প্রকাশ: বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩, ৮:০৪ পিএম (ভিজিট : ১৫০)

X
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করে অনতিবিলম্বে জামিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।
বুধবার সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দীন খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে খাদিজার মুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চুপ থাকারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেবল সরকারবিরোধী প্রচারণা ও কটূক্তির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস জামিন না দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এভাবে জামিন না দিয়ে খাদিজারমত একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রাষ্ট্র কোনোভাবেই ধ্বংস করে দিতে পারে না।
সুজনের পক্ষ থেকে খাদিজাকে অবিলম্বে জামিন দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খাদিজার বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলার জামিন শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর থেকে খাদিজার জামিনের আবেদন আদালত কর্তৃক বারবার খারিজ হচ্ছে। খাদিজাকে জামিন না দেওয়া চরম অমানবিক এবং আইন ও নীতি বিরুদ্ধ, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব ও বিচারবিভাগের স্বাধীনতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্ব খাদিজাকে জামিন দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা রকমের নিবর্তনমূলক আইনগুলো বাতিলেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে বলা হয়, নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা হরণের লক্ষ্যেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা রকমের নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় এর আগেও দেশের অনেক মানুষ কারারুদ্ধ ও নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এমনকি কারো কারো মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সব প্রকার মানবাধিকারের চালিকা শক্তি। মানুষকে মুক্ত স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। কেননা এভাবে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে মানুষের কণ্ঠ রোধ করা যায় না। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনের রেখে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।
বাবু/জেএম