ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করেও বহাল জবির বিতর্কিত প্রক্টর

জবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অমান্য করে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্বে

2023-01-09T19:27:57+00:00
2023-01-09T19:27:57+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করেও বহাল জবির বিতর্কিত প্রক্টর
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩, ৭:২৭ পিএম   (ভিজিট : ২১৪)
X

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অমান্য করে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্বে বিতর্কিত অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামালকে রাখা হয়েছে। দুই বছরের মেয়াদের জায়গায় সাড়ে তিন বছর অতিক্রম করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে।

এর আগে গত বছরের ২০ মার্চ ইউজিসি থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ বছরের অধিক বয়সের বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অর্থ ও হিসাব পরিচালক, পরিকল্পনা পরিচালকসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক, অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্বের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন/প্রবিধান অনুয়ায়ী স্থায়ী নিয়োগ প্রদান করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা কামালকে ২০১৯ সালের ২৯ মে প্রথম প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালে ২৪ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরদিন পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাকে প্রক্টর হিসেবে অনির্দিষ্টকালের জন্য দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। এরপর দেড় বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও প্রক্টরের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন তিনি। ইউজিসির নির্দেশনাকেও বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দায়িত্বে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে। এছাড়া একই জনকে বার বার না রেখে সবাইকে সুযোগ প্রদানের মত দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও। 

এছাড়া এর আগে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে জবি প্রক্টর মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে। পিএইচডি ডিগ্রী নেবার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় উপস্থিত একাধিক ডিন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোস্তফা কামালের ওই ডিগ্রি দেয়ার বিরোধিতা করেন। তবে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান তার নিজ ক্ষমতাবলে তাকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেন। মোস্তফা কামালকে এই ডিগ্রি প্রদানের আগে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করতে তিন বছরের সময়সীমা ছিল। কিন্তু কম সময়ে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে জালিয়াতির এই সংবাদ ওই সময় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে শুধু প্রক্টরই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দীনের নিযুক্তির মেয়াদও ২০২১ বছরের ২২ জুন শেষ হয়েছে। এরপর সেখানেও নতুন পরিচালক নিযুক্ত না করে ২৩ জুন থেকে আবারও নাসির উদ্দীনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি পরবর্তী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে অতিরিক্ত কাজ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্বে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় অর্থ কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ দিতে হবে সেটিও তার পরামর্শে করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক বলেন, জুনিয়র হয়েও সিনিয়র শিক্ষকদের সম্মান করেন না মোস্তফা কামাল। এছাড়া ক্ষমতায় বসে একে ধরব, ওকে ধরব করেন তিনি। তার মেয়াদ দেড় বছর আগে শেষ। কিন্তু এখনো তিনি বহাল তবিয়তে। এছাড়া এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, যারা মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের স্থানে অন্য শিক্ষকদের সুযোগ করে দেয়া উচিত। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্য মহাদয়কে অনেকবার বলেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন। তারাও যেন সুযোগ পান এটা আমরা শিক্ষক সমিতিও চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড ইমদাদুল হককে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিয়মনীতি মেনেই সব করা হবে। তবে কবে থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি। 

বাবু/জেএম






Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy