প্রকাশ: শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩, ৪:১২ পিএম (ভিজিট : ৩৪৪)

X
সাধারণ জনগণের মধ্যে চিকিৎসাসেবার প্রাথমিক শিক্ষা ও সচেতনতা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথাই যদি বলি এখানে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন রোগী আসছে, রোগীকে সহযোগিতা করার মতো অজ্ঞ-বিজ্ঞ দুই ধরনের লোকই পাওয়া যাবে। তারা কাছাকাছি কোনো নিরাময় কেন্দ্রে নিয়েও যাবেন। সমস্যার শুরুটা হয় এরপর থেকে। আমাদের একটা জাতীয় চরিত্র হল আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের স্বার্থের বেলায় আন্তরিক, যতক্ষণ না তার সাথে নিজ স্বার্থের সংযোগ ঘটে। আর এ কারণেই সমস্যার শুরু হয় কেননা এর পরবর্তী ধাপগুলোই কারো না কারো স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
কিছু অভিযোগ যা অনেক পূর্ব থেকে করা হচ্ছে যেমন বিভিন্ন হাসপাতালে নার্স এবং ডাক্তারদের কাজ করে থাকে ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা, যার ফলে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এধরনের কাজ যে শুধু মাত্র সরকারি হাসপাতালে-ই লক্ষ করা যায় বিষয়টি এমন নয়; প্রাইভেট হাসপাতালে তা আরও ভয়াবহ অবস্থা। প্রাইভেট হাসপাতালে ওযার্ডভয় গলার অপারেশন করতে গিয়ে রুগীর মৃত্যুর মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
এসব সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবনা একই ডাক্তার দিয়ে যাবতীয় জটিল রোগের চিকিৎসার সনাতনী পদ্ধতি পরিহার। সঠিকভাবে সরকারি ঔষধ সরবরাহ এবং বিলি নিশ্চিত করা। ডাক্তারদের চাকরির বয়স এবং যোগ্যতাসাপেক্ষে প্রমোশনের ব্যবস্থা করা। প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে অন্তত একজন পাবলিক রিলেসন্স অফিসার নিয়োগ। অনতিবিলম্বে দেশে প্রয়োজনানুযায়ী মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেখান থেকে বেড়িয়ে আসবেন চিকিৎসক-নার্স যা আমাদের দেশের চিকিৎসক-নার্স এর ঘাটতি পূরণে করতে সক্ষম হবে। পরিচালনা ব্যাবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায়ে অবস্থানরত ডাক্তারদের শহরের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। প্রতিটি নিরাময়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স এবং মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা করা। প্রতিটি ডাক্তারকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এফসিপিএস ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তৈরি করা। সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রতিটি নিরাময়কেন্দ্রে ক্লোজ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ। যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই সম্ভব। যেসব ব্যক্তিবর্গ হাসপাতাল পরিচালনা করেন তাদের দেশের বাইরে চিকিৎসা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিৎ। হাস্যকর মনে হলেও বলব এলাকার প্রতিটি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি অফিসারদের স্থানীয় সরকারি নিরাময়কেন্দ্রগুলো থেকে চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।
একটি হাসপাতালের রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ সবার সুযোগ-সুবিধা দেখা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা পুরো স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ বাজেট কীভাবে কোথায় খরচ করতে হবে, সেটির পরিকল্পনা ও তদারকি করার দক্ষতা এই ব্যবস্থাপকের থাকতে হবে। জবাবদিহিতা থাকতে হবে পরিকল্পনামাফিক কাজ ঠিকমতো না হলে তার ব্যাপারে জবাবদিহি করার পরিবেশ থাকতে হবে। ব্যবস্থাপকদের যেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, তেমনি কাজে ত্রুটি থাকলে সেই ব্যাপারে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া চিকিৎসকদের রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো জন্য সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নিরাময়কেন্দ্রগুলোতে রোগীরা সেবা নিতে আসেন বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসার আশায়। গরিব রোগীদের শেষ আশ্রয়স্থল এই সরকারি হাসপাতাল। আর তাই স্বাস্থ্যসেবা খাতের আমূল পরিবর্তন জরুরি।
ইন্টার্ন শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বাবু/এ.এস