শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ

রায়হান আহমেদ তপাদার

মতামত

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের দুঃসাহসী অভিযাত্রায় আন্দোলনের অগ্নিমশালের নাম শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি

2023-08-04T15:44:38+00:00
2023-08-04T15:44:38+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩, ৩:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ১৩০)
X


মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের দুঃসাহসী অভিযাত্রায় আন্দোলনের অগ্নিমশালের নাম শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। যার অনুপ্রেরণা, প্রণোদনা এবং নেতৃত্বে বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেখেছে। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় উদ্দীপ্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা এক গৌরবোজ্জ্বল আদর্শের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সার্থক উত্তরাধিকারী। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আপসহীন নেত্রী।

আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আজকের ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর মতো তার চরিত্রে মানুষের প্রতি বিশ্বাস-ভালোবাসা, সততা, দক্ষতা, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার বিশেষ গুণ বিদ্যমান। দেশের বাইরেও প্রশংসিত হয়েছে তার সাহসিকতা ও মানবতার রাজনীতি। সংকটকালে দাঁড়িয়েও ‘আরও সবুজ, আরও পরিচ্ছন্ন এবং আরও নিরাপদ’ বিশ্বের স্বপ্ন দেখেন তিনি। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদারমুক্ত গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থানের একমাত্র কারিগর। স্বাধীনতা পরবর্তী মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশকে গড়ে তুলছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা আজ পূর্ণতা পেয়েছে। সোনার বাংলার লক্ষ্য অর্জন শেষে বাঙালি জাতি এখন এক নতুন ডিজিটাল বাংলাদেশ অভিমুখে যাত্রা করছে। দেশের যেদিকে তাকাই শুধু নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প দৃশ্যমান হয়। শুধু উন্নয়নই নয় বঙ্গবন্ধুকন্যার মানবিক নেতৃত্বে, বাংলার মানুষের জীবনমান আমূল বদলে গেছে।

অভাব, মন্দা ও দারিদ্র্যের কড়াল গ্রাস থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ২২ থেকে ২৪ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম নগরী জোহানেসবার্গে ব্রিকসের ১৫তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শীর্ষ সম্মেলন ছাড়াও ব্রিকস নেতাদের আউটরিচ এবং ব্রিকস ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগস্ট মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠেয় ৫ দেশীয় এ জোটের সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাংলাদেশসহ ৮ দেশকে সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় অনুষ্ঠিত আইএলও সম্মেলনে যোগদানকালে দক্ষিণ আফ্রিকার  প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয় । ২০০৯ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন ব্রিক নামে একটি রাষ্ট্রীয় জোট গঠন করে। মূলত ব্রিক ধারণাটির প্রবর্তক ছিলেন বিনিয়োগ ব্যাংক দ্য গোল্ডম্যান সাচের অর্থনীতিবিদ জিম ও নেইল। ২০০১ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ এ চারটি দেশই অর্থনীতিতে প্রাধান্য দেখাবে। কারণ, এ চার দেশের অর্থনীতি দ্রুতবর্ধনশীল। তাদের শ্রম সস্তা, জনমিতি অনুকূলে এবং ব্যবহার করার মতো প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এ জোটে যোগ দিলে এর নতুন নাম হয় ব্রিকস। ২০০৬ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন প্রথম জোট গড়ার আগ্রহ জানান। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পাঁচ দেশের মন্ত্রীরা এ নিয়ে প্রথম বৈঠকে বসেন। ২০০৮ সালে রাশিয়ায় প্রথম মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর জাপানে অনুষ্ঠিত জি-এইট সম্মেলনে পুতিন বাকি দেশগুলোর সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
 
২০০৯ সালের ১৬ জুন রাশিয়ায় প্রথম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ব্রিকসের। বর্তমানে ব্রিকস গ্রুপ পশ্চিমের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর বাইরে একটি শক্তিশালী জোটে পরিণত হয়েছে। ব্রিকসভুক্ত দেশের মোট জনসংখ্যা ৩৪২ কোটি। মোট আয়তন ৪০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ এবং মোট আয়তনের ৩০ শতাংশ। ব্রিকস গ্রুপের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর সদস্যদের জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া এবং স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা! এই প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমা আধিপত্যের মোকাবিলা করা। এখানে উল্লেখ্য, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার পটভূমিতে ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে ক্রমশ। ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের প্রায় ২৮ শতাংশ ভূখণ্ড জুড়ে এর ব্যাপ্তি, যেখানে বিশ্বের ৪৫ শতাংশ মানুষের বসবাস। সব মিলে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল এবং ইস্পাত তৈরিতে ৫০ ভাগ আকরিক লোহা উৎপাদন করে থাকে। বিশ্বের ৪০ শতাংশ ভুট্টা এবং ৪৬ শতাংশ গম এ জোটভুক্ত দেশগুলোয় উৎপন্ন হয়ে থাকে। এসব কারণে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো তাদের প্রভাব ও উপস্থিতির জানান দিতে পেরেছে। এই নতুন সংস্থায় যোগ দেওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দিলে শুধু অর্থনীতি নয়, ভূরাজনীতিতেও নতুন মেরুকরণ ঘটবে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে বিকল্প মুদ্রা বা বিকল্প বাণিজ্য সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে  আইএমএফসহ বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে তা থেকে বড় আকারের ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যে তাদের অবদান ৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১৮ শতাংশ একটি প্রক্ষেপণে অনুমান করা হয় যে, ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক জিডিপিতে ব্রিকস দেশগুলোর অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ব্রিকস দেশগুলো বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিকল্প হিসাবে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক চালু করে এবং নতুন সদস্যদের জন্য তাদের দুয়ার খুলে দেয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের মূলধন নিয়ে, যার ২০ শতাংশ দিয়েছিল ব্রিকস জোটের দেশগুলো, যা ১০ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের। ২০২১ সালে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উরুগুয়ে ও বাংলাদেশ নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের শেয়ার গ্রহণ করে। তবে এ শেয়ারের মূল্য ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বিনিয়োগকৃত ১০ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক কম ছিল। তারপরও সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ায় অনেক দেশই এখন ব্রিকসে যোগ দিতে আগ্রহী। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ইরান, আর্জেন্টিনা, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরবসহ অনেক রাষ্ট্র। ব্রিকসের সম্ভাবনা দেখে আরও ২০টি দেশ সদস্যপদ লাভের আবেদন করেছে। যা বাস্তবায়িত হলে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরবর্তীকালে উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ব্রিকসের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ়করণ এবং গ্রুপ অব জি-৭ভুক্ত উন্নত দেশগুলোর বিকল্প মডেল দাঁড় করানোর লক্ষ্যও রয়েছে ব্রিকসের। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সব দেশ তাদের নিজস্ব মুদ্রা শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। ব্রিকস গ্রুপ সেই লক্ষ্য অর্জনে তাদের সাহায্য করতে পারে। এটি এমন এক বিকল্প ব্যবস্থা, যা এ দেশগুলোকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের তীব্র ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে। গত বছরে ১৪তম ব্রিকস সম্মেলনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছিলেন, ব্রিকস দেশগুলো এমন এক মুদ্রাব্যবস্থা চালু করবে, যা দিয়ে একটি নতুন বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা চালু করা যাবে এটি মার্কিন ডলারের আধিপত্যের জন্য সরাসরি হুমকি হবে এবং এর আধিপত্য খর্ব করতে সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল অনেক দেশের মুদ্রার ওপর নিম্নমুখী চাপ পড়ে। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে পণ্য, কাঁচামাল আমদানি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও বাধাপ্রাপ্ত ও ব্যয়বহুল হয়। ফলে, দেশগুলো থেকে পুঁজি চলে যাচ্ছে। এ বাস্তবতার নিরিখে এনডিবির বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক মুদ্রাব্যবস্থা বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ড সফরে বলেছিলেন, ব্রিকস যখন জোট করার প্রস্তুতি নেয়, তখন থেকেই বাংলাদেশ এর সঙ্গে ছিল, তবে ফাউন্ডার মেম্বার হওয়া যায়নি। এখন  মেম্বার হওয়ার সুযোগ এসেছে।

বাংলাদেশ চাচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেন এককভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল না হতে হয়। অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যেন অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যেন পাওয়া যায়, যা ব্রিকসে যোগ দেওয়ার সহায়ক সিদ্ধান্ত হিসাবে কাজ করেছে। বাংলাদেশের ব্রিকসে যোগদানের চ্যালেঞ্জও অনেক রয়েছে। যেমন-বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনীতিÑ এতে যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট হতে পারে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ বাজারই বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাঁচিয়ে রেখেছে। ইইউ আমাদের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার অধীনে যে কোনো পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুযোগ দিয়েছে। সে কারণেই আমাদের প্রায় অর্ধেক তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়ে থাকে ইইউতে। যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা না দিলেও দেশটিতে রপ্তানি হচ্ছে ২০ শতাংশ পোশাক। অন্যদিকে, ব্রিকসভুক্ত চীন ও ভারত বাংলা দেশের মোট আমদানির প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে, যা রপ্তানির চেয়ে বহুগুণ বেশি। ফলে, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি যা হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও ঋণ দিয়ে মেটাতে হয়। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের আন্তর্জাতিক প্রায় সব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। ফলে, বিভিন্ন সংস্থার ঋণ পাওয়া, অবরোধ থেকে রক্ষা পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সম্ভব হবে না। আবার বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিরাপত্তাকর্মী জাতিসংঘের মিশনে যায়, যা থেকে বাংলাদেশ একটি বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে গেলে বাংলাদেশ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
আসন্ন ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ সাংবিধানিক পথেই হাঁটছে। যেমন গণতন্ত্র, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন; মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নানা ইস্যুতে সরকার খুবই আন্তরিক। সব দলের অংশগ্রহণে এদেশে একটি নিরপেক্ষও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং সেভাবেই কাজ চলছে। এ ধরনের একটি সময়ে সরকার ব্রিকসের সদস্য হতে যাচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসব উদ্যোগের কারণেই একসময়ে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র বাংলাদেশকে বিশ্ব আজ সমীহ করছে। গত এক যুগে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের যে উন্নয়ন তা আজ বিশ্বনেতাদের কাছে এক বিস্ময়। এ কারণে ২০১৯ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে অভিহিত করেন।

২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে এ নতুন বাংলাদেশের পেছনে শেখ হাসিনার কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন বিশ্বনেতারা। একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এখন সম্মানিত করা হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। দেশের সামাজিক পরিস্থিতি উন্নয়নে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ মহান নেতার একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তার নান্দনিক নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ইমেজ গড়ে ওঠার স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এ কারণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে বাংলাদেশ। পরিশেষে বলব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও উদারতা বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy