‘ধ্যানাবস্থাই মানবজীবনের সর্বোচ্চ অবস্থা’

শচীন্দ্র নাথ হালদার

মতামত

যোগ মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। এটি মানবজাতির অনেক কল্যাণ সাধন করতে পারে। যোগের মহিমা বর্ণনা করে শেষ করা

2023-06-21T15:15:21+00:00
2023-06-21T15:37:07+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস
‘ধ্যানাবস্থাই মানবজীবনের সর্বোচ্চ অবস্থা’
শচীন্দ্র নাথ হালদার
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩, ৩:১৫ পিএম  আপডেট: ২১.০৬.২০২৩ ৩:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ১৯৯)
X


যোগ মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। এটি মানবজাতির অনেক কল্যাণ সাধন করতে পারে। যোগের মহিমা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। চার হাজার বছরের বেশি আগে ঋষি পতাঞ্জলি এ যোগ আবিস্কার করেন। তাঁর এ আবিষ্কার ‘পাতাঞ্জল সূত্র’ নামে পরিচিত। এ মহৎ আবিষ্কার অধিকারিক যোগীদের কৃপণ মানসিকতার জন্য জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেনি। যোগীরা সাধারণত উপযুক্ত পুত্র বা শিষ্য ছাড়া অন্য কাউকে এ যোগ শিক্ষা দিতেন না। কালক্রমে এ যোগ প্রায় বিলুপ্ত হবার কারণে জনসাধারণ যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আধুনিককালে স্বামী বিবেকানন্দ মানবকল্যাণের জন্য যোগকে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২১ জুন বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। যোগ অনুশীলনে প্রধানত নিযোগ, সবল, কর্মক্ষম দেহ এবং দীর্ঘজীবন লাভ, মনের নিয়ন্ত্রণ শক্তি অর্জন, জ্ঞানার্জন, ধার্মিক হওয়া, ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা প্রদান এবং মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

যোগ বলতে আমরা সাধারণত রাজযোগ বুঝে থাকি। রাজযোগকে আট ভাগে ভাগ করা যায় যথাÑ যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধ্যান, ধারণা ও সমাধি। যম বলতে অহিংসা, সত্য, অন্ত্রেয়, অচৌর্য, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহকে বুঝায়। এ যম ধারা চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং দেহ, মন ও আত্মা আনন্দে ভরে উঠে। অন্য কোনো প্রাণীকে ক্ষতি না করাকে অহিংসা বলে। অহিংসা অপেক্ষা মহত্তর কোনো ধর্ম নেই। সত্যের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের কর্মের ফল লাভ করে থাকি। এ সত্যের ভিতর থেকে সব কিছু পাওয়া যায়। সবকিছু সত্যেই প্রতিষ্ঠিত। চুরি বা বলপূর্বক অন্যের জিনিস গ্রহণ না করাকে অস্তেয় বলে। কায়মনোবাক্যে সর্বদা সকল অবস্থায় পবিত্রতা রক্ষা করাকে ব্রহ্মচর্য বলে। অপরের দান গ্রহণ না করাকে অপরিগ্রহ বলে। নিয়ম শব্দের অর্থ নিয়মিত অভ্যাস বা ব্রত পালন। অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সকল প্রকার শৌচই সাধনের জন্য প্রয়োজন। যম ও নিয়ম চরিত্র গঠনের সহায়ক। আসন বলতে আমরা ধ্যানাসন এবং স্বাস্থ্যাসন এ দুই ধরনের আসন বুঝে থাকি। বুক, গ্রীবা ও মাথা সমান রেখে দীর্ঘক্ষণ আরামে বসে থাকার অবস্থাকে আসন বলে।

প্রাণায়াম শক্তি অর্জনের উপায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টাই প্রাণায়াম। প্রাণায়াম ফুসফুসের ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। প্রাণায়ামে মনশক্তিরূপ প্রাণের বিকাশসমূহকে মানসিক উপায়ের ধারা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘদিন প্রাণায়াম অনুশীলনের মাধ্যমে যোগী অষ্টসিদ্ধি লাভ করতে পারেন। অষ্টসিদ্ধি হলো অনিমা, লঘিমা, গরিমা, মহিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাল্য, বশিত্ব ও ঈশিত্ব। অষ্টসিদ্ধি লাভ হলে সাধকের নিকট অনন্ত শক্তির দরজা খুলে যায়। তার কথায় মৃতদেহেও প্রাণের সঞ্চার হতে পারে। আমাদের দেহে পাঁচ ধরনের বায়ু কাজ করে, যথাÑ প্রাণ, অপ্রাণ, সমান, ব্যান ও উদান। নাভিমূলে সমান বায়ুর অবস্থান। নাভির উপরে প্রাণবায়ু এবং নাভির নিচে অপ্রাণ বায়ুর অবস্থান। সিদ্ধ যোগী প্রাণ বায়ুর সাথে অপ্রাণ বায়ুর মিলন ঘটায়ে ইচ্ছামৃত্যু লাভ করতে পারেন। অরিষ্ট নামক মৃত্যুলক্ষণগুলোর উপর মনোসংযোগ করে তিনি মৃত্যুর ক্ষণ জানতে পারেন। প্রাণকে যিনি জয় করেছেন সমস্ত জগৎ তিনি জয় করেছেন। জগতের সকল শক্তি ক্রীতদাসের মতো যোগীর আদেশ পালন করেন।

বিষয়াভিমুখী মনের গতি ফিরিয়ে অন্তর্মুখী করাকে প্রত্যাহার বলে। চিন্তার একমুখীতাই ধ্যান। এ ধ্যানাবস্থাই মানবজীবনের সর্বোচ্চ অবস্থা। যতক্ষণ আমাদের কামনা বাসনা থাকে ততক্ষণ আমরা প্রকৃত সুখ পাই না। কেবল ধ্যানভাবে সাক্ষীরূপে সবকিছু পর্যালোচনা করতে পারলেই আমরা প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারি। ইতর প্রাণীর সুখ ইন্দ্রিয়ে, মানুষের সুখ বুদ্ধিতে এবং দেবমানব ধ্যানেই সুখ লাভ করে থাকে। মনের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে স্থায়ীভাবে ধারণ করাকে ধারণা বলে। দীর্ঘস্থায়ী গভীর ধ্যানকে সমাধি বলে। সমাধি অবস্থায় সাধক জ্ঞানভূমি স্পর্শ করতে পারেন। আমাদের অধিকাংশ জ্ঞানই যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে অর্জিত জ্ঞান। এতে সত্য এবং অসত্যের মিশ্রণ থাকে। কিন্তু সমাধির জ্ঞান নির্ভেজাল সত্য জ্ঞান। সমাধিতে গিয়ে সাধক মহাজ্ঞানী হয়ে উঠতে পরেন। এ সমাধিতেই সাধক অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ দেখে থাকেন। তিনি তখন অতীতের বার বার জন্ম-মৃত্যুর বিষয়াদি অবলোকন করে মুক্তিকামী হয়ে ওঠেন। সমগ্র মন যখন একটি মাত্র তরঙ্গে পরিণত হয়, মনের এ একরূপতার নামই ধ্যান।

মানবদেহ একটি জটিল বায়োক্যামিক্যাল সংমিশ্রণে পরিচালিত হয়। দেহের অসংখ্য গ্রন্থি বা অর্গান থেকে অসংখ্য প্রকার রস নির্গত হয়ে দেহকে পরিচালিত করে। সঠিকভাবে এবং সঠিক পরিমানে রস নির্গত হলেই আমরা স্বাস্থ্যবান থাকি এবং এর অন্যথা হলেই আমরা রোগাক্রান্ত হই। যেমন প্যানক্রিয়াস থেকে প্রয়োজনের কম ইসনুলিন নির্গত হলে আমরা ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত হই। আবার প্যানক্রিয়াস থেকে অতিরিক্ত ইনসুলিন নির্গত হলে আবার দেহে খাবারের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ফলে দেহে নানা প্রকার অসামঞ্জস্য দেখা যায় এবং দেহে নানা প্রকার ব্যাধির সৃষ্টি  হয়। সমতাই যোগ এবং অসমতাই রোগ। যোগের মাধ্যমে আমরা আমাদের দেহকে অক্সিজেন ভরে ফেলি। সাধারণভাবে আমরা প্রতিটি শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করি। কিন্তু যোগী প্রতিটি গভীর শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে ৫০০০ থেকে ১০০০০ মিলিলিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। ফলে যোগীর দেহের প্রতিটি কোষ অক্সিজেনে ভরে উঠে। কোষগুলো শক্তিশালী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অক্সিজেনের মধ্যে কোনো জীবাণু রাখলে তা শীঘ্রই মারা যায়। ফলে যোগীর দেহ সর্বদা সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম থাকে এবং যোগী দীর্ঘজীবন লাভ করেন।

যোগ মন নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মন আত্মার যন্ত্রস্বরূপ এবং এ মন দ্বারাই আত্মা বাহিরের সাথে সংযোগ রক্ষা করে থাকে। মনের আবার অর্ন্তদৃষ্টি আছে এবং এ শক্তির সাহায্যে সাধন নিজ অন্তরের গভীরতম বিষয়সমূহ দেখতে পারে। এ অর্ন্তদৃষ্টি শক্তি লাভ করাই যোগীর উদ্দেশ্যে। মনের সমুদয় শক্তিকে একত্র করে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে ভিতরে কি হচ্ছে তা যোগী জানতে চায়। যোগীরা বিশ্বাস করেন যে মনের একটি উচ্চাবস্থা আছে। যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে এ জ্ঞানাতীত অবস্থা। এ উচ্চাবস্থায় যোগী তর্কের অতীত এক পরমার্থ জ্ঞান বা অতিন্দ্রিয় জ্ঞান লাভ করেন। যোগীরা বিশ্বাস করেন মানবমনের শক্তি অসীম।

সাধারণ মানুষের মন বহির্মুখী। পঞ্চ ইন্দ্রিয় এবং ষড় রিপুর তাড়নায় অনবরত বানরের মতো লাফায় মন। বানরকে মদ খাওয়ালে, বিছুটিকায় কামড়ালে এবং তার মধ্যে অশরীরী প্রভাবে যে ধরনের চঞ্চলতা দেখা দেয়, মানুষের মনও তেমনি অহংকার, লোভ এবং পরশ্রীকাতরতার কারণে সর্বদা অস্থির থাকে। এ মনকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। কিন্তু যোগী দীর্ঘ সময় যোগসাধনার দ্বারা বহির্মুখী মনকে অর্ন্তমুখী করে মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যোগীরা বিশ্বাস করেনÑ মনের শক্তি অপরিসীম। এ মনোশক্তি প্রয়োগ করেই যোগী নিজেকে সুস্থ করতে পারেন। শক্তির অসামঞ্জস্যতাই রোগ। অন্তর্মুখী মনের মাধ্যমে যোগী শরীরের যে অংশে শক্তির অভাব আছে তা পূরণের ফলে তার দেহ সুস্থ হয়ে ওঠে।

জ্ঞানার্জন মানবজীবনের অন্যতম একটি সেরা কাজ। যোগী ধ্যানের মাধ্যমে এ জ্ঞানার্জন করে থাকেন। গভীর ধ্যানকে সমাধি বলে এবং এ সমাধিতে গিয়েই যোগী জগতের সত্যসমূহ দর্শন করে থাকেন। মূর্খও যদি সমাধিতে যায় তবে সমাধি ভঙ্গের পর তিনি মহাজ্ঞানী হয়ে উঠতে পারেন। যোগী সাতটি পর্যায়ে এ উচ্চতর জ্ঞান লাভ করে থাকেন। যখন জ্ঞান লাভ হতে থাকে তখন একটির পর আর একটি করে সাতটি স্তরে এ জ্ঞান আসতে থাকে। প্রথম পর্যায়ে যোগী বুঝতে পারেন যে তিনি জ্ঞান লাভ করছেন। তখন সমস্ত অসন্তোষের ভাব চলে যায়। দ্বিতীয় পযায়ে সকল দুঃখ চলে যাবে। তৃতীয় পযায়ে যোগী পূর্ণ জ্ঞান লাভ করবেন। চতুর্থ পযায়ে বিবেক সহায়ে সকল কর্তব্যের অবসান হবে। পঞ্চম অবস্থায় চিত্তবিমুক্তি অবস্থা আসবে এবং যোগী বুঝতে পারবেন যে তার বাধা-বিপত্তি সবে চলে গিয়েছে। ষষ্ঠ অবস্থায় চিত্ত বুঝতে পারবে যে, ইচ্ছামাত্রই উহা স্ব-কারণে লীন হয়ে যাচ্ছে। সপ্তম অবস্থায় যোগী বুঝতে পারবেন যে তিনি নিজ স্বরূপে আছেন। মন বা শরীরের সাথে আত্মার কোনো সম্পর্ক নেই। এরা আত্মার সাথে কখনও যুক্ত ছিল না। আত্মা একাকী, নিঃসঙ্গ, সর্বশক্তিমান, সর্বব্যাপী এবং সদানন্দ। আত্মা এত পবিত্র এবং পূর্ণ যে, তার আর কিছুই প্রয়োজন ছিল না। কারণ আত্মা পূর্ণস্বরূপ। ইহাই যোগীর চরম অবস্থা। যোগী তখন ধীর ও শান্ত হয়ে যান। তিনি আর কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেন না এবং দুঃখ আর তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি জানতে পারেন যে, তিনি নিত্যানন্দস্বরূপ এবং নিত্যপূর্ণস্বরূপ। এ জীবনেই তিনি মুক্তি লাভ করেন।

মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আধ্যাত্মিক সাধনা। শক্তির দুটি রূপ। পাশবিক রূপ এবং আধ্যাত্মিক রূপ। পাশবিক শক্তির গতি নিম্নমুখী এবং আধ্যাতিক শক্তির গতি ঊর্ধ্বমুখী। মেরুদণ্ডের নির্মাংশের সামান্য নিচ কুলকুণ্ডলিনী বা মূলাধারের অবস্থান এবং দেহের শক্তির কেন্দ্র এ মূলাধার। মূলাধারে দেহের সমস্ত শক্তি সুপ্তাবস্থায় সঞ্চিত থাকে। আমাদের মেরুদণ্ডের মধ্যে তিনটি নাড়ি আছে। মেরুদণ্ডের বামদিকে ইড়া (চন্দ্রনাড়ি) এবং ডানদিকে পিঙ্গলা (সূর্যনাড়ি) এবং মেরুদণ্ডের মাঝখানে সুষুম্না নাড়ির অবস্থান। ইড়া এবং পিঙ্গল আজ্ঞাবাহী নাড়ি এবং মস্কিষ্কের আদেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেহের মধ্যে এগুলো কাজ করে। সাধারণ মানুষের দেহে সুষুম্না নাড়ির কোনো কার্যকারিতা নেই এবং এর নিম্নাংশ বদ্ধ থাকে। যোগীরা যোগসাধনার দ্বারা সুষুম্না নাড়ির নিম্নাংশ খুলে ফেলেন এবং শক্তি ঊর্ধ্বমুখে চালিত করেন। মূলাধারা থেকে মাথা পর্যন্ত মেরুদণ্ড সংলগ্ন আটটি চক্র আছে। সর্বনিম্নে মুলাধার চক্র, তারপর স্বাধিষ্ঠান চক্র, মনিপুর চক্র, অনাহত চক্র, বিশুদ্ধ চক্র, আজ্ঞাচক্র, ললনাচক্র এবং মাথায় সহস্রদলচক্র। নিম্নভূমি মূলাধার চক্র থেকে সর্বোচ্চ সহস্যদল চক্রে পৌঁছলে পাশবিক শক্তি ওজঃশক্তিতে পরিণত হয়। মানুষের অধ্যাত্মিক শক্তিই এ ওজঃশক্তি। মানুষের জ্যোতির্ম্ময় দেহের কারণও এ ওজঃশক্তি। কুণ্ডলিনী শক্তি জাগরিত করাই দিব্যজ্ঞান, জ্ঞানতীত অনুভূতি বা আত্মানুভূতি লাভের একমাত্র উপায়। কেউ সৃষ্টিকর্তার প্রেমে, কেউ সিদ্ধ মহাপুরুষের কৃপায় আবার কেই সূক্ষ্ম জ্ঞানবিচার দ্বারা কুণ্ডলিনী জাগরিত করেন।

যোগের আগুনে পাপ ক্ষয় হয়। আমরা প্রতিনিয়ত কম বেশি পাপ করে থাকি। যোগ অনুশীলনে পাপের ক্ষয় হয় এবং তখন চিত্তশুদ্ধি হয়। ফলে দেহ, মন এবং আত্মা সাধনার জন্য উপযোগী হয়। প্রত্যক্ষানুভূমি ছাড়া কেউ ধার্মিক হতে পারে না। যোগ প্রত্যক্ষানুভূতি অর্জনের ভিত্তিস্বরূপ। পরোপকার এবং মানবকল্যাণই যোগীর জীবন ধারণের মূল উদ্দেশ্য। সাধনার মাধ্যমে যোগীরা জগতের সত্যসমূহ দর্শন করে থাকেন।

জন্মের মতো মৃত্যুও একটি মহাসত্য। যোগী স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে পৃথিবী থেকে অমৃতের পথে যাত্রা শুরু করেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় দেহের নয়টি পথের একটি দিয়ে দেহ থেকে আত্মা বের হয়। আত্মার দেহ থেকে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। কিন্তু যোগীর আত্মা সাধনার ফলে বের হওয়ার পথ আগেই প্রস্তুত রাখেন। যোগীর আত্মা দেহ থেকে ব্রহ্মতালু দিয়ে বের হয়। ফলে মৃত্যুর সময় তার কোনো কষ্টই হয় না। তিনি আনন্দের সাথে দেহ ত্যাগ করতে পারেন।

প্রত্যেকটি ধর্মই কতগুলো বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ বিশ্বাসের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারা যায় না। কিন্তু রাজযোগ ধর্মবিজ্ঞান। ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখা দিতে রাজযোগ সমর্থ। পদার্থবিজ্ঞান যেমন বাহ্য উপায়ের দ্বারা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়, তেমনি রাজযোগ অন্তঃশক্তি মনকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতিতে বাহ্য বা আভ্যন্তরীণ বলে কিছু নেই। বাহ্য প্রকৃতি অন্তঃপ্রকৃতি একটি প্রতিবিম্ব মাত্র।
আজ ২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’। পৃথিবীর সকল দেশেই এ দিবস পালিত হচ্ছে। যোগের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের উদ্দেশ্য। এ বছর সৌদি আরবের সরকার তাদের দেশের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যোগ অনুশীলন বাধ্যতামূলক করেছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে যোগ অনুশীলনে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর সকল মানুষ যোগ অনুশীলনের মাধ্যমে দিব্য, যোগ্যময় জীবনযাপন করে সুস্থ, সবল, কর্মক্ষম দেহ এবং দীর্ঘজীবন লাভ করুক আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এটাই প্রত্যাশা।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভস

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy