
X
সঙ্গীত থেরাপি হচ্ছে ওষুধ ও সার্জারি ব্যবহার না করে সঙ্গীতের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক রোগ নিরাময়ের একটি পদ্ধতি। এটি একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি একটি প্রাকৃতিক সমন্বয় যা মানুষের নৈতিক ও মানসিক ব্যাধি উপশম করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষ মানসিক প্রশান্তি ও সান্ত্বনা পেয়ে থাকে। সঙ্গীতের প্রশান্তি মানব শরীর ও মনের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবার একটি শাখা যা গ্রিক সভ্যতায় ব্যবহৃত হতো। গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস, প্লেটো, গ্যালেন, গ্যালিয়াস, অ্যাসক্লেপিয়াস, অ্যারিস্টটল প্রমুখ চিকিৎসাক্ষেত্রে সঙ্গীত থেরাপিকে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করতেন। পিথাগোরাসকে গ্রিক সভ্যতার সঙ্গীত থেরাপির জনক বলা হয়। তিনি মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি নিরাময়ে সঙ্গীত থেরাপির প্রচলন করেন। ইসলামি স্বর্ণ যুগে আব্বাসীয় আমলে (অষ্টম-দ্বাদশ শতাব্দী) চিকিৎসায় সঙ্গীত থেরাপি ব্যবহৃত হতো। প্রখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী, দার্শনিক আল কিন্দি, ইখওয়ানাল সাফা, আল রাজি, আল ফারবি, মহিউদ্দিন ইবনে আরাবি, ইবনে সিনা প্রমুখ গ্রিক দর্শনের অনুসারী। তাঁরা সঙ্গীত থেরাপিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁরা ছিলেন এর ব্যবহারকারী।
সঙ্গীতের সাথে যে সব বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হতো তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ঢোল, করতাল, পিয়ানো, বেহালা, বীণা, উদ, জিথার, বাঁশি, তাম্বুরাইন, গং। মানসিকতা বা আত্মার প্রতীক ছিল বাঁশি আর উদ ছিল আগুন, পানি, বাতাস ও মাটির প্রতীক। উদকে মনে করা হতো বাদ্যযন্ত্রের রাজা। অ্যারিস্টটল মনে করতেন, পৃথিবী সৃষ্টির চারটি উপাদান আগুন, পানি, বাতাস ও মাটির সাথে পৃথিবীর যে রূপ সম্পর্ক, সঙ্গীতের সাথে মানুষ ও মহাজাগতিকতার সে রূপ সম্পর্ক। ইখওয়ান আল সাফার ধারণা ছিল মানুষ ও রাশির সাথে সঙ্গীতের সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইবনে সিনা পৃথিবীর উপাদান বা রাশির সাথে সঙ্গীত সম্পর্কিত সকল মতামত প্রত্যাখ্যান করেন। পদার্থবিদ হিসেবে আল সাফাই প্রথম সঙ্গীতের শব্দ পর্যবেক্ষণ করে এর ধরন, প্রকৃতি, প্রভাব ও শ্রেণিবিভাগ করেন। তিনি শ্রোতার উপর সঙ্গীতের জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি মনে করতেন যে, সঙ্গীতের সাথে মানসিক, আত্মিক ও রহস্যময়তার একটা সম্পর্ক রয়েছে।
আব্বাসীয়, জেনজিদ, আয়ুবিদ, মামলুক, সেলজুক-আনাতোলীয় ও অটোমান আমলে সঙ্গীত থেরাপির জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল স্থাপিত হয়। আব্বাসীয় হাসপাতালগুলোর মধ্যে আল-আদুদি হাসপাতাল ও আল মনসুর হাসপাতাল, জেনজিদ আমলে বিমারিস্তান নূর আল দিনবাস হাসপাতাল, আয়ুবিদ যুগে বিমারিস্তান আল-কায়মারি হাসপাতাল, মামলুক যুগে বিমারিস্তান আল আরঘুনি, সেলজুক-আনাতোলীয় যুগে গেভের নেসিবি দারুসিফা, ডিগ্রিগি উলু মসজিদ এবং আমাস্য দারুসিফা এবং অটোমান যুগে ফাতিহ দারুসিফা, বুরসা ইলদ্রিম ও এড্রিন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব হাসপাতালে মানসিক রোগীদের জন্য সঙ্গীত থেরাপি দেওয়া হতো। এসব হাসপাতালের স্থাপত্য কীর্তি ছিল চমৎকার ও বাদ্যযন্ত্রের উপযোগী। ছিল মানসিক রোগীদের জন্য বিশাল বাগান, পুল, ফেয়ারা, বৃষ্টি পড়ার আওয়াজ শোনার ব্যবস্থা, মেলোডিক মোড বা মাকামের ধরন ইত্যাদি।
বিভিন্ন ধরনের মাকাম ছিল। সেলজুক আমলে রেহবি, হুসেনি, রাস্ত, বুসেলিক, জিরগুলে, উসাক, হেজাজ, ইরাকি, এসফাহান, নেভা, বুজুর্গ জিরেকফেন্দ প্রভৃতি। প্রতিটি মাকামের আলাদা আলাদা ফাংশন ছিল এবং তা রোগীকে প্রভাবিত করত। প্রতিটি মাকাম ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকত। যেমন উসাকা মাকামের উপযুক্ত সময় ছিল দুপুর বেলা, জিরগুলে মাকামের সময় ছিল দুপুরপূর্ব। বুজুর্গ মাকামের সময় ছিল রাতে বিশেষ করে এশার নামাজের পর। একেকটি মাকামের জন্য একেকটি সময় নির্দিষ্ট ছিল। ভয় ও উদ্বিগ্নতা দূর করতে এ মাকামটি পরিবেশিত হতো। তবে রোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেও সঙ্গীত পরিবেশন করা হতো।
ইসলামে আরেক ধরনের সঙ্গীত ছিল যা ধর্মীয় সঙ্গীত হিসেবে অভিহিত। তাকে বলা হতো সমা বা সামা যা সুফিরা অনশীলন করত। ধর্মীয় সঙ্গীতের মধ্যে ছিল আদন, তালবিয়া, যিকর, তাসবিহ ও আল কুরআনের তেলওয়াত। এদেরও নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ছিল যা শ্রোতার উপর প্রভাব ফেলত। হাসপাতালের ভবনের অন্তর্নির্মিত পরিবেশের ফলে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক শব্দ, বাগানে পাখির সুমিষ্ট স্বর, জলের ফোয়ারায় জল পড়ার শব্দ প্রভৃতি এক ধরনের সঙ্গীত হিসেবে কাজ করত। মানসিক রোগীদের জন্য এটা ছিল খুবই উপকারী। এড্রিন হাসপাতালের পৃষ্ঠপোষক রোগীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য তিনজন গায়ক ও সাতজন বাদ্যকার সমন্বয়ে দশজনের একটি সঙ্গীত দল নিযুক্ত করেছিলেন। তারা সপ্তাহে তিনবার গান গেয়ে রোগীদের বিনোদন দিতেন।
মুসলিম চিকিৎসকদের মধ্যে আল-কিন্দি (৮০১-৮৭০) চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রথম সঙ্গীত থেরাপির প্রচলন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম যিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত একটি শিশুকে নিরাময় করতে সঙ্গীত থেরাপি প্রয়োগ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, রসায়নবিদ, জ্যোতিষী, জ্যোতির্বিদ, মনোবিজ্ঞানী, আবহাওয়াবিদ, সঙ্গীত বিশারদ। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের উপর দুইশত পয়ষট্টিটি বই লেখেন। এর মধ্যে তাঁর দশটি বই রয়েছে সঙ্গীতের উপর। যেমন কিতাব আল-আ’জাম ফাই আল-তালিফ; রিসালাহ ফী ইসবি আল জামানিয়া; রিসালাহ ফিন সিনাটি আল আকভালি আল-আদিদীয়া; মুহতসর আল-মুসিকা ফাই তে’লিফ আল-নাগাম ওয়া সান’আত আল-উদ; রিসালাহ ফাই আলমাদখাল ইলা সিনাট আল-মুসিকা; রিসালা ফাই কিস্মাত আল-কানুন; রিসালাহ ফাই হুবার সিনাআর আল-তেলিফ আলহান; কিতাব আল-মুসোয়াওয়িতাত আল-ওয়াটারিয়া মিন যাত আল-ওত্তার আল-ওয়াহিদ ইলা যাত আল আশরাত আল-আত্তার; রিসালা ফাই আল-লুহুন ওয়া আল-মাগহাম; এবং রিসালাহ ফাই এজ্জা হুবরিয়া ফী আল-মুসিকা। এ দশটি বইয়ের ছয়টি বই হারিয়ে গেছে। তিনি তাঁর সঙ্গীতবিষয়ক বইগুলোতে সঙ্গীতের অনেক তত্ত্ব দিয়ে গেছেন, বিশেষ করে রিসালাহ ফাই হুবার সিনাআর আল-তেলিফ আলহান (On the Composition of Melodies) গ্রন্থে। তিনি গ্রিক সঙ্গীত তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন এর তার ভিত্তিতে আরবীয় সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ছিলেন প্রথম সঙ্গীত শিল্পী যিনি সঙ্গীতের বারো টোন ক্রোম্যাটি স্কেলের গাণিতিক বিবরণ প্রদান করেন, যা ছিল প্রথম টিউনিং বা সুরসঙ্গতি। তিনি সঙ্গীতের গুণগত মান নির্ণয়ে নিচে-উপরের অক্টেভ সুরগুলো চিহ্নিত করেন। তিনি আবজাদ সঙ্গীত স্বলিপির বিকাশ ঘটান।
সমসাময়িক দার্শনিক ও চিকিৎকদের ন্যায় আল-রাযি (৮৬৫-৯২৫) বলেন, চিকিৎসা সেবায় সঙ্গীতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তিনি মানসিক বিষাদ দূরীকরণে সঙ্গীত শোনার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থ ‘আল মনসুরি’ এ উল্লেখ করেছেন যে, আমির মনসুর বিন নুহ বিন নসর দীর্ঘদিন ধরে রোগে- শোকে, দুঃখ-কষ্টে ভুগছিলেন। তিনি তখন তাঁকে গান শোনার ব্যবস্থাপত্র দেন। শোক-তাপ, দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকতে তিনি যেকোনো বিনোদনমূলক কার্যক্রমের মত দিয়েছেন। তবে তিনি রক্তের হোলি খেলা, বাঘ, সিংহ, ভালুকের ন্যায় মাংসাশি হিংস্র প্রাণির সাথে লড়াই করার খেলার বিপক্ষে ছিলেন।
আল ফারাবি (৮৭২-৯৫৬) ছিলেন একজন দার্শনিক, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, গণিতবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার। তিনি গণিত, পদার্থবিদ্যা, সমাজবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, দর্শন ও সঙ্গীত প্রভৃতি বিষয়ের উপর প্রায় একশত ষাটটি বই লেখেন। সঙ্গীতের উপরই তিনি আটটি বই লেখেন। সঙ্গীতের উপর তাঁর প্রখ্যাত বই ‘কিতাব আল মুসিকি আল কাবির’ (সঙ্গীতের মহান বই)। তিনি সঙ্গীতকে ব্যবহারিক বিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, সঙ্গীতের যেমন রয়েছে বিশ্বজনীন মাহাত্ম্য, এর পাশাপাশি আত্মার উপর এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তিনি ছিলেন এমন একজন সঙ্গীত শিল্পী যিনি তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে শ্রোতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাসাতে, কাঁদাতে ও ঘুমাতে পারতেন। ফারাবি সঙ্গীতের কতগুলো আধান নির্ধারণ করেছিলেন এবং সেগুলোকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পরিবেশনের কথা বলেছেন। যেমন-সকালের নামাজের পর রেহবি ও হুসেইনি, সূর্য উঠার পর রাস্ট, দুপুরের মাঝামাঝিতে জেনগুলে, সন্ধার নামাজের পর নেভা, রাতের নামাজের পর বুজর্গ এবং ঘুমোতে যাওয়ার পূর্বে জিরেফকান্দ। রেহবি তাঁকে দিত পরমাত্মার সাথে একাত্মতার অনুভূতি, হুসেইনি দিত শান্তির অনুভূতি, রাস্ট দিত সুখ ও প্রশান্তি, জেনগুলে দিত ঘুমের আকাক্সক্ষা, নেভা দিত রসালু, সুস্বাদু ও সতেজতার অনুভূতি, বুজুর্গ দিত ভয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের অনুভূতি, সাবা দিত শক্তি ও সাহস ও হিকাজ দিত বিনয়ী হওয়ার আকাক্সক্ষা।
ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭) ছিলেন দার্শনিক, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ ও সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁর অনেক বই হারিয়ে গেছে। কানুন ফিততিব, কিতাবুশ শিফা, কিতান আল নেজাত হচ্ছে তাঁর উল্লেখযোগ্য বই। কিতাবুশ শিফা ও কিতান আল নেজাত গ্রন্থে সঙ্গীত কিভাবে মানবদেহের উপর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইবনে সিনা আল ফারাবি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তিনি স্বতন্ত্রভাবে একটি নিয়মতান্ত্রিক সঙ্গীততত্ত্ব প্রকাশ করেন। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে তিনি সঙ্গীতকে গণিতের তৃতীয় শাখা হিসেবে অভিহিত করেন। ইবনে সিনার মতে, সঙ্গীত রোগের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, Inter omnia exserciatia sanitatis cantane melius est (Singing is the best practice to protect health) (সঙ্গীত হচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে ভালো অভ্যাস)।
ইবনে বাজা (১০৯৫-১১৩৮) পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন, সঙ্গীত প্রভৃতি বিষয়ের লেখক, দার্শনিক। তিনি মনে করেন, গণিতে বিভিন্ন বিজ্ঞান রয়েছে, সঙ্গীত সেগুলোর মধ্যে একটি। তিনি ছিলেন সঙ্গীত রচয়িতা ও সুরকার। তিনি সুর নিয়ে একটি লেখাও রেখে গেছেন। তিনি ব্যাখা করে দেখিয়েছেন, সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের সুর কিভাবে মানুষের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আগুন, পানি, বাতাস ও মাটি এ চারটি উপাদান যেমন একটির সাথে অন্যটি জড়িত, তেমনি বীণার সুরগুলোও একটির সাথে আরেকটি জড়িত। রসচতষ্টয় (বায়ু, পিত্ত, কফ ও রক্ত) সংঘটিত রোগ বালাই থেকে মুক্তি দিতে বীণার সুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বীণার সুরকে তিনি চারভাগে ভাগ করেছেন এবং সেগুলো শরীরের কোন অংশে কী প্রভাব ফেলে তাও ব্যাখ্যা করেছেন। চারটি সুর হচ্ছে Zir, Mathna, Mathlat, Bam. জির পিত্তথলের উপর, মাথনা রক্তের উপর, মাথলাত কালো পিত্তের উপর এবং বাম কথের উপর কাজ করে। বীণাবাদক কীভাবে বীণাকে তার শরীরের সঙ্গে সেট করবে এবং কোন আঙ্গুল দিয়ে কোন সুর তুলবে তার নির্দেশনাও তিনি দিতেন। একজন গায়ক যদি সঠিকভাবে বাদ্যযন্ত্রের সুর তুলতে পারেন, তবে তার দিনটি সুন্দরভাবে অতিবাহিত হয়। এ মহান প্রতিভাবান মানুষটিকে রক্ষণশীল গোষ্ঠী নির্মমভাবে হত্যা করে। অকালে মৃত্যুও কারণে তাঁর লেখাগুলো অসমাপ্ত থেকে যায়। তাঁর দার্শনিক তত্ত্বগুলো ইবনে রুশদ ও আলবার্টাস ম্যাগনাসকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো গ্যালিলিওসহ অনেককে আকৃষ্ট করেছিল।
মুসা ইবনে হামুন (মৃত্যু : ১৫৫৪) ছিলেন অটোমান সুলতান মহান সুলেমানের একজন মহান চিকিৎসক। দন্ত চিকিৎসায় তিনি সঙ্গীত থেরাপি প্রয়োগ করতেন। এভাবে গ্রিক সভ্যতার সঙ্গীত থেরাপি দর্শন ইসলামি সভ্যতায় স্থান করে নেয়।
লেখক : লালন গবেষক, সহযোগী অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর
বাবু/এ.এস