প্রকাশ: সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:৩২ পিএম (ভিজিট : ১৬২)

X
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক তুর্কি তরুণী। তার নাম ওজগুল কনাকচি। তুরস্কের মালত্য শহরের বাসিন্দা ২৫ বছরের ওজগুল বলেন, চোখের সামনে ভবনের জানালাগুলো সশব্দে চূর্ণবিচূর্ণ হতে দেখেছেন।
ভূমিকম্পে অক্ষত আছেন ওজগুল। ভূমিকম্পের সময় তিনি ও তার ভাই সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলি, ‘তুমি কি কাঁপছ?’ ওজগুল আরো বলেন, ‘আমি ল্যাম্পের (বাতি) দিকে তাকালাম। মনে হচ্ছিল ল্যাম্পটি ভেঙে যাচ্ছে। আমরা আমাদের তিন বছর বয়সী ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে আফটার শকে একটি ভবনের জানালাগুলো ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।’ ভূমিকম্পে ওজগুলদের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আশপাশের পাঁচটি ভবন ধসে গেছে। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন খুব ঠাণ্ডা রয়েছে। তুষারপাত হচ্ছে। এটা আরেক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ওজগুল বলেন, সব লোক এখন রাস্তায় অবস্থান করছে। তারা কী করবে, তা নিয়ে চিন্তিত। তুরস্ক ও সিরিয়ায় আজ ভোরে আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে দুই দেশে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে তখন বেশির ভাগ মানুষ ছিল ঘুমে। প্রতিদিনের মতোই রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই, কিন্তু ভোর হতেই তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে চলছে তা সবার অজানা। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই বেশি ভাগ মানুষ মারা গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৮। স্থানীয় সময় ভোর সোয়া চারটার দিকে আঘাত হানে। গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১৭.৯ কিলোমিটার। তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল।
বাবু/এসআর