কী হবে তুর্কি পররাষ্ট্রনীতি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

তুরস্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রথম দফায় এগিয়ে থাকা প্রভাবশালী প্রার্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিপরীতে লড়ছেন

2023-05-28T19:20:08+00:00
2023-05-28T19:22:54+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
কী হবে তুর্কি পররাষ্ট্রনীতি?
তুরস্কে দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ মে, ২০২৩, ৭:২০ পিএম  আপডেট: ২৮.০৫.২০২৩ ৭:২২ পিএম  (ভিজিট : ২৩৬)
X

তুরস্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রথম দফায় এগিয়ে থাকা প্রভাবশালী প্রার্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিপরীতে লড়ছেন নতুন তুরস্কের স্বপ্ন দেখানো কামাল কিলিচদারগ্লু। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের এই নির্বাচন বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে খেতাব পেয়েছে। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বহু সমীকরণ। উভয় প্রার্থীই অভ্যন্তরীণ নানা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও আঙ্কারার বিদেশনীতি ঠিক কতটা পাল্টাবে, অনেকেই উত্তর খুঁজছেন এই প্রশ্নের।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের সঙ্গে বন্ধুত্ব অনেকটা ফুল ও কাঁটা হাতে একসঙ্গে চলার মতো, যা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে আঙ্কারার জোট ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে। এরদোয়ানের এমন দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার নীতি, বিজয়ী হলে কতটা বজায় রাখতে পারবেন প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারগ্লু? প্রশ্ন এখানেও। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশ নীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় আঙ্কারার জন্য। কারণ, এই মুহূর্তে আঙ্কারার জন্য জরুরি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা ভোটের আগে উভয় প্রার্থীই তুরস্কের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে রাতারাতি আঙ্কারার বিদেশ নীতি পরিবর্তন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এটি শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের অর্জনকেই ঝুঁকিতে ফেলবে তা নয়, বরং ইতোমধ্যে যেসব সিদ্ধান্ত তুরস্কের পক্ষে অবস্থান করছে, সেগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।

তুর্কি জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়েন্ট ওয়ার ইনস্টিটিউটের গবেষক মেহমেত ওজকান বলেন, নির্বাচনের পর তুরস্কের বিদেশ নীতি পরিবর্তন করার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। তার মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক নীতিমালা একটি তাৎক্ষণিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন হতে থাকে। ফলে কোনো স্থির ও স্বাভাবিক সংজ্ঞায় তাকে ফেলা যায় না। তুরস্ক বর্তমানে বৈশ্বিক স্বায়ত্তশাসনের পথে একটি সক্রিয় ও গতিশীল নীতির অনুসরণ করছে, যা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টানো সম্ভব নয়। তবে পশ্চিমা বিশ্বের চাহিদা অনুসারে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আগের চেয়ে আরও সক্রিয় আচরণ করে, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মত এই গবেষকের।

তুর্কি বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলবিষয়ক গবেষক নুসরিন গুনি বলেন, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে তুরস্কের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের ভূমিকা আঙ্কারাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী করে তুলেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ, লিবিয়া ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে তুরস্কের ভূমিকা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। এরদোয়ান চাইবেন, দেশের এ অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সিরিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা এবং গ্রিসের সঙ্গে বৈরিতা নিরসনে পশ্চিমা পরামর্শ উপেক্ষা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে আঙ্কারা। এ ছাড়া বর্তমানে শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে তুরস্কের ভারমাস্যপূর্ণ ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রতিটি পক্ষের সঙ্গে সহজে কথা বলার সক্ষমতা এনে দিয়েছে। ফলে পশ্চিমারা এরদোয়ানকে তার নীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে অপর প্রার্থী কামাল কিলিচদারগ্লু বিজয়ী হলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ন্যাটোর সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষায় রাশিয়ার প্রতি অনেকটা নেতিবাচক দৃষ্টিও তুলে ধরেছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক নুসরিন গুনি বলেন, কিলিচদারগ্লু বিজয়ী হলে তুরস্কের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হবে, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে। শুধু কিলিচদারগ্লু ক্ষমতায় এই জন্য পশ্চিমা বিশ্ব সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ঋণ সরবরাহ উন্মুক্ত করবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এরদোয়ান পরাজিত হলে পশ্চিমারা চাইবে তুরস্কের সঙ্গে একটি সহজ আলোচনার অংশ হতে। যা আঙ্কারা নরম সুরের বিপরীতে সুবিধা দেবে ওয়াশিংটন ও ন্যাটো মিত্রদের। তবে তিনি জয়ী হলে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে পশ্চিমা নেতাদের। তবে অনেকেই মনে করেন, তুরস্ক ও পশ্চিমা বিশ্ব উভয়েই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির আলোকে আঙ্কারার সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্কে আরও অগ্রগতি হচ্ছে। ফলে কিলিচদারগ্লু জয়ী হলেও সুবিধা পেতে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের।




  বিষয়:   তুরস্ক  প্রেসিডেন্ট  নির্বাচন 



Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy