প্রকাশ: বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩, ৫:১৮ পিএম (ভিজিট : ৩০২)

X
মানুষের হৃদয়, মনের পরিপুষ্টি সাধনের পরিবর্তে মাত্রাধিক আরাম ও যান্ত্রিক উপকরণ বাহুল্য তাদের যন্ত্র মানবে পরিণত করছে। জীবনের গভীরত্ব উপলব্ধির অবসর আজ মানুষের নেই। সিনেমা, টেলিভিশন, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ প্রভৃতি মানুষের অবসর সময়কে গ্রাস করেছে। মানুষ এখন অধিকাংশ সময় কাটায় যন্ত্রের সান্নিধ্যে। ফলে তার হৃদয়, মন, আবেগ, অনুভূতি সবই যন্ত্রের সুরে বাঁধা।
জীবনকে জানার, জীবনের উদ্দেশ্য বোঝার সময় মেলেনা আজ কারো। মিললেও সে সময়ে একটু কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ জায়গা দখল করেছে। মানবসভ্যতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যান্ত্রিক কলাকৌশল। সময় বাঁচানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সংস্পর্শে মানুষও হয়ে উঠছে যান্ত্রিক। নিজের জন্য সময় বের করা আজ আর হয়ে ওঠে না একজন করপোরেট চাকরিজীবীর। কিংবা স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাটাও আজ স্মার্টফোন পেলে বাইরে খেলতে যাওয়ার বা ঘুরতে যাওয়ার বায়না করেনা।
প্রযুক্তির সংস্পর্শে মানুষ বৈশ্বিক হয়ে উঠলেও ঘরকুনো স্বভাবও তৈরি হচ্ছে শিশুদের মাঝে। তরুণ প্রজন্ম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সামাজিক কল্যাণমূলক কাজকর্মে তাদের অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্য সাইটগুলোতে যে পরিমাণ সচেতনতার বার্তা এই প্রজন্ম পোস্ট করছে প্রতিনিয়ত, তার অর্ধাংশও যদি তারা বাস্তবিক সমাজে করে দেখাতো তাহলে আজকের পৃথিবী কবেই সকল নেতিবাচকতা কাটিয়ে উঠতে পারত।
যান্ত্রিকতা যেন শুধু যন্ত্রের মাঝেই আবদ্ধ থাকে তা যেন মানুষকে গ্রাস না করে সেদিকে আজ মনোযোগ দেয়ার সময় এসেছে। মানুষকে হতে হবে মানবিক দায়িত্ব জ্ঞানসম্পন্ন, তার মানবিক চিন্তাভাবনাই পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলবে। যন্ত্র নয়, মানুষ যেন নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাবু/এ.এস