প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:৩৫ পিএম (ভিজিট : ৩৩৬)

X
পৃথিবীর চারদিকে যখন স্বার্থের দ্বন্দ্ব, সম্পত্তির জন্য বাবা-মাকে অসম্মান করা হচ্ছে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে যেন প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছে সবাই। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এক সন্তান তার পিতাকে কাঁধে নিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করছেন। খবর তাইয়িবাহ ডটকম।
ভাইরাল হওয়া ওই ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পবিত্র কাবা শরিফের চত্বরে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি আরেক বৃদ্ধকে কাঁধে নিয়ে হেঁটে চলছেন। একই সঙ্গে দুইজনেরই তাওয়াফ চলছে। তাদের দেখেই বুঝা যাচ্ছে, বৃদ্ধ বাবাকে কাবা তাওয়াফের অনন্য সুযোগ করে দিতে তাকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন তার সন্তান। উভয়ের চোখেই পানি। কিন্তু তাদের চেহারাই বলে দিচ্ছে, এ অশ্রু কোনো দুঃখের কিংবা কষ্টের নয়। বরং স্বপ্নপূরণের, ভালোবাসা প্রকাশের অথবা কৃতজ্ঞতার।
তাদের এ দৃশ্য আবেগাপ্লুত করে দিয়েছে উপস্থিত তাওয়াফরত অন্যদের। তাওয়াফের ফাঁকে বাবার প্রতি এমন দায়িত্ববোধ দেখে তারা ছেলেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, লোকটি ইসলামি মূল্যবোধের সত্যিকারের উদাহরণ।
হারামাইন পর্ষদের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কয়েকটি ছবি ঘুরপাক খাচ্ছে দু-তিন দিন ধরেই। তবে কোথাও তাদের কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তাদের পরিচয় হয়তো জানা যেত, যদি তাদের এ সুন্দর যাত্রা থামিয়ে তাদের প্রশ্ন করা হতো। কিন্তু কেউ তাদের বিরক্ত করতে চাননি।
তবে পোশাক-পরিচ্ছদ ও চেহারা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের নাগরিক হবেন। পরিচয় জানা ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাই তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, বাবাকে হুইল চেয়ারে করে তাওয়াফ করানো যেত। কিন্তু মাতাফ তথা কাবার নিকটতম স্থানে হুইলচেয়ারের ব্যবহার অনুমোদিত নয়। হুইলচেয়ারে করে তাওয়াফ করার ব্যবস্থা রয়েছে মসজিদে হারামের দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায়। তাছাড়া কাবা শরিফের কাছ ঘেষে তাওয়াফ করা বেশি আনন্দদায়ক।
আল্লাহর একত্ববাদের আদেশের পাশাপাশি কুরআনে বারবার পিতা-মাতার সেবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূরা নিসাতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং পিতা-মাতা উভয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করো।
এর আগেও বহুবার বাবা কিংবা মাকে পিঠে, কোলে ও কাঁধে বহন করে সন্তানদের হজ-ওমরাহ করতে দেখা গেছে। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যুগে এ যেন এক ফোঁটা স্বস্তির নিশ্বাস।
-বাবু/এ.এস