনলাইন বক্তব্যে ‘বিএনপির সাথে সম্পর্ক নেই’ বলে মন্তব্য করার পর রাজনৈতি অঙ্গনে ঝড় ওঠে। বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার, তাদের বিচার শুরু এবং রায় কার্যকরের বিরুদ্ধেই ছিল দলটির মূল আন্দোলন। তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ে জ্বালাওপোড়াও আন্দোলন নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে। এক পর্যায়ে প্রশাসনের চাপে প্রকাশ্যে আন্দোলন করা ছেড়ে দেয় দলটি। জোটসঙ্গী জামায়াতের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের নেতিবাচক ছোঁয়া লাগে বিএনপির গায়েও। এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে জামায়াত নিয়ে অস্বস্তি বাড়ে।

বাবু/জাহিদ







Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy