পররাষ্ট্রনীতির চাবিকাঠি অর্থনৈতিক কূটনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার

মতামত

বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীতে আরও দেশ আছে, যেখানে হাইব্রিড শাসন বা স্বৈরাচারী সরকার রয়েছে। সেসব দেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ

2023-07-31T15:58:53+00:00
2023-07-31T15:58:53+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পররাষ্ট্রনীতির চাবিকাঠি অর্থনৈতিক কূটনীতি
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩, ৩:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৪৬৬)
X


বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীতে আরও দেশ আছে, যেখানে হাইব্রিড শাসন বা স্বৈরাচারী সরকার রয়েছে। সেসব দেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এমন দৃঢ় প্রত্যয় পরিলক্ষিত হয় না। গণতন্ত্রের পাশাপাশি তাই যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হচ্ছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি। বাংলাদেশ ঘিরে যে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক খেলা চলছে, তাতে জড়িত তিনটি বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিকসহ নানা কারণে গত বছরগুলোয় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই চায় যে বাংলাদেশ চীনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসুক। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক রণকৌশল এবং কোয়াড সংগঠন চীনের প্রভাবকে সীমিত করার লক্ষ্যেই সৃষ্ট। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেষ সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশ এই রণকৌশলে যুক্ত হোক। বাইডেন আমলেও এই প্রয়াস অব্যাহত আছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশ চীনবিরোধী একটি জোটে শরিক হতে আগ্রহী হয়নি। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীনের অযৌক্তিক দাবির বিষয়েও বাংলাদেশ বরাবর নীরব থেকেছে। অন্যদিকে, গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ যে ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক ঘোষণা করেছে, তার সঙ্গে মার্কিন রণকৌশল সাংঘর্ষিক নয়। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফর শেষে ২৬ এপ্রিল ঘোষিত যৌথ ইশতেহারেও তার প্রতিফলন আছে। এতে সমুদ্রসীমার বিষয়ে বাংলাদেশ আনক্লসের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে, যা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবির বিরুদ্ধে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষার যে প্রয়াস বাংলাদেশ করে আসছে, এতে তাই প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশে একটি মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে এমন প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভবত রয়েছে। ভিসানীতি থেকে শুরু করে কংগ্রেস সদস্যদের চিঠির মধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কৌশল সে কারণেই নিয়ে থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে চীনের অবস্থান সে তুলনায় অনেক সরল। বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে এ নিয়ে চীনের কিছু যায় আসে না। গত ১৫ বছরে চীন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেকটা জাঁকিয়ে বসতে সক্ষম হয়েছে। চীন বাংলাদেশের পণ্য আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাণিজ্যিক সুদে প্রচুর লগ্নি করেছে চীন। আবার অতিমূল্যায়িত অধিকাংশ মেগাপ্রকল্পে ঠিকাদারি করে চীনা কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। অন্যদিকে সীমান্ত এবং ভারত মহাসাগরে আধিপত্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। বাস্তববাদী চীন অবশ্যই প্রত্যাশা করে না যে ভূগোলকে অস্বীকার করে বাংলাদেশ কোনো সংঘাতে ভারতকে বাদ দিয়ে তার পক্ষ নেবে। চীনের প্রত্যাশা এই তিন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। বর্তমান সরকার এ প্রত্যাশা পূরণ করছে এবং তাদের ক্ষমতায় থেকে যাওয়া চীনের স্বার্থের অনুকূল। নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতিসহ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ অনমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। ১৪ জুন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শেখ হাসিনার অবস্থানকে সমর্থন করে বিবৃতি দেন এবং মার্কিন আধিপত্যবাদের তীব্র সমালোচনা করেন। কিন্ত চীনের তুলনায় ভারতের সমীকরণ অনেক বেশি জটিল। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র চলমান দ্বৈরথে ভারতের অভিন্ন স্বার্থ আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।

অথচ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে চাওয়া, তার সঙ্গে সুর মেলাতে পারছে না ভারত। আধুনিক পররাষ্ট্রনীতির কলিজার নাম অর্থনৈতিক কূটনীতি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমলা ও পেশাদার কূটনীতিকেরা যতটা বুঝতে পারেন, সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক কর্তারা ততটাই কম অনুধাবন করেন। তাই তাঁরা অতিবাচালতায় বিভোর হয়ে বহিঃসম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেন। পেশাদার কূটনীতিকদের কিছু করার থাকে না। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্ত্রীরা উচ্চবাক হলে সমস্যা নেই। রাজনীতির মাঠ গরম রাখতে হবে। মিডিয়ায় বেশি ফোকাস পেলে কোনো মন্ত্রী অতিকথনের রোগ থেকে মাঝেমধ্যে বিচ্যুতি কথনেও লিপ্ত হবেন এটাও মানুষ মেনে নেয়। কিন্তু পররাষ্ট্রদপ্তর সামলাতে হয় অল্প কথন দিয়ে পেশাদার কূটনীতিকদের তৈরি করা লিখিত বক্তব্য দিয়ে।

বঙ্গবন্ধুও এই পেশাদারীর সম্মান রাখতেন। পেশাদার কূটনীতিকদের সঙ্গে সব ঠিক করে নিতেন। তাই তিনি একজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেতা হয়েও পশ্চিমা দুনিয়া থেকে শান্তিপদক পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক মোড়লত্ব বা আঞ্চলিক মাতব্বরি বজায় রাখার স্বার্থে সামরিক ও কৌশলগত বিষয়গুলো ঠিক করা। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এই তিনটি দেশই তাদের প্রভাবের সাম্রাজ্য বিস্তারে ব্যস্ত। যদিও এই বিস্তারের কাজে কারও কৌশল আর্থিক ও জ্ঞানগত প্রভাব, কারওটা মধ্যযুগীয় মানে সরাসরি জমি দখল। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ সম্প্রতি পুতিনের বিপজ্জনক বিদ্যুৎ ও চীনা ঋণের অজস্র বিনির্মাণ প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার অতি উৎসাহে লিপ্ত। তাই মার্কিন সম্পর্ক আরও তিক্ত হলো। অথচ এর প্রয়োজন ছিল না। রাশিয়ান তেলের এক বিশাল ভোক্তা হয়েও ভারতের মোদি সরকার পুতিন-প্রীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েনি; বরং প্রধানমন্ত্রী মোদি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউক্রেন একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে তার সীমানাগত সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার অধিকার রাখে।

এটি সদা ক্ষুব্ধ পুতিনের রক্তচাপ আরও বাড়াবে কি না, তা বিবেচনায় আনেননি; বরং জাতিসংঘের সনদ মান্যতা ও গোঁয়ার প্রতিবেশী কর্তৃক আক্রান্ত না হওয়ার অধিকার যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদি পরিষ্কার করে দিলেন। ইউক্রেন আক্রমণকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বলে চালিয়ে দেননি। জটিল বিষয়ে মতামত যদি দিতেই হয়, তাহলে নিজস্ব সংবিধান ও জাতিসংঘের সনদের আশ্রয় নেওয়াই চৌকস কূটনীতির মূলকথা। যাঁরা ভøাদিমির পুতিনের মধ্যে একাত্তরের লিওনিদ ব্রেজনেভকে খুঁজতে যাচ্ছেন, তাঁদের চশমার ফ্রেম বদলাতে হবে। যাঁরা জো বাইডেনের মধ্যে রিচার্ড নিক্সনের ছায়া অনুসন্ধান করছেন, তাঁদের দৃষ্টিশক্তিই প্রশ্নসাপেক্ষ। একাত্তরের সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পরাশক্তির নাম, যা সারাবিশ্বে একটি মুক্তিকামী আলাদা পৃথিবী সৃষ্টি করতে পেরেছিল। বঙ্গবন্ধু সমাজতান্ত্রিক আদর্শের একটি সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। ভারতের ইন্দিরা গান্ধীও সে আদর্শে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সেই সমীকরণেই সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসম্যানরা শুধু কণ্ঠভোট দিয়ে জীবন পার করেন না। আপন বিচার বুদ্ধিতে মত প্রকাশ করেন। সে মত দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যেদিকেই যাক না কেন। কিন্ত দুঃখের বিষয় এ ব্যাপারে বাংলাদেশের একেক মন্ত্রী একেক তালিম দিচ্ছেন। এখানে কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দেওয়া হয়নি। তার জন্য দরকার ছিল পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সভায় সম্পূর্ণ একরকম বিবৃতি প্রকাশ করা। মার্কিন ভিসানীতিতে একাত্তরকে টেনে আনা ঠিক নয়। একাত্তরে চীনের ভূমিকাও ভালো ছিল না। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে কী নামে আখ্যায়িত করেছিল, সেটাও আমাদের মনে রাখার কথা।

অর্থনীতির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। তাই অর্থনৈতিক কূটনীতির সব বিদ্যাবুদ্ধি খাঁটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বুদ্ধিদীপ্ত কূটনীতির কাজ। লেনদেনের ভারসাম্যের যে স্থিতিপত্র, তার দিকে তাকালে এর সত্যতা পাওয়া যায় কঠিনভাবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃক্ষের গোড়ায় আছে তিনটি শিকড়Ñ রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও পুঁজি বা আর্থিক হিসাব। রপ্তানি আয় আছে বলেই আমরা আমদানি করতে পারি। রেমিট্যান্স আছে বলেই আমরা বাণিজ্য ও সেবা ঘাটতি মোকাবিলা করে চলতি হিসাবে ঘাটতি অনেকটা কমাতে পারি, যেটুকু পারি না, তা মেটাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসে আর্থিক হিসাবে। বিদেশি বিনিয়োগ চলতি হিসাবের ঘাটতির চেয়ে বেশি হলে লেনদেনের ভারসাম্য নিশ্চিত করে বাড়তি মুদ্রা চলে যায় বিদেশি মুদ্রার মজুত ভণ্ডারে। রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও বিদেশি বিনিয়োগ-এই তিন খাতেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে চ্যাম্পিয়ন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়া এর ধারেকাছে নেই। নেই চীনও। ভারতও নেই। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স দেয়-তার চেয়েও বড় কথা, এই রেমিট্যান্স স্থায়ী ও চিরমেয়াদি।

যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই আমাদের শ্রমশক্তিকে বিদায় করতে পারবে না। কারণ, সেখানে গুণগত প্রবাসায়ন হয়েছে। মুদ্রা প্রেরকেরা মার্কিন বাসিন্দা বা নাগরিক। প্রতিবছর ১০ হাজার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১০ বছরের মাথায় তাঁরা আরও আটগুণ আত্মীয়স্বজন নিয়ে যান সেখানে। লটারিতে যাওয়া মানুষও প্রচুর স্বজন দেশ থেকে নিয়ে গিয়েছেন। এ মিছিল চলছেই। প্রায় ১০ লাখ বাঙালি সেখানে বাস করেন। শুধু রেমিট্যান্স নয়, স্বদেশকে তাঁরা সমৃদ্ধ করেন জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও শিক্ষাগত সুবিধা দিয়ে, যা এককথায় অমূল্য। এই উপকার চিরজীবী ও ক্রমবর্ধমান। এর একাংশ সহায়তাও আমরা চীন বা রাশিয়া থেকে পাব না। কারণ, ওরা আমাদের পোশাক বা দ্রব্যও সেভাবে কিনবে না। কিংবা স্থায়ী অভিবাসন দিয়ে জীবনেও সাহায্য করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তেতো করার আগে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত ছিল। এখনো প্রতিকারের পথ হচ্ছে কূটনৈতিক অর্থনীতি বাড়িয়ে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। মাঝে মধ্যেই সেন্ট মার্টিন নিয়ে গেল, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উন্নত, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরান ও কিউবাকে কিছু করা যায়নি, ওরা বাংলাদেশের উন্নতিকে হিংসা করেÑ এ জাতীয় ভিত্তিহীন বাচালতা পরিহার করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর ঘন ঘন বাংলাদেশের প্রসঙ্গ নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে মানেই সম্পর্ক তিক্ত, যা অপ্রয়োজনীয় ও বাংলাদেশের স্বার্থনাশক। সমাজ শিক্ষিত হলে যেমন অনেক আইন অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে মার্কিন ভিসানীতিও আমাদের বিচলিত করবে না। আপাতত এ নিয়ে দুশ্চিন্তা বা বাচালতা কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। বরং কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় অবস্থানে নেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করাই হোক আমাদের রাজনীতিকদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাক এটাই হোক আমাদের সবার প্রত্যাশা। 

লেখক : গবেষক ও কলাম লেখক

বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy