বাসে সংরক্ষিত আসন কতটা কার্যকর

দিল আফরোজ শোভা

মতামত

আমাদের দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা এতই নিম্নমানের আর এতটাই অপ্রতুল যে সংরক্ষিত নারী আসন থাকার পরও রাস্তায় চলাচল করা

2023-04-13T12:51:14+00:00
2023-04-13T16:02:41+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
বাসে সংরক্ষিত আসন কতটা কার্যকর
দিল আফরোজ শোভা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৫১ পিএম  আপডেট: ১৩.০৪.২০২৩ ৪:০২ পিএম  (ভিজিট : ৮৯৬)
X


আমাদের দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা এতই নিম্নমানের আর এতটাই অপ্রতুল যে সংরক্ষিত নারী আসন থাকার পরও রাস্তায় চলাচল করা একজন নারীর জন্য ভীষণ ভীতিকর একটা ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা বাস হয়তো এল, তাতে অনেক পুরুষ যাত্রী দৌড়ঝাঁপ দিয়ে বাসে ওঠে, কিন্তু মহিলা যাত্রী উঠতে খুব কষ্ট হয়।  ঢাকা শহরের প্রায় বাসে সংরক্ষিত নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নয়টি আসন লেখা থাকে। কোনোটায় কম, আবার কোনোটায় বেশি থাকে। কিন্তু এ আসনের বিষয়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে সেটা প্রশ্নের সম্মুখীন।

এই পরিস্থিতিতেও সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করা নিয়ে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি ছাড়া অন্য বাসের চালক ও সহকারীদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না, এমনকি আসনের ওপর সংরক্ষিত কথাটি লিখে রাখতে মালিকপক্ষের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটি পালনের গড়িমসি চোখে পড়ে। ছোট বাসে ৬টি এবং বড় বাসে ৯টি পর্যন্ত সংরক্ষিত আসন থাকার কথা। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯২ (২) ধারা অনুযায়ী, যদি সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসেন, তাহলে ১ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো শাস্তির নজির পাওয়া যায়নি।

এদিকে সড়কে নারীর নিরাপত্তার জন্য প্রশিক্ষিত ড্রাইভারের অভাব একটি বড় সমস্যা। নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়তে ও পেশাগত নারী গাড়িচালক তৈরির কার্যক্রম নেই বললেই চলে। বিশেষ করে চাকরিজীবী নারীরা সবাই ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে তাদের কর্মস্থলে যেতে পারেন না। কর্মস্থলে যেতে গিয়ে তাদের গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এক্ষেত্রে বাস সর্বাধিক ভূমিকা পালন করে। বাসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নয়টি আসন থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাসমালিকেরা শুধু একটি স্টিকারের লেখা দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যান। নির্দিষ্ট করে লেখা থাকে না কোনো কোনো আসনগুলো নারীদের জন্য সংরক্ষিত। নির্দিষ্ট করে আসন না থাকার কারণে প্রায়ই নারী ও পুরুষ যাত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সংরক্ষিত আসনে পুরুষ যাত্রী বসে পড়েন কিন্তু পরে নারী যাত্রী উঠলে তাকে আসন ছেড়ে দিতে চান না। বর্তমান সময়ে এসেও অনেক নারী আসনে পুরুষ যাত্রী বসে যান কিন্তু পাশে নারী দাঁড়িয়ে থাকেন। সংরক্ষিত আসন নারীর অধিকার, সেই বিষয়ে কেউ যদি তার আসন দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কটুকথার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কথা বেশির ভাগ সময় নারী যাত্রীদের শুনতে হয়, ‘নারী-পুরুষ সমান অধিকার’, তাহলে কেন সংরক্ষিত আসন।

ইঞ্জিনের পাশের সিটে বসে দীর্ঘদিন যাতায়াত করতে গিয়ে নানা ধরনের মারাত্মক  স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নারীরা। এতে ত্বকের সমস্যা রয়েছে; বিশেষ করে অ্যালার্জি ও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে , তাদের ত্বকের কারণে নানাভাবে ফোসকা পড়ে যেতে পারে। অনেকের হিট স্ট্রোকেরও উপক্রম হতে পারে। আবার অনেকের বমি, মাথাব্যথা এমনকি জ্বরও আসতে পারে। কারণ ইঞ্জিনের উচ্চমাত্রার তাপ দেহকে উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর বাস থেকে নামলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এভাবে শরীর একবার ঠাণ্ডা আবার গরম হয়ে পড়ায় সর্দিসহ জ্বর দেখা দিতে পারে।

কর্মস্থলে ও নানা কাজের ও বিষয়ের প্রয়োজনীতায় এখন নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে অতীতের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি সমান তালে তার নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা বা বাহন বাড়েনি।  বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, গণপরিবহনে শতকরা ৪১ ভাগ নারী যৌন হয়রানির শিকার। যৌন হয়রানি মুক্তি পেতে শতকরা ৩১ ভাগ নারী গণপরিবহনে যাতায়াত করে না, যা নারীদের কর্ম, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশ রাষ্ট্রসমাজের সবক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ বিড়ম্বনাহীন যাতায়াত ব্যবস্থা বা বাহন নিশ্চিত না হলে নারী উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

গণপরিবহন যত দিন পর্যন্ত পর্যাপ্ত না হচ্ছে এবং নারীদের নিরাপত্তা যত দিন পর্যন্ত নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত অবশ্যই সংরক্ষিত আসন থাকতে হবে, প্রয়োজনে সংখ্যাও বাড়াতে হবে। আর অন্যান্য আসনগুলোতে নারী ও পুরুষ উভয়েরই আসন গ্রহণ করবার সমান সুযোগ বা অধিকার রয়েছে। এটিও বাস্তবায়ন করতেই হবে। যখন থেকে গণ পরিবহনে নারী-পুরুষ সমান হবে, নারী কোনো নির্যাতনের শিকার হবে না, তখন আর সংরক্ষিত আসনেরও দরকার হবে না।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী  

-বাবু/এ.এস





  বিষয়:   বাস  আসন 



Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy