সোমবার ভোরে ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ একটি ভূমিকম্প তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে। এর ১১ মিনিট পরই আঘাত হানে ৭.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ছুঁয়েছে। দুটি দেশে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৪০ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক ফুটফুটে নবজাতককে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা গেছেন শিশুটির মা। সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনা ঘটেছে। এক সিরীয় সাংবাদিক টুইটারে লিখেছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এক প্রসূতিকে উদ্ধারের সময় শিশুটির জন্ম হয়। তবে তার মা-সহ পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই।
‘মরদেহ বের করে আনার পর আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপরে মানুষের আর্তনাদ দেখছি; তারা একটি শিশু পেয়েছে; সে জীবিত আছে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
সিরিয়ার সরমাদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরেকটি শিশুকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ২০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর উদ্ধার করা হয়েছে তাকে।
স্মরণকালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত তুরস্ক-সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকার চারিদিকে চলছে শোকের মাতম
উদ্ধারকারীরা প্রত্যেক ১০ মিনিটে একটি করে মরদেহ বের করে আনছেন
দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর দেশটির কাহরামানমারাস নগরীতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলেছে, সোমবার তুরস্কে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর অন্তত ১০০টি আফটার শক হয়েছে।
হিম শীতল তাপমাত্রা, তুষার ও বৃষ্টিতে তুরস্কে ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে রাতেও চলমান ছিল জীবিতদের অনুসন্ধান।
দেশটির আদানা শহরের ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে ধ্বংসস্তূপে পরিবারের আটকেপড়া সদস্যদের মরিয়া হয়ে খুঁজতে কংক্রিটের ভগ্নাংশ ও বিভিন্ন আসবাবপত্র হাত দিয়েই সরিয়ে ফেলছেন এক নারী।
একটি বহুতল ভবনে্র ধবংসস্তুপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন কয়েকজন উদ্ধারকর্মী।
উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন আটকেপড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধার করতে।
অনেক স্থানেই ভবনের ধ্বংসাবশেষে আটকেপড়া মানুষের সহযোগিতার জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।
পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক নারী।
আটকেপড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনাও কমে আসছে সময়ের সঙ্গে। নিহতের সংখ্যা বিশ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ।
এক উদ্ধারকর্মী বলেন, আমরা বিপর্যস্ত। হায় খোদা... তারা ডাকছে। তারা বলছে, আমাদের বাঁচাও। কিন্তু আমরা তাদের বাঁচাতে পারছি না।
একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, ‘আমি জানি, এখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি পরিবার চাপা পড়ে আছে। বেলা ১১টা এবং দুপুরেও আমার বন্ধু তার মুঠোফোনে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু এখন আর তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’
ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা গেলেও তাদেরকে বাঁচানোরে মতো লোকবলের অভাব দেখা গেছে।
প্রতিটি বহুতল ভবন যেন এখন ধ্বংসস্তূপের একেকটি পাহাড়।
‘কেউ আছেন? শুনতে পাচ্ছেন?’, কিছুদুর পর পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বারবার এমন চিৎকার করে প্রাণের খোঁজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।