বিচারপতিদের সই জাল করে জামিন পাইয়ে দিতো তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক জমাদার দাউদ এলাহী তার নিয়মিত কাজের পাশাপাশি গড়ে তোলেন একটি জালিয়াত চক্র। তারা গুরুত্বপূর্ণ মামলার

2023-02-14T22:33:08+00:00
2023-02-14T22:33:08+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
জালিয়াত চক্র
বিচারপতিদের সই জাল করে জামিন পাইয়ে দিতো তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ১৫৪)
X

হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক জমাদার দাউদ এলাহী তার নিয়মিত কাজের পাশাপাশি গড়ে তোলেন একটি জালিয়াত চক্র। তারা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের টার্গেট করে জামিন করে দেওয়ার লোভ দেখাতেন। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। কারারক্ষী ও জাল কাগজপত্র তৈরিতে পারদর্শী লোকজনকে নিয়ে তিনি এই চক্র গড়ে তোলেন বলে জানায় সিআইডি।

সিআইডি জানায়, এই কাজে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বেশ কয়েকজন কারারক্ষী। মূলত তারা কারাগারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামির স্বজনদের এলাহীর পরিচয় জানাতেন। এ ছাড়া বিচারপতিদের নাম ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে জামিন আদেশের কাগজপত্র তৈরি করে আসামিদের কারাগার থেকে জামিনের ব্যবস্থাও করতেন।

তারা আরও জানায়, কারাগারে থাকা আসামিদের সহজে জামিনের জন্য হাইকোর্টের বিভিন্ন কর্মচারীর তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের মধ্যে প্রধান সাবেক কারারক্ষী শেখ আব্দুল মাজেদ। কিন্তু ভুয়া জামিন কাগজপত্র তৈরির মূলহোতা হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক জমাদার দাউদ এলাহী। এই চক্রের হাত ধরে অনেক আসামি জামিন পেয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার পর জামিন পাওয়া আসামিদের সম্পর্কে জানা যাবে। এ ছাড়া জামিন পাওয়া আসামিদেরও সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় সিআইডি।

গতকাল সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নামে ভুয়া জামিন আদেশ তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামি হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক জমাদার দাউদ এলাহী, সাবেক কারারক্ষী শেখ আব্দুল মাজেদ ও আশরাফুজ্জামান রনি। এই মামলায় পলাতক রয়েছেন রফিক নামে আরেক আসামি।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, মামলাটি নিয়ে সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত করে থানা পুলিশ ও দুদক। কিন্তু কোনও কূলকিনারা করতে পারেনি দুটি সংস্থা। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। মামলার তদন্তভার পান এসপি নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১১ সালে মাগুরা জজ কোর্ট পরিদর্শনকালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কিছু মামলার নথি পরীক্ষা করে দেখতে পান যে ১১টি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জামিন আদেশ প্রতারণা ও জালজালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তিনি হাইকোর্টের তৎকালীন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাহফুজুল করিম আকন্দকে বিষয়টি অনুসন্ধান করার জন্য নির্দেশ দেন। মাহফুজুল করিম তদন্ত করে রফিক ও দাউদ এলাহীকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২০ মে হাইকোর্ট বিভাগের তৎকালীন কোর্টকিপার আব্দুল ওয়ারেছ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাহী হাইকোর্ট বিভাগের জমাদার হিসেবে কর্মরত থাকাকালেই একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক ও জালিয়াত চক্র গড়ে তোলেন। এই চক্র হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নামে ভুয়া জামিন আদেশ তৈরি করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার, বিশেষ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অর্থের বিনিময়ে জামিন পাইয়ে দেওয়ার কাজ করতেন। এই জালিয়াত চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে সারা দেশসহ ডিএমপিতে একাধিক মামলা রয়েছে।’

বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাদের গ্রেফতার করা হলে ভুয়া জামিন চক্রের মাধ্যমে কত আসামি জামিন পেয়েছে, সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এসপি নজরুল ইসলাম।

বাবু/এসআর 




  বিষয়:   জামিন  জালিয়াত চক্র 



Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy