
X
পুঁজিবাদ শুরু হয়েছিল অর্থনীতি কিভাবে কাজ করে তার একটি তত্ত্ব হিসেবে। এটি অর্থ কিভাবে কাজ করে তার একটি ব্যাখ্যা প্রস্তাব করেছিল এবং এই ধারণার প্রচার করেছিলো যে, মুনাফার পুনঃবিনিয়োগ কিভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়। কিন্তু পুঁজিবাদ ধীরে ধীরে নিছক একটি অর্থনৈতিক মতবাদের চেয়ে অনেক বেশি কিছুতে পরিণত হয়। পুঁজিবাদ এখন পরিবেষ্টিত করে আছে একটি নীতিশাস্ত্রকে, একগুচ্ছ অনুশাসনকে, যেগুলো শেখায় মানুষ কীভাবে আচরণ করবে, সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলবে এবং কিভাবে চিন্তা করবে। পুঁজিবাদের মুল বিশ্বাস হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নই পরম শুভ বা অন্তত এর বিকল্পরূপ। তাদের মতে, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সুখ পর্যন্ত নির্ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর। একজন পুঁজিবাদীকে জিজ্ঞেস করে দেখুনÑ কীভাবে জিম্বাবুয়ে বা আফগানিস্তানের মতো জায়গায় ন্যায়বিচার কিংবা রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব। উত্তরে সম্ভবত লম্বা এক ভাষণ শুনবেন যে, কীভাবে আর্থিক সচ্ছলতা এবং একটি উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য। আর তাই বিভিন্ন আফগান উপজাতিদের স্বাধীন উদ্যোগ, মিতব্যয়িতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার মূল্যবোধ আত্মস্থ করানো প্রয়োজন।
পুঁজিবাদ শুধু আধুনিক বিজ্ঞানের উত্থানেই নয়, বরং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের উন্মেষেও নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। আর ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের হাতেই প্রথমে পুঁজিবাদী ঋণ ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। অবশ্যই আধুনিক ইউরোপেই ঋণের উদ্ভাবন ঘটেনি, প্রায় সমস্ত কৃষিভিত্তিক সমাজেই এর অস্তিত্ব ছিল, এবং আধুনিক যুগের শুরুর দিকে ইউরোপীয় পুঁজিবাদ ছিল এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত। মনে রাখতে হবে, অষ্টাদশ শতকের শেষভাগের আগ পর্যন্ত এশিয়াই ছিল বিশ্ব অর্থনীতির পরাশক্তি। অর্থাৎ চৈনিক, মুসলমান অথবা ভারতীয়দের তুলনায় ইউরোপীয়দের পুঁজির পরিমাণ ছিল অনেক কম। ১৪৮৪ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস পর্তুগালের রাজার কাছে এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হন-তাকে একটি নৌবহরের অর্থায়নে সম্মত করাতে। এই বহর পশ্চিমমুখী যাত্রা করে পূর্ব এশিয়ায় যাবার নতুন একটি বাণিজ্য পথ খুঁজে বের করবে। জাহাজ নির্মাণ, রসদ সংগ্রহ এবং নাবিক আর সৈনিকদের বেতনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হত। পর্তুগালের রাজা এই বিনিয়োগ নিষ্ফল ভেবে কলম্বাসের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। কলম্বাস নিরাশ না হয়ে একে একে ইটালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং পুনরায় পর্তুগালের বিনিয়োগকারীদের হাজির হয়েও প্রতিবার প্রত্যাখ্যাত হল। এরপর কলম্বাস ভাগ্য পরখ করতে হাজির হল সদ্য একতাবদ্ধ স্পেনের শাসক ফার্ডিনান্দ ও রানি ইসাবেলার দরবারে। সাথে জুটিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কিছু ইহুদি অভিজ্ঞ তদবিরকারীদের। ফলে রানি ইসাবেলা কলম্বাসকে বিনিয়োগ দিতে রাজি হলেন। কলম্বাসের আবিষ্কারগুলো স্পেনীয়দের সহজ করে দিয়েছিল আমেরিকা জয়ে, যেখানে তারা সোনা -রূপার খনি স্থাপনের পাশাপাশি আখ ও তামাকের চাষ করেছে। এসবের আয় স্পেনের রাজা, ব্যাংকার এবং বণিকদের পক্ষে যতটা কল্পনা করা সম্ভব ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছিল। ষোড়শ শতকে স্পেন ছিল ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র, যার দখলে ছিল এক বিশাল বৈশ্বিক সাম্রাজ্য। সে সময় নেদারল্যান্ডস ছিল প্রাকৃতিক সম্পদহীন একটি ছোট ঝড়ো হওয়াপূর্ণ জলাভূমি। ১৫৬৮ সালে ওলন্দাজরা, স্পেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এর ৮০ বছর পর ওলন্দাজরা যে শুধু স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা সুরক্ষিত করলো তাই না, বরং স্পেনীয় এবং তাদের মিত্র পর্তুগজদের সামুদ্রিক মহাসড়কের প্রভুর আসন থেকে হটিয়ে দিল। সেই সাথে নির্মাণ করলো এক বৈশ্বিক সাম্রাজ্য এবং পরিণত হলো ইউরোপের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রে। ১৬০২ সালে ওলন্দাজ যৌথ পুঁজি কোম্পানি, দ্যা ভেরেনিগদে অস্টিনডিসো সংক্ষেপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ভিওসি শেয়ার বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে জাহাজ নির্মাণ করে সেগুলোকে এশিয়ায় পাঠাত। ভিওসি বণিকরা ১৬০৩ যখন প্রথম ইন্দোনেশিয়াতে পৌঁছায়, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল একদমই বাণিজ্যিক; জাহাজগুলো সেখান থেকে চৈনিক, ভারতীয় ও ইন্দোনেশীয় পণ্য নিয়ে ফিরে আসত। বাণিজ্যিক স্বার্থের সুরক্ষা এবং অংশীদারদের মুনাফা সর্বোচ্চ করার জন্য, ভিওসির বণিকরা উচ্চহারে শুল্ক ধার্যকারী স্থানীয় শাসকসহ অন্যান্য ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলো। বাণিজ্য পোতগুলোতে কামান বসাল, নিয়োগ দিল ইউরোপীয়, জাপানি, ভারতীয় এবং ইন্দোনেশীয় ভাড়াটে সৈনিকদের। দুর্গ নির্মাণ করে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ ও আক্রমণ শুরু করল। ভিওসির ভাড়াটে সৈনিকরা দ্বীপের পর দ্বীপ দখল করতে থাকে এবং দ্রুতই ইন্দোনেশিয়ার একটা বড় অংশ পরিণত হয় ভিওসির উপনিবেশে। ভিওসি যখন ভারত মহাসাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো, তখন আটলান্টিক দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলো ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোম্পানি। হাডসন নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নেবার লক্ষ্যে তারা নদীর মুখেই একটি দ্বীপে নিউ আমস্টারডাম নামে বসতি স্থাপন করে। এই উপনিবেশটি ইন্ডিয়ানদের হুমকির মুখে ছিল এবং ব্রিটিশরা এখানে নিয়মিত আক্রমণ করতো। শেষতক ১৬৬৪ সালে ব্রিটিশরা এর দখল নেয় আর নাম পরিবর্তন করে নিউইয়র্ক রাখে। ইন্ডিয়ান এবং ব্রিটিশ হামলা থেকে উপনিবেশ রক্ষার জন্য ডব্লিউআইসির তৈরি করা দেয়ালের অবশিষ্টাংশ ভেঙে যে রাস্তা তৈরি হয়েছিলো, সেটা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত রাস্তা ওয়াল স্ট্রিট।
১৭১৭ সালে ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত মিসিসিপি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি উপত্যকার নিম্নাঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপনের লক্ষ্যে নিউ অরলিয়ন্স নামের শহর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। ডোবা এবং এলিগেটর নামক এক কুমির প্রজাতি বাদে ১৭১৭ সালে মিসিসিপির নিম্নাংশে তেমন আকর্ষণীয় কিছুই ছিল না। তারপরও এই কোম্পানি সেখানে আশ্চর্যজনক ধনসম্পদ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনার গুজব ছড়ায়। ফরাসি অভিজাত, ব্যবসায়ী এবং শহুরে বুর্জোয়াগোষ্ঠীর অবিচলিত সদস্যরা এইসব কল্পকথার জালে আকৃষ্ট হয় এবং উচ্চাকাক্সক্ষী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানিটি প্যারিসের পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি করে। ফলে মিসিসিপির শেয়ারের দাম হয় আকাশচুম্বী। ৫০০ লিভ (মুদ্রার নাম) থেকে শুরু হয়ে ১৭১৯ সালে মিসিসিপির শেয়ার ১০০০০ লিভের কোঠা ছাড়িয়ে যায়। প্যারিসের রাস্তাগুলোতে যেন উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ তাদের সব সহায়সম্বল বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে মিসিসিপির শেয়ার কিনে নেয়। সবাই মনে করেছিলো তারা বুঝি এবার ধনী হবার সহজ উপায় পেয়ে গেছে। এর কিছুদিন পর শেয়ারের দাম হুহু করে কমতে শুরু করে। দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মিসিসিপির শেয়ার কিনতে শুরু করে। অবশেষে খোদ ব্যাংকের অর্থ ফুরিয়ে আসে। ফলে পুরো ফরাসি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুরে দেয়া হয় এক বুদবুদের ভেতর। বেশিরভাগ বড় বড় ফাটকা খেলোয়াড়রা সময়মতো শেয়ার বেচে দেয়। কিন্তু ছোট বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে তাদের সব, অনেকে বেছে নিয়েছিলো আত্মহত্যার পথ। এইটাই ব্রিটেনের হাতে ফ্রান্সের বৈদেশিক সাম্রাজ্যগুলো খোয়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। অবশেষে ১৭৮০ সালে ষোড়শ লুই ক্ষমতা গ্রহনের পর দেখলেন বাজেটের অর্ধেকই সুদের পিছনে খরচ হচ্ছে এবং তিনি শিঘ্রই দেউলিয়া হবার পথে এগিয়ে চলছেন। এভাবেই ১৭৮৯ সালে সূচনা হয় ফরাসি বিপ্লবের।
ফরাসিদের দেশের বাইরের সাম্রাজ্য যখন ক্ষয়ের পথে, তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বেড়ে চলেছিলো দ্রুতগতিতে। পূর্ববর্তী ওলন্দাজ সাম্রাজ্যের মতই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যও বেসরকারি যৌথ পুঁজির কোম্পানিগুলো দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও অনেকাংশেই পরিচালিত হয়েছিলো, যাদের ভিত্তি ছিল লন্ডন পুঁজিবাজার। সপ্তদশ শতকের গোড়ায় উত্তর আমেরিকায় প্রথম ইংরেজদের উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিলো কিছু যৌথ পুঁজি কোম্পানির দ্বারা, যেমন লন্ডন কোম্পানি, দি প্লাইমাউথ কোম্পানি, দি ডোরচেস্টার কোম্পানি এবং দি ম্যাসাচুয়েটস কোম্পানি। ভারতীয় উপমহাদেশেও দখল করেছিলো ব্রিটিশ রাষ্ট্র নয় বরং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভাড়াটে সৈনিকরা। নেপোলিয়ন ব্রিটিশদের নিয়ে ঠাট্টা করে বলতেন যে ওরা দোকানদারের জাত। এই দোকানদারের জাতই খোদ নেপোলিয়নকে পরাজিত করে তারই সাম্রাজ্য দখল করেছিলো। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং কতিপয় ব্রিটিশ ব্যবসায়ী চীনদেশে মাদকদ্রব্য, বিশেষকরে আফিম রপ্তানি করে আঙুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ হয়ে গিয়েছিলো। ১৮৩০ এর দশকের শেষ দিকে চীনা সরকার মাদক চোরাচালানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ব্রিটিশ মাদক ব্যবসায়ীরা সেই আইন অবজ্ঞা করে চলতে থাকে। চীনা কর্তৃপক্ষ তখন মাদকের চালানগুলোকে জব্দ এবং ধ্বংস করতে শুরু করে। ফলে ১৮৪০-৪২ সালে চীন এবং ব্রিটেনের মধ্যে সংঘটিত হয় আফিমের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে চীনারা পরাজিত পরাজিত হলে ব্রিটিশরা জোরপূর্বক হংকং দখল করে মাদক চোরাচালানের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত করে। উনবিংশ শতকের শেষ দিকে প্রায় ৪ কোটি চৈনিক অর্থাৎ চীনের মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগের ১ ভাগ আফিমে আসক্ত ছিলো; দুর্বল হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ। মিসরও বাধ্য হয়েছিলো ব্রিটিশ পুঁজিবাদের লম্বা হাতকে মেনে নিতে। উনবিংশ শতকে, ফরাসি ও ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা মিসরের শাসকদের বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছিলো সুয়েজ খাল প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য। চক্রবৃদ্ধিহারের এই ঋণ দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে আর ইউরোপীয়রা মিসরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। ১৮৮১ সালে মিসরীয় জাতীয়তাবাদীরা আর সহ্য করতে না পেরে বিদ্রোহ করে বসে এবং তারা সকল বৈদেশিক ঋণ বাতিল ঘোষণা করে। রানি ভিক্টোরিয়া এতে মোটেও খুশি হন নি। ১৮৮২ সালে তিনি তার সেনা ও নৌবাহিনীকে প্রেরণ করেন নীলনদে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার কিছুদিন পর পর্যন্ত মিসরকে করদরাজ্যে পরিণত করে রাখছিলো। ১৮২১ সালে গ্রিকরা উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এই বিদ্রোহে ব্রিটিশরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি গ্রহণ করে। তারা বিদ্রোহী নেতাদের কাছে লন্ডন পুঁজিবাজারে গ্রিক রেবেলিয়ন বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব করে। গ্রিকরা এই প্রস্তাব মেনে নেয়। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা বন্ড ক্রয় করে। লন্ডন পুঁজিবাজারে গ্রিক রেবেলিয়ন বন্ডের দাম ওঠানামা করতে থাকে হেলাসের যুদ্ধের সামরিক সাফল্য ও ব্যর্থতার সাথে তাল মিলিয়ে। ওসমানীয়রা যুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলে বন্ডের মালিকরা রীতিমতো মুক্তকচ্ছ হবার সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। কিন্তু বন্ডের মালিকদের স্বার্থই ছিল জাতীয় স্বার্থ। এজন্য ব্রিটিশরা একটি আন্তর্জাতিক নৌবহরের ব্যবস্থা করে, যা ১৮২৭ সালে নাভারিনোর যুদ্ধে ওসমানীয়দের মূল বহর ডুবিয়ে দেয়। এর কয়েক শতাব্দী পর গ্রিকরা স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু তাদের ঘাড়ে এসে পড়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ, যা পরিশোধ করার কোন উপায় ছিল না সদ্য স্বাধীন দেশটির। ফলে পরবর্তী কয়েক দশকে গ্রিসের অর্থনীতি ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের হাতে বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছিলো।
সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদের রাজনীতির এই আষ্টেপৃষ্ঠে আলিঙ্গনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব এমন এক পৃথিবী তৈরি করেছে যা একমাত্র পুঁজিবাদীই পরিচালনা করতে সক্ষম। এই জন্য বলা হয়ে থাকে যে, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদের যাদুচক্র ঋণ অর্থায়ন করে নতুন আবিষ্কারকে; আবিষ্কার পত্তন করে উপনিবেশ; উপনিবেশ যোগায় মুনাফা; মুনাফা গড়ে তোলে আস্থা; আস্থা রূপান্তরিত হয় আরো বেশি ঋণে; বিপুল পরিমাণ ঋণ দেউলিয়া করে দেয় একটি রাষ্ট্রকে।
লেখক : প্রভাষক, সরকারি ইস্পাহানী ডিগ্রি কলেজ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা
বাবু/এ.এস