
X
বঙ্গবন্ধুর সার্বজনীন শিক্ষানীতির আলোকে উদ্দীষ্ট জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষা সেবা পৌঁছে দিয়ে কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধি করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাউবি কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে বাউবির কর্মমুখী শিক্ষা। বাঙালি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালিতে বাউবির স্টাডি সেন্টার চালু করা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে প্রবাসে বাঙালি জনগণ দারুণ খুশি। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসী অথবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসীরা বাউবির অনলাইন প্ল্যাাটফর্ম ব্যবহার করে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে লেখাপড়া করতে পারছে। বিদেশের মাটিতে লেখাপড়া ও পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাচ্ছেন সার্টিফিকেট।
শুক্রবার ৩০ জুন ২০২৩ বাউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে উপাচার্য বাসভবনে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিনন্দন জ্ঞাপন ও সৌজন্য সাক্ষাতকালে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশে^র বিভিন্ন দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা, প্রবাসী গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদসহ সকলের সহযোগিতা নিয়ে শীঘ্রই ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যেরবিভিন্ন দেশে বাউবির স্টাডি সেন্টার খোলা হবে। প্রবাসে অবস্থানকারীদের শিক্ষিত আত্মমযার্দাশীল, দক্ষ, কর্মক্ষম ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে দক্ষতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাউবি, নিড বেইজ প্রোগ্রাম, কোর্স ডিজাইন ও শিডিউল তৈরি করেছে। জীবনের তাগিদে লেখাপড়া শেষ না করে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা প্রবাসে অবস্থান করে অর্থনেতিক উন্নতিতে অবদান রাখছেন। আমরা যদি এসব জনবলকে শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আন্তর্র্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকার সুযোগ করে দিতে পারি তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে এবং তারাই হবে দেশের দক্ষ জনবল।
ইতোমধ্যে বাউবি বাংলাদেশের জেলা উপজেলা, গ্রামগঞ্জ, দুর্গম পাবর্ত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণের মাধ্যমে আলোকিত করতে পেরেছে। বাউবি এসএসসি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ফটোগ্রাফার বাউবির শিক্ষার্থী। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আমলা থেকে শুরু করে মাঠের কৃষক, শিল্পকারখানার শ্রমিক, নারী, গৃহিনী সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে বিস্তৃত ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, ১৫৬২টি স্টাডি সেন্টার নিয়ে বিস্তৃত বাউবির কর্মকাণ্ড। ফরম্যাল নন-ফরম্যাল শিক্ষা প্রোগ্রামসহ সব বয়সের সকল পেশার মানুষ নিয়ে বাউবি প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থীর বৃহৎ এক পরিবার। তিন দশকে বাউবি সক্ষম হয়েছে তার লক্ষ্যকে স্পর্শ করতে।
তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আরও বলেন। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন তারুণ্যদীপ্ত, প্রযুক্তিনির্ভর, সময়োপযোগী, গতিশীল ও সততা-শুদ্ধতার অনন্য আদর্শিক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাউবিকে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে আন্তজার্তিকভাবে সুপরিচিত। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরিতে গবেষণায় দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। পাশাপাশি জার্মানি, ইংল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ভারতে ভূতত্ত্ব গবেষণায় তিনি সংযুক্ত আছেন। অতিথি বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি ২০০৩ সালে ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির সাথে সংযুক্ত হন। তিনি বাংলা পিয়ার (এনএসএ পিয়ার প্রজেক্ট) গবেষণা দলে হিমালয়ান ও বার্মিজ ডিফরমেশন ফ্রন্টে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরি ও ছয়টি স্থায়ী সিসমিক স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ৩০টি জিওডেটিক জিপিএস স্টেশন সিস্টেম এবং ২৭টি পোর্টেবল সিসমোগ্রাফের প্রতিষ্ঠাতা। দেশে সিডিমেন্ট সেমপল রিপোজিটরি এবং ডাটা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ জিওলজিক্যাল সোসাইটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর দি এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স, বাংলাদেশ সোসাইটি অব জিও ইনফরমেটিকস, ইনকর্পোরেটেড রিসার্চ ইনস্টিটিউশনস ফর সিসমোলজি সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যুক্ত।
বাউবির নানামুখী কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে তিনি সকল মহলের প্রশংসা অর্জন করেছেন। তিনি একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, একাডেমিক, প্রশাসনিক, মিডিয়া, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মাঠপর্যায়ে শিক্ষাসুবিধা বিস্তারে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁর নির্দেশনা ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, লোক বক্তৃতামালা, স্মারক বক্তৃতা, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস, ভাষাদিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানসহ নানা বিষয়ের ওপর বাউবিতে মিডিয়া ডকুমেন্টরি তৈরি করা হয়েছে। অবসারপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে সম্মাননা অনুষ্ঠান, শিক্ষাসুবিধা বিস্তরণ, গবেষণায় উৎসাহিত করণ, সরকারের সাশ্রয়িকরণ নীতি জোরদার করণ, সংস্কৃতির বিকাশে উৎসাহ প্রদান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনয়নসহ বাউবির নানামুখী কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে তিনি সকল মহলের প্রশংসা অর্জন করেছেন।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার ৩০ জুন ২০২১ তারিখে বাউবিতে দায়িত্বভার গ্রহণের পর কাজের গতি, সৃজনশীলতা এবং এপিএ তে বাউবি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে । বাউবি ২০২১-২২ অর্থবছরের এপিএ মূল্যায়নে ১৬ ধাপ এগিয়ে ৯০.৪৯ পয়েন্ট পেয়ে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাউবি ৪র্থ স্থান অর্জন করে। তথ্যপ্রযুক্তি যে গতি ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদেরকেও সেই গতিতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিণির্মাণে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী শিক্ষার মান উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে।
লেখক : পরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত), তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগ, বাউবি
-বাবু/এ.এস