প্রকাশ: শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩, ৩:৩৮ পিএম (ভিজিট : ১৩৯)

X
ভয়াবহ মাদকের মারাত্মক ছোবলে আগামীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয় এখন মাদক নিতে দেখা যায় পথশিশুদেরও। তাদের নেতিবাচক পারিপার্শ্বিকতা মাদককে করেছে এই অবহেলিত শিশুদের জন্য সহজলভ্য। এখনি সচেতন না হলে এর ভয়াবহতায় সমাজ হবে কলুষিত।
ঢাকার গুলিস্তান, খিলগাঁও, কমলাপুর, মালিবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা এলাকাসহ অলিতে-গলিতে এবং বস্তির অনেক জায়গাতেই পথশিশুদের নেশা করতে দেখা যায়। পথশিশুদের কেউ কেউ দিনের বেলা নেশা করলেও বেশির ভাগই নেশা করে রাতে। কেউ একা, আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে সংঘবদ্ধ হয়ে নেশা করে। পলিথিন, প্লাস্টিক ছাড়াও নিজের পরিধেয় জামায় ড্যান্ডি গাম লাগিয়ে নেশা করে তারা। কিছুক্ষণ পর পর ঘ্রাণ নিয়ে নেশায় বুদ হয়ে যায় সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা। পিতামাতাহীন ভবঘুরে জীবনযাপন তাদের। কারও বা পিতামাতা আছে কারও বা নেই।
কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিক, লোহা কিংবা পুরনো জিনিস বিক্রি করে পেট চালায় তারা। ঘাড়ে চটের বস্তা নিয়ে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এসব পথশিশুরা। সারাদিনের সংগৃহীত ভাঙারি বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে একবেলা খাবার কিনে খায় আর বাকি দুই বেলাই নেশা করে তারা।
বর্তমানে পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই এখন প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাদকে আসক্ত। ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পট রয়েছে। এসব জায়গায় ৯-১৮ বছর বয়সি শিশুরা মাদক সেবন করে। দেশে মাদক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পথশিশুদের কাছে মাদক বিক্রির জন্য একটা সিন্ডিকেট কাজ করে। ভাঙারি ক্রেতারাই শিশুদের কাছ থেকে ভঙারি কিনে নেয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের হাতে মাদক তুলে দেয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশের সর্বশেষ আদমশুমারিতে ভাসমান মানুষের সম্পর্কে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, দেশে চার লাখের মতো পথশিশু রয়েছে যার অর্ধেকই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকাতে। মাদকের চোরাচালান, বাজারজাত ও সামগ্রিক বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কোমলমতি শিশু-কিশোররাও। পথশিশুদের কাছে মাদক হিসেবে আকর্ষণীয় মরণঘাতী নেশা ড্যান্ডি দেশের যুবসমাজ থেকে শুরু করে নারী-শিশুরাও আজ মাদকের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
দেশগড়ার কারিগর সম্ভাবনাময় তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মাদক। মাদকের কারণেই অনেক মা-বাবার বুক ফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে যায়। আর এই মরণ নেশার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামাজিক কাঠামোয়, আর্থসামাজিক উন্নয়নে, ভারসাম্যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এক কথায় জীবনের সর্বত্র। অতএব, এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাবু/এ.এস