প্রকাশ: রোববার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ৫:০৩ পিএম (ভিজিট : ১৭৫)

X
জীবনটা রূপকথার পরশ নয়। এখানে পা বাড়ালেই সমস্যার পাহাড়। বন্ধুর সেই পথে কখনো সামনে এসে দাঁড়ায় ঘোর দুঃসময়। শঙ্কা শেষে কখনো আবার হেসে উঠে সাফল্যের সূর্য। যাপিত জীবনের চলার পথটা এমনই অচেনা, কাঁটাহীন ফুলে ফুলে সাজানো নয়! লিওনেল মেসিও তো ভিনগ্রহের কেউ নন। তার জীবনটাও এমনই রহস্যে মোড়া।
নিরন্তর অভাবের শিশু বয়সটা পেরিয়ে এসে কতো কিছুই না পেলেন! খ্যাতি, অর্থ, সাফল্য, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুন্দর-সাজানো উপচে উঠা সুখের সংসার। কিন্তু তারপরও যেন চাঁদের কলঙ্কের মতো লেগে আছে কালো দাগ! একটা অপূর্ণতা, একটা দীর্ঘশ্বাস তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। অনেক কিছুই তো নামের পাশে জমা হলো। কিন্তু ওই যে সোনার পরী তার কাছে গিয়েও যে ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না!
২০১৪ সালে নিঃশ্বাস দূরত্বে থেকে অসহায়ের মতো দেখেছেন, সোনার ট্রফি চলে যাচ্ছে আরেকজনের হাতে। জার্মানির বিপক্ষে সেই ফাইনালে হারের পর আরেকটা বিশ্বকাপেও ‘ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছেন ভিতরের রাস-উৎসব!’ আরাধ্য ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা, চুমু আঁকা হয়নি আর! ছবিগুলো চেনা, দৃশ্যগুলো ভক্তদের হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয় প্রতিনিয়ত। গত চার বিশ্বকাপেই ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে বাকশূণ্য এক অসহায় ফুটবলারের অবয়ব! যার সব আছে আবার কিছুই যেন নেই!
২০১৪ সালের বিশ্বকাপটা ছিল মনের মতো। বল পায়ে কারিকুরিতে মুগ্ধ তো করেছিলেনই সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলটাকেও টেনে তুলেছিলেন একা! কিংবদন্তি ডিয়োগো ম্যারাডোনা পাশে পেয়েছিলেন, ক্লাদিও ক্যানেজিয়া আর গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাদের! মেসি একেবারেই দুর্ভাগা, কেউ যেন নেই তার পাশে। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে কিচ্ছু করা হল না! অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোৎজের গোলে সর্বনাশ। সোনার ট্রফিটা চলে গেল জার্মানিতে!
তবে এসব যুক্তি অন্তত রোজারিও এই ফুটবল জাদুকরকে সন্তুষ্ট করতে চাইবে না। অনেক হয়েছে সেই অসহায়, বিধ্বস্ত চেহারার ছবি। এবার ওই সোনার পরীটাই চাই তার। বিশ্বকাপ ট্রফি ছাড়া মেসির জীবনের গল্পটা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে! তেমন একটা গল্প নিশ্চয়ই ফুটবল ইশ্বরও চাইছেন না! আজ রাতেই ফয়সালা, অমরত্বের সন্ধানে জাদুকর লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।
বাবু/জেএম