
X
২০১৮ সালের মতো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হওয়ার কথা। ২০১৮ সালে বিএনপি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে গিয়েছিল। বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি দেখছে জনগণ তাদেরকে সমর্থন জানাচ্ছে না। মোটকথা তাদের জনসমর্থন প্রায় শূন্যেও কোঠায় বলা চলে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত মোট ৩০০ আসনের মধ্যে পাঁচটি আসন পেয়েছিল। তারা যখন দেখতে ছিল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে আসার ফলে জনগণ তাদেরকে বয়কট করেছে এমন অবস্থায় বিএনপি সংবিধান অস্বীকার করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার চাচ্ছে যা সংবিধান অনুযায়ী অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে এখন আগামী নির্বাচনে নানান রকম ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসতে চাই। যার ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংবিধান অনুযায়ী আসার পরেও ১৮ পরবর্তী নির্বাচনে না আসা এটাই প্রমাণ করেÑ তারা বাংলাদেশের সংবিধানকে সম্মান করে না ও বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছাকে সমর্থন করে না।
তাদেও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রেও প্রতিফলন তাদের বর্তমানের কর্মকাণ্ড দ্বারা একদম স্পষ্ট। মানে বিএনপি ও তাদেও জোট আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিদেশিদের কাছে ধরনা ধরছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপকেও বিক্রি করতে পস্তুত। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ পেরিয়ে যখন একান্ন বছরে পা রেখেছে ঠিক তখনই বিএনপি-জামায়াত তাদের পূর্ব ষড়যন্ত্র যেমনটা ষড়যন্ত্র করেছিল ১৯৭১ সালে এ দেশকে নিয়ে ঠিক সেরকমই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের রূপরেখা তৈরি করছেন তখনই বিপরীত দিকে ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্র বিক্রির রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি জামায়াত জোট। বিএনপি-জামায়াত জোট আগামী ২০২৪ সাল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীদের নামে নানান রকম অপপ্রচার ও গুজব চালিয়ে যাচ্ছে। মূল কারণ হচ্ছে সন্ত্রাস-জঙ্গি-হামলা-বোমাবাজি করে ক্ষমতায় বসার আকাক্সক্ষা। তাদের যদি বোমাবাজি করে ক্ষমতায় বসার আকাক্সক্ষা নাই থাকতো তাহলে তারা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার অঙ্গীকার করত।
তাছাড়া সংবিধানিক পদ্ধতিতে ২০১৮ সালে যে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামায়াত জোটকে বর্জন করেছে তাদের উচিত ছিল বর্তমানে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে এসে জনগণের কল্যাণে কাজ করে জনসমর্থন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। কিন্তু তারা তা করছে না। তারা তারা কীভাবেই বা করবে তাদের ঘারের উপর ভর করেছে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য বিএনপি যে ষড়যন্ত্র করছে সেই ষড়যন্ত্রকে শক্ত হাতে রুখে দিতে সংবিধানিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে দেশের মানুষ গত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও দেখিয়েছে। অবাদ সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণকে সংবিধানিক পদ্ধতিতে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন বর্তমান নির্বাচন কমিশন।
গত কয়েক মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনের সুষ্ঠুভাবে হয়েছিল সেখানে তার উপযুক্ত প্রমাণ হল জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আনন্দের সাথে ভোটদান। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বিএনপির তৃণমূল জনগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছেন সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে আসা উচিত। বিএনপির তৃণমূল বুঝলেও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাকর্মীরা বুঝতে পারছেন না বিষয়টি। এ বিষয়টি না বুঝতে পারার কারণ হলো তারা বাংলাদেশের সংবিধানকে সম্মান করেন না; সংবিধানিক পদ্ধতিতে তারা নির্বাচনে আসতে চান না। বরং ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে চান। শুধু তাই নয় সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে আসলে দেশের জনগণ পূর্বের মতো বিএনপিকে বর্জন করবে এটা জেনেই বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছেন, তোমার সরকারের অধীনে সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং উপনির্বাচনে সুস্থ হয়েছে এটা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছেও স্পষ্ট। শুধুমাত্র অস্পষ্ট হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি সংগঠন ষড়যন্ত্রকারী বিএনপি-জামায়াতের কাছে। বিএনপি শাসনামলে উপনির্বাচনে ভোট দিতে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি কারণ, তারা তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভোট লুট করেছিল। দেশের মানুষ যখনই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনও হয়েছিল। বিপরীতে, জনগণ কখনই সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপিকে ভোট দেয়নি। কারণ, তাদের জনগণের সেবা এবং উন্নতির জন্য কাজ করার কোনো আগ্রহই নেই বরং বড় ধরনের দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছানোর কাজেই ব্যস্ত ছিল।
আমাদের মনে রাখা উচিত সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপিকে কেউ ভোট দেয়নি। তাই তারা ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বরং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে মানুষকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের মানুষ বারবার দেখে আসছে বিএনপির রাজনীতির পুঁজি হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও দুর্নীতি লুটপাট ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের লিপ্ত থাকা এবং দেশের চলমান উন্নয়নকে অস্বীকার করা। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করার সুযোগ দেবেন এবং বিএনপিকে বয়কট করবেন। আগামী ২০২৪ সালের নির্বাচন সংবিধানের পদ্ধতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের জনগণ মুখিয়ে আছে।
লেখক : ট্রেজারার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বাবু/এ.এস