
X
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলাম লেখক নির্মল সেন একটা উপ-সম্পাদকীয় লিখেছিলেন, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।’ উনি বেঁচে থাকলে এবং সম্ভব হলে জিজ্ঞেস করতাম, সারাক্ষণ যারা অন্যের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভাবে, এক মুহূর্তের জন্য যাদের পরিবার শঙ্কাহীন থাকতে পারেন না, সেই সাংবাদিকদের জীবনেরই যখন নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি কীভাবে চান মান্যবর? স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির প্রেক্ষিতে তৎকালীন দৈনিক বাংলায় তিনি কলামটি লিখেছিলেন। স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও ওই দাবির যৌক্তিকতা আমরা দেখতে পাই। যদিও এদেশে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা ও স্বার্থপরতার দ্বন্দ্বে দিনেদিনে মানুষ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে সহজ এখন মৃত্যু, সবচেয়ে কমদামি মানুষের জীবন। সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম নিহত হওয়ার ঘটনা এমনটিই আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমি যে সংগঠনের (জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যসোসিয়েশন) সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম সেখানে সহসভাপতি ছিলেন। আমার খুবই ঘনিষ্ঠ এবং প্রিয় সহকর্মী ছিলেন তিনি। ইতোপূর্বে জামালপুরে হামলা-মামলাসহ সাংবাদিকরা অনেক আক্রমণ-নির্যাতনের শিকার হলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম। জামালপুর জেলায় প্রথম শহিদ সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। তাঁর মৃত্যুতে পুরো জেলা তো বটেই, সারাদেশের সাংবাদিকরা আজ শোকাহত, স্তব্ধ এবং বিক্ষুব্ধ। পরিবারের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠেছে আকাশ-বাতাস। শোকে মুহ্যমান এলাকাবাসী ও সহকর্মীরা। এ কান্নার শেষ কোথায়? একটি মৃত্যুর সামগ্রিক ও বড় ক্ষতিটা ভোগ করে শুধু পরিবার। আমরা একসময় হয়তো ভুলে যাব। কিন্তু সারাজীবন নাদিমের যে শূন্যতা ও যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবে তার পরিবার, সে দায় কি এড়াতে পারি আমরা? কিংবা এই সমাজব্যবস্থা? তিনি চলে গেছেন, কিন্তু অপরাধী করে গেছেন আমাদের, দায়বদ্ধ করে গেছেন রাষ্ট্রকে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ও বন-পাহাড়ে ঘেরা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার উর্বর ভূমির গর্বিত জননীর সুসন্তান ছিলেন গোলাম রাব্বানী নাদিম। বকশীগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যে ঘটনার সংবাদ লিখতে কেউ সাহস পাননি, একমাত্র তিনিই কলম ধরেছেন শেষ ভরসা হিসেবে। তার এই ‘সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো’ বলার সাহসিকতাই তাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেছে। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিলেন। নাদিমের বৃদ্ধ বাবা আলহাজ আব্দুল করিম বিডিআরে চাকরি করতেন, এখন অবসরে। মা আলেয়া বেগমও বয়সের ভারে ন্যুজ। পরিবারের সবার দেখাশোনা করতেন নাদিম। নাদিমরা একভাই ও দুইবোন। তিনি ছিলেন সবার বড়। নাদিম ও তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগমের দাম্পত্য জীবনে দুইছেলে ও একমেয়ে রয়েছে। বড়ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছে। বড়মেয়ে রাবিলাতুজ জান্নাত পড়াশোনা করছে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে অনার্সে। সবার ছোট ছেলে পাপ্পু, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকালে দাফনের আগমুহূর্তে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার পশ্চিমবাজার (গরুহাটি) সংলগ্ন নাদিমের বাসায় যখন যাই, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নাদিমকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার। বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন মা-বোন, স্ত্রী ও সন্তানরা। লাশের কফিন ঘিরে কান্না করছিলেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠজনরা। নাদিমের বৃদ্ধা মা আলেয়া বেগম বারবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, ‘নাদিম আমার সোনা মানিক। আমার নাড়িছেঁড়া ধন। আমার পোলাডা কথা কয় না ক্যা! আমার বাবাডারে কেউ আইনা দেও।’ সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে তিনি বারবার বলতে থাকেন, ‘আমার পোলাডারে বাবু চেয়ারম্যান মাইরা ফালাইছে। তোমরা ওই খুনি চেয়ারম্যানের ফাঁসির ব্যবস্থা করো।’ বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারি। সেই লাশ সামনে রেখে অশ্রু শুকিয়ে নির্বাক নাদিমের বাবা। বারবার তিনি শুধু ‘বাবা, বাবা’ বলছিলেন।
নাদিমকে হত্যার মূলহোতা বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। কে এই বাবু? এলাকায় গিয়ে জেনেছি, বাবু চেয়ারম্যান মাদক ও নারী ব্যবসা, চাঁদাবাজি, চাকরির দালালিসহ সবধরনের অন্যায়-অপকর্মের সাথে জড়িত। অবৈধ রোজগারে হয়েছেন কোটি কোটি টাকা, রাজধানীতে বাসাবাড়ি ও এলাকায় অনেক জায়গা-জমির মালিক। অথচ পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। এরপর নিজ গ্রামের একটা মুদির দোকানে কাজ নেন, এতে কোনোরকম দিন চলত। একসময় চৌকস বাবু নিজের চাচাতো ভাইয়ের ঠিকাদারি লাইসেন্সের মাধ্যমে ধারদেনা করে ছোটখাটো ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার নির্মাণের কাজ পেয়ে দিন পাল্টে যায়। ১৯৯৪-৯৫ সালে ছাত্রজীবনে জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রসমাজের কর্মী ছিলেন। এরপর কয়েক বছর বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিছুদিন রাজনীতি ছেড়ে নিরপেক্ষতার ভান ধরেন এবং ২০১১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পয়সাকড়ি খরচ করে ২০১৪ সালে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বনে যান এবং ২০১৬ সালে দলের টিকিটে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। টানা দুইবারের নৌকার চেয়ারম্যান এবং ৯ বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে আর ঠেকায় কে?
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বাবু চেয়ারম্যানকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। যিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী, তাঁর পক্ষে বাবু চেয়ারম্যানই এলাকায় সবধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ক্ষমতা, অর্থ ও দম্ভে এলাকায় স্বঘোষিত ও মুকুটহীন সম্রাট বনে গেছেন বাবু চেয়ারম্যান।
কিন্তু সাংবাদিক হত্যা করলেন কেন বাবু চেয়ারম্যান? নেপথ্যে রয়েছে, চেয়ারম্যানের বেপরোয়া জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলাম রাব্বানী নাদিমের কলম। জানা গেছে, এক নারীকে বাবু চেয়ারম্যান প্রথমবার বিয়ে করে তালাক দেন। দ্বিতীয়বার বিয়ের পর ওই নারীর কোলে বাচ্চা আসে। পরে চেয়ারম্যান ওই নারীকে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সংবাদ সম্মেলন করলে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম সংবাদ পরিবেশন করেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাবু চেয়ারম্যান নাদিমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেন। গত বুধবার (১৪ জুন) সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওই মামলা খারিজ হলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাবু চেয়ারম্যান। মামলা খারিজের চার ঘণ্টার মধ্যে হামলা করা হয় সাংবাদিক নাদিমের ওপর। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) পৌনে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাবু জানতেন, নাদিমের কলমকে থামানো যাবে না। এভাবে লিখতে থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন হয়ে যাবে। হত্যাই পারে এটা বন্ধ করতে। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। পরিকল্পনা মোতাবেক সশরীরে উপস্থিত থেকে নাদিমের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন বাবু। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নাদিমের সহকর্মী আল মুজাহিদ বাবু জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে তারা পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে বকশীগঞ্জ বাজার থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এসময় পাটহাটি এলাকায় পৌঁছলে বাবু চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ছেলে রিফাত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে নাদিমকে পাশের অন্ধকার গলিতে নিয়ে ইট দিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করে। একপর্যায়ে নাদিম অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে ফেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সাংবাদিক নাদিম ইতোপূর্বেও একাধিকবার হামলা-মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের সেসব বিষয়ে তেমন মাথাব্যথা দেখা যায়নি। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাতেও তিনি একবার সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধী পরিবার থেকে আওয়ামী লীগের পদ-পদবি লাভের অভিযোগ সংক্রান্ত একাত্তর টিভিতে তিনি সংবাদ প্রচার করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগমের লোকজন তার ওপর এ হামলা করেছিল। জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সে সময় আমি এবং আমার সংগঠনের আরেক সহসভাপতি সহকর্মী শহিদুল ইসলাম নিরব বকশীগঞ্জ গিয়েছিলাম। তিনি এবং তার পরিবার তখন চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছিলেন। আমরা ওসির কাছে নাদিমের লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুরু থেকেই বকশীগঞ্জ থানার ওসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্ত্রাসীদের পক্ষপাতমূলক লক্ষ করেছি। নাদিম ফেসবুক লাইভেও বলেছিলেন, তার নিরাপত্তাহীনতার কথা। কেউ কর্ণপাত করেনি। শেষপর্যন্ত তাকে মরেই প্রমাণ করতে হলো যে, সত্যিই তিনি নিরাপত্তাহীন ছিলেন। যেমনটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে না।’
এবারও নাদিম আহত হওয়ার পর ওসি সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘চোখে সামান্য আঘাত পেয়েছেন।’ যাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতাল, সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং শেষপর্যন্ত যিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তিনি নাকি সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন! চিকিৎসকের মতামত ছাড়াই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে এমন মন্তব্য কতটা শোভনীয়? অপরদিকে নাদিমের মৃত্যুর পর ওসি মন্তব্য করেন, ‘বাবু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকরা লিখলেও সবাই একসময় থেমে যায়, কিন্তু নাদিম না থেমে ধারাবাহিক নিউজ করছিল এবং ফেসবুকে শেয়ার দিচ্ছিল। তাই বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়, সুতরাং সাংবাদিকতার জন্য এ হত্যা হয়নি।’ কতটা পক্ষপাতিত্ব করলে ওসি এমন মন্তব্য করতে পারেন, ভাবা যায়! ওসি সাহেবের হয়তো বিষয়টি ভালো লাগেনি যে, নাদিম কেন এখনও থামছে না। নাদিমের নিউজগুলো হয় তো চাপে ফেলেছিল পুলিশকে। সুতরাং এ হত্যায় দায় এড়াতে পারেন না ওসি।
শুধুমাত্র হত্যাকারী সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা প্রশাসনকেই দোষ দেবো কেন? কতিপয় সহকর্মী সাংবাদিকরাও অভিযোগ এড়াতে পারবেন? শুনেছি, কোনো কোনো সাংবাদিকের রুটি-রুজির মাধ্যম ছিলেন নাদিম। তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ লিখলে কিছু নামধারী সাংবাদিক সাথেসাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে হাজির হতেন প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি কিংবা পক্ষে সংবাদ লেখার জন্য। বিনিময়ে টু-পাইস কিছু ইনকাম হতো কথিত সাংবাদিকদের। বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৪-৫টি গণমাধ্যম সংগঠন। কিন্তু সাংগঠনিক ভিত্তি এবং পেশাগত ঐক্য ও দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ এবং পদ-পদবির আশায় ব্যাঙের ছাতার মতো সারাদেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠছে। কিন্তু পেশাগত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়নের তেমন কোনো কর্মকাণ্ড লক্ষ করা যায় না। নিজেদের পেট পূজা আর পকেট ভারি করার জন্য মফস্বল সাংবাদিকতায় নাম লেখাচ্ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। অনেকেই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টাতেও যোগ দিচ্ছেন সাংবাদিকতায়। নগদ টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড তুলে দিয়ে সাংবাদিকতার নামে দালালি করার সুযোগ করে দিচ্ছে ভুঁইফোঁড় ও কথিত অনেক গণমাধ্যম। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার ধার ধারেন না গণমাধ্যম মালিকরা। অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতাও নেই তাদের। সুতরাং ক্ষতিগ্রস্ত হন সৎ ও প্রকৃত সাংবাদিকরা। যেমনটা চিরতরে হারিয়ে গেলেন গোলাম রাব্বানী নাদিম।
লেখক : কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক
-বাবু/এ.এস