
X
নেতাকর্মী ও আলেম ওলামাদের মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার রাজধানীতে হেফাজতের ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে হেফাজত। সেগুলো হলো- দ্রুত জেলা উপজেলা কমিটি গঠন, বিভাগীয় শহরে শানে রিসালত সম্মেলন এবং রাজধানীতে জাতীয় শানে রিসালাত সম্মেলন করা।
হেফাজতের সাত দাবি হলো:
১. অবিলম্বে হেফাজত নেতাকর্মী ও আলেম ওলামাদের মুক্তি দিতে হবে।
২. নেতাকর্মীদের নামে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. ইসলাম ও বিশ্বনবীকে (সা.) কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে।
৪. কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।
৫. শিক্ষা কারিকুলামে ধর্মীয় শিক্ষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬. জাতীয় শিক্ষা কমিশনে হাইয়াতুল উলিয়ার প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৭. বিশ্ব ইজতেমায় বিতর্কিত মাওলানা সা’দকে আসার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. ঘোষিত হেফাজতের ১৩ দফা আন্দোলনে ক্ষমতাকেন্দ্রিক কোনও রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. রেখে যাওয়া আমানত এবং আমাদের পূর্বপুরুষ ওলামায়ে দেওবন্দ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছে এবং চলবে। তবে একজন মু'মিনের কাছে তার জানের চেয়েও ঈমান প্রিয়। অতএব দেশের প্রত্যেকটা মুসলমানই হেফাজতের নেতাকর্মী বা সমর্থক। তাই যখনই ঈমান আকিদার বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং হেফাজতের ১৩ দফা বাস্তবায়নে ডাক আসবে; তখন দলমত নির্বিশেষে, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এজন্য সকলের মানসিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।
তিনি বলেন, হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন এবং তাদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে মজলুমদের কান্না বন্ধ করুন। আসুন, আমরা সকলেই আগামীতে কোন জুলুম অত্যাচার, গোনাহ বা অপরাধ না করার প্রতিজ্ঞা করে আল্লাহর কাছে খালেছ নিয়তে তওবা করি।
হেফাজত মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ দেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. দ্বীনি দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য ২০১০ সালে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই হেফাজতের কোনও রাজনৈতিক ভিশন বা মিশন নেই। হেফাজত শাইখুল ইসলামের ১৩ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে পূর্বের ন্যায় নিজেদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ১৩ দফা হেফাজতের ঘোষিত এজেন্ডা। এর বাস্তবায়নের জন্য হেফাজত অতীততেও কাজ করে গেছে, আগামীতেও করবে ইনশা আল্লাহ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর যাবত আমাদের অনেক আলেম-ওলামা বন্দী অবস্থায় কারাগারে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন। তাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের মুখে। আলেম-ওলামাদের কেউ কেউ কারাগারে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থাতেও রয়েছেন। আমরা মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও মাওলানা নাছিরউদ্দীন মুনিরসহ হেফাজতের সকল নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, দিল্লীর মাওলানা সা'দ সাহেবের বাংলাদেশে আসাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। বাংলাদেশের দাওয়াতে তাবলীগের মধ্যে নজিরবিহীন বিভেদ তৈরি হয়েছে। ঘরে ঘরে, মসজিদে মসজিদে ফ্যাসাদ তৈরি হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি এবারও ইজতেমা উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশে আসলে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হবে। শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ নস্যাৎ হয়ে যাবে। তাই আমরা দাবি জানাচ্ছি, মাওলানা সা'দ সাহেবকে কোনভাবেই যেন বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া না হয়। সম্মেলনে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে শানে রেসালত সম্মেলন। রাজধানীতে জাতীয় শানে রেসালাত সম্মেলন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন- আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি মোবারক উল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, মাওলানা আনোয়ারুল করীম যশোরী, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার, মাওলানা মীর ইদরীস নদভী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, মাওলানা মাসুদুল করীম, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহিয়া, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার, মুফতি ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা মুসতাকিম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী প্রমুখ।
বাবু/এসআর