
প্রতিদিনের মতোই রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা, কিন্তু ভোর হতেই তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে চলছে তা ছিল সবার অজানা।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের ঘটনায় ঘুমের মধ্যেই বেশির ভাগ মানুষ মারা গেছে।
সোমবার ভোরে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল। প্রচণ্ড কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় তুর্কিদের। ভূমিকম্পে অনুভূত হয় প্রতিবেশী সিরিয়া, সাইপ্রাস ও লেবাননেও।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, কাহরামানমারাস, গাজিয়ানতেপ, সানলিউরফা, দিয়াবাকির, আদানা, আদিয়ামান, মালতা, হাতায় ও কিলিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরগুলোর চারদিকে ধ্বংসস্তূপের চিত্র।
ভবন ধসে অনেকে চাপা পড়েছে। নিখোঁজদের হন্য হয়ে খোঁজ করছে পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের পর এটাই তুরস্কে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৮১৮টি ভবন ধসে পড়েছে।
ধসে পড়া ভবনগুলোতে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েছে। কর্মীরা ধ্বসংস্তূপের মধ্য থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা জোরালো করেছে।
তুরস্কের কোথাও কোথাও তুষারপাত আর বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সিএনএন আবহাওয়াবিদ ব্র্যান্ডন মিলার বলেছেন, ভূমিকম্পের কম্পন লেবানন পর্যন্ত কয়েকশ কিলোমিটার দূরে অনুভূত হতে পারে।
আহতদের ভিড়ে উপচে পড়ছে সিরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতাল। দেশটিতে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালাকারী সংস্থা দ্য সিরিয়ান আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এ তথ্য।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, গত ৮০ বছরের ইতিহাসে এতটা শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়নি।
তুরস্কের গজিয়ানতেপ এবং কাহরামানমারাস প্রদেশে প্রায় ৯০০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও তুরস্কের দিয়ারবাকির পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩৩০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত আন্তঃসীমান্ত এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে বেড়েই চলছে প্রাণহানি। এ সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভবনের নিচে আটকে পড়া হতাহতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এএফএডি ও পুলিশবাহিনী।
ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ‘লেভেল ৪’ সংকেত জারি করেছে দেশটির সরকার।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে একশ থেকে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।