
X
গণতন্ত্র হল যেকোনো উন্নত সমাজের ভিত্তি। এর মূল্যবোধ ও রীতিনীতিকে সমুন্নত রাখার দায়দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর উপর বর্তায়। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্থিতিশীল হওয়া রাষ্ট্রের জন্য অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সাথে একটি জটিল ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। গণতন্ত্রের ধারণাটিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অপব্যবহার করেছে। এমনই একটি দল বিএনপি, যারা নিজেদেরকে দেশের গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে। তবে দেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘনে বিএনপির অবস্থান সবার উপরেই থাকবে।
বিএনপি দল হিসেবে নিজেদেরকে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাহারাদার বলে দাবি করে। তবে জন্মলগ্ন থেকেই দলটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে ঢের পিছিয়ে। বিএনপি নামক প্রতিক্রিয়াশীল এ দলটির জন্মই হয়েছে সামরিক ডেরায়। এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য শুভ নয়। তদুপরি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তার স্বৈরাচারী প্রবণতার জন্য পরিচিত ছিলেন, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। তার শাসনামলে সেন্সরশিপ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন খুবই স্বাভাবিক বিষয় ছিল। তার শাসনামলে বহু নিরপরাধ মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়। এ সময়ে সামরিক আদালতে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সবাই ওয়াকিবহাল।
দেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যে ব্যক্তি এতবড় জঘন্য একটি কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারেন তার দল ও তিনি নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের পাহারাদার হওয়ার দাবি করতে পাওে না। এ বিষয়টি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
‘ওয়ান ইলেভেন’ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায়। ওয়ান ইলেভেনের সরকার দেশে বিরাজনীতিকরণের সবধরনের প্রচেষ্টাই চালিয়েছে। ওয়ান ইলেভেন সরকার দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে, যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তির বিরুদ্ধে যায়। বর্তমানে বিএনপি ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের সাথে একাট্টা হয়েছে। তারা দেশে নতুন করে বিরাজনীতিকরণের সুযোগ খুঁজছে। ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে বিএনপির যুক্ত হওয়া গণতন্ত্রের প্রতি দলটির অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্নের দাবি রাখে।
অধিকন্তু, একটি গণতান্ত্রিক দলকে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত যে জনগণকে সে প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে যুক্ত হতে ব্যর্থ হয়েছে। দলটির কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। তাদের জনগণের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। মূলত এর কারণ দলটির জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার অভিপ্রায় নেই। তারা সবসময়ই পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়।
বিএনপি অতীতেও জোরপূর্বক রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার দীর্ঘ -ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। বর্তমানেও বিএনপি দেশে অবৈধভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপির অপপ্রচার ও গুজব সত্ত্বে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা রাখছে। অন্যদিকে বিএনপির সবসময় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত। বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে এবং জনগণ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেছে। যা নিশ্চয়ই আসন্ন ২০২৩ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসবে।
গণতন্ত্র হল এমন একটি ধারণা যা যেকোনো মূল্যে বহাল রাখতে হবে; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নিয়ম মেনে চলা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। একাধিকবার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। দলের উৎপত্তি, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতার সংযুক্ত থাকা, ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে নতুন করে ওঠাবসা, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভাব, অবৈধভাবে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা সবই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গণতন্ত্র একটি কার্যকরী সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মূল্যবোধ এবং নিয়মগুলোকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব রয়েছে। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘনের বিএনপির ইতিহাস উদ্বেগজনক এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা লাভের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার প্রতি তাদের সমর্থন অবিরাম সমর্থন দেখিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের রয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার দৃঢ় ও সুদীর্ঘ ঐতিহ্য। আগামী সংসদ নির্বাচন দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থন দিতে নিশ্চয়ই ভুল করবে না।
যা-ই হোক, প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার এবং সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রীতিনীতি সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে ষড়যন্ত্রেও পেছনে ছুটে চলা বিএনপি এ দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারবে তা নিয়ে আমরা সন্দীহান। কেননা বিএনপির রয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের সুদীর্ঘ ও সুস্পষ্ট ইতিহাস। সুতরাং তাদের কণ্ঠে গণতন্ত্রের গান খুবই বেসুরো এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।
লেখক : ট্রেজারার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
-বাবু/এ.এস