প্রকাশ: বুধবার, ১০ মে, ২০২৩, ১১:৩১ পিএম (ভিজিট : ১৫৫)

X
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিম তীর ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় গত দু’দিনে নিহত হয়েছেন ২০ জন, আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। নিহতদের মধ্যে ৪ জন শিশুও রয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনে সক্রিয় কট্টর ইসলামপন্থী সশস্ত্রগোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের জেষ্ঠ্য নেতাদের লক্ষ্য করে গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালায় ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। হামলায় ওইদিনই গোষ্ঠীটির ৩ জন জেষ্ঠ্য নেতাসহ নিহত হন অন্তত ১২ জন। ৪ শিশুর নিহতের ঘটনাও ঘটেছে ওইদিনই।
পরে বুধবার অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিম তীর উভয় এলাকায় অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, সেই হামলায় নিহত হয়েছেন ইসলামিক জিহাদের ২ যোদ্ধাসহ আরও ৫ জন।
মঙ্গলবার ইসলামিক জিহাদের যে ৩ জেষ্ঠ্য নেতা নিহত হয়েছেরন তারা হলেন জিহাদ ঘান্নাম, খলিল আল বাতিনি এবং তারেক এজেদাইন। এই ৩ জনের মধ্যে এজেদাইন গাজায় নিহত হলেও তিনি মূলত ইসলামিক জিহাদের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীর শাখার নেতা বলে জানা গেছে।
বুধবার অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া শহরে ইসলামিক জিহাদের দুই যোদ্ধাসহ আরও ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত দুই যোদ্ধার নাম আহমেদ জামাল তওফিক আসাফ (১৯) এবং রনি ওয়ালিদ আহমেদ কাতানাত (২৪)।
এদিকে মঙ্গলবার অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলার পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ শুরু করে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ। তবে রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থার কারণে ইসরায়েলের কোনো শহরে আঘাত হানতে পারেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল সেনাবাহিনীর সংস্থ্যা মাগেন ডেভিড অ্যাডম ইমার্জেন্সি সার্ভিস।
অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইসমাইল হানিয়েহ মঙ্গলবার এক বার্তায় বলেন, ‘ইসরায়েল গাজার নেতৃত্বকে বিলীন করে দিতে চাইছে; কিন্তু তাদের এই ইচ্ছে কখনও পূরণ হবে না। গাজা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের পর এই প্রথম বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল এবং অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড।
২০২৩ সালের শুরু থেকেই অবশ্য ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। ফিলিস্তিনের সরকারের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিম তীর— দুই ভূখণ্ডে নিহত হয়েছেন অন্তত ১২৬ জন।
বাবু/মম