উজরা জেয়ার বাংলাদেশ সফরের প্রাসঙ্গিকতা

ইরিনা হক

মতামত

ইউএনবি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উজরা জেয়া যা উল্লেখ করেছেন তা অনেকের উচ্ছ্বাসের বেলুন উড়িয়ে দিয়েছে। সহিংসতা প্রত্যাখ্যান

2023-07-19T14:53:44+00:00
2023-07-19T14:53:44+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
উজরা জেয়ার বাংলাদেশ সফরের প্রাসঙ্গিকতা
ইরিনা হক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০২৩, ২:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ১৯৮)
X


ইউএনবি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উজরা জেয়া যা উল্লেখ করেছেন তা অনেকের উচ্ছ্বাসের বেলুন উড়িয়ে দিয়েছে। সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করা এবং সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও ন্যায্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াপ্রচার করা ছিল তার দুটি প্রধান দাবি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করতে চায়। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ নই। সাক্ষাৎকারে উজরা জয়া স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকারকে সমর্থন করা। তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের বিষয়টি এবং বয়কটকে বাংলাদেশের জনগণের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার সম্প্রতি দেশটি সফর করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা সংঘাত সৃষ্টি করেছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীতে জোয়ার-ভাটা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে দুটি রাজনৈতিক দল। ঔপনিবেশিক প্রভুর মানসিকতার কিছু ব্যক্তি নব্য-ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে অবাধে আত্মসমর্পণকরার সুযোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। সরকারি দলে লুকিয়ে থাকা সুযোগপ্রত্যাশীদের মুখে কিছুটা উদ্বেগ ছিল।

কূটনৈতিক মহলের পর্দার আড়ালে অসংখ্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব কৌতূহলী ছিল। সাধারণ ভোটাররা তাদের ব্যালটের মূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল যদি বহিরাগতরা কে ক্ষমতায় থাকবে তা বেছে নেয়। এসব গুজবের অবসান ঘটিয়ে আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জয়ার বহুল আলোচিত সফর শেষ হয়েছে। এ সফরে কে কী পেয়েছে তা নিয়ে একটি তীক্ষè বিশ্লেষণ চলছে। এটি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে পরিস্থিতি চলছে তা দেশের স্বাধীনতার প্রতি অসম্মানজনক। সম্পর্কের কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, আমাদের দেশের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা আমাদের বন্ধু। সুতরাং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তারা প্রায়শই অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি রাজ্যগুলোর সরকার এবং জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্য রাখে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার তাদের আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। তারা আমাদের প্রভু নয়, আমাদের বন্ধু।

রাষ্ট্রদূতের বাড়িকে প্রভাবিত করার জন্য আমরা কতো নিচে ডুবে যাব! সরকার সম্পর্কে আমাদের যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তবে একটি সভায় জনসাধারণকে সম্বোধন করা উপযুক্ত। জনগণ নিজেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আওয়ামী লীগ যদি গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে এবং বিএনপির প্রতি এত বেশি জনসমর্থন থাকে, তাহলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সুষ্ঠু আন্দোলন দমনে কোনো প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ ব্যবহার করা অসম্ভব হবে।

যদি তা না হয়, তবে এটি উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ যে জনগণ সক্রিয়ভাবে সরকারকে সমর্থন করছে। জনগণের সমর্থন ছাড়া একটি সরকার বেশিদিন কাজ করতে পারে না। এটা সম্ভব যে শেখ হাসিনা প্রশাসনের সাম্প্রতিক দুটি নির্বাচন পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে এই সরকার গঠনের জন্য একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্বাচন নিঃসন্দেহে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে এবং যদি সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দল অংশ নেয় তবে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে। যারা ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদেরও ভয়ানক নির্বাচনের ফলাফলের জন্য কিছুটা দোষ বহন করা উচিত। নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট পদে জয়ের নিশ্চয়তা নয়। কিন্তু দায়িত্ব নিতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। তিনি হেরে গেলেও গণতন্ত্র বিরাজ করবে। কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে না থাকলেও জনগণ ক্ষমতা ধরে রাখবে। এটাই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের চাবিকাঠি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ঘোষণার পর অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা নিজেদের দলের অভিবাসন নীতির দাবি তোলেন। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নিজেকে রাজা বা রাণীর মতো বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাস রেখে রাষ্ট্রপতি হিসাবে বক্তব্য রেখেছিলেন। কারো সাথে কথা বলেননি। তার বাবার মতোই দৃঢ়তা ছিল তার। তার অবস্থান সারাবিশ্বে বাংলাদেশের নাগরিকদের অবস্থানকে উন্নত করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি যদি অসুবিধায় পড়তেন, তবে তিনি কোনও বিদেশি পর্যবেক্ষককে অনুরোধ করতেন না। 
শেখ হাসিনা ভালো করেই জানেন সক্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে নির্বাচনি জালিয়াতি আড়াল করা অসম্ভব। তিনি এটাও জানেনÑ তার বিশ্বাসের প্রাথমিক উৎস অন্য মানুষের উপর। তাকে কোনো বিদেশি শক্তি নেতা হিসেবে বসিয়ে বা অপসারণ করতে পারবে না। তাদের প্রতি তাঁর অবিচল বিশ্বাসের ফলে তাঁর প্রতি জনগণের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন যদি সাধারণ মানুষের একটি জরিপে জিজ্ঞেস করা হয়, তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায় এবং কার দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়, তাহলে শেখ হাসিনা সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পাবেন। ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার এই গ্রহণযোগ্যতা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্যও সুবিধাজনক হবে।

বিএনপির মূল ইস্যু হচ্ছে, পারিবারিক ও আইনি সমস্যার কারণে তারা তাদের ভাষণে ঘোষণা দিতে পারছে না, নির্বাচিত হলে কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্পষ্টতই, নেতৃত্বের পদে থাকা ব্যক্তিদের দলকে পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং জনগণ একটি অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছে এবং তাদেও অতীত রেকর্ড বিবেচনা করছে, কে বিএনপিকে ভোট দেবে এবং কেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জয়ার উপস্থিতি বিএনপির ক্যাডার-সমর্থকদের হতবাক করে দিয়েছে। চার দিনের এই সফরে তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আলোচনা করেন।

উজরা জেয়া বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে সমর্থন করতে চায়। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের অংশ নই। সাক্ষাৎকারে উজরা জিয়া স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকারকে সমর্থন করা। 
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সরকার এখন নির্বাচনি ইস্যু সম্পর্কে আরও ভাল বোধ করছে। বিএনপির ওপর চাপ ছিল উল্টো। তাদের বিরক্তি বাদ যায়নি। নোয়াখালীতে বিএনপি মহাসচিব ঘোষণা দেন, বিদেশিরা বোঝে না, জনগণ সরকারের পতন ঘটাবে। উজরা জেয়ার প্রবেশ ইস্যুতে বিএনপি দাবি করেছে, দেশে মানবাধিকার নেই এবং নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নেই বলেই বিদেশিরা ভ্রমণ করছে।

উজরা জেয়া আশেপাশে আওয়ামী লীগ-বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে বসেই এর বিপরীতটা শিখেন। এটা সত্য যে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আগে বাংলাদেশকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকারী রাজনৈতিক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত হতে কিছু রাজনৈতিক দলের অক্ষমতা তাদের রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য অসুবিধা। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু সমর্থন পাচ্ছে না;  বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া বিএনপির আর কোনো বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তা বিএনপিকে ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণ করে দেখাতে হবে।

লেখক : গবেষক 

বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy