হান্টিংটনের তত্ত্ব ও পশ্চিমা সামাজিক অবক্ষয়

ইলিয়াজ হোসেন রানা

মতামত

শীতল যুদ্ধোত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যতগুলো থিংকট্যাংকের আবির্ভাব ঘটে, যারা কি না আমেরিকার ভবিষ্যৎ স্বপ্নদ্রষ্টা, এদের বেশিরভাগই ছিলেন চরম

2023-08-20T16:37:30+00:00
2023-08-20T16:37:30+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
হান্টিংটনের তত্ত্ব ও পশ্চিমা সামাজিক অবক্ষয়
ইলিয়াজ হোসেন রানা
প্রকাশ: রোববার, ২০ আগস্ট, ২০২৩, ৪:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৬৮৫)
X


শীতল যুদ্ধোত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যতগুলো থিংকট্যাংকের আবির্ভাব ঘটে, যারা কি না আমেরিকার ভবিষ্যৎ স্বপ্নদ্রষ্টা, এদের বেশিরভাগই ছিলেন চরম ইসলাম বিদ্বেষী। তাদের বুদ্ধি, চিন্তা-ভাবনা সবকিছুর খোরাাকই যেন হয়ে ওঠে ইসলামি সভ্যতা। কীভাবে এই সভ্যতাকে বিনাশ করা যায় এটাই হয়ে ওঠে তাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু। জে. বি. ক্যালি ছিলেন মার্কিন থিংকট্যাংকদের অন্যতম একজন। তিনি তার লেখায় প্রায়শই আপেক্ষ করে বলতেন “পশ্চিমা বিশ্ব কেন এখনো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করছে না।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য সভ্যতা ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যে তত্ত্বটি বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের চরম ইসলাম বিদ্বেষী প্রফেসর স্যামুয়েল হান্টিংটনের “সভ্যতার দ্বন্দ্ব তত্ত্বটি”। এই তত্ত্বটিই পাশ্চাত্য সভ্যতাকে ইসলামি সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য বেশি প্ররোচিত করেছে। ১৯৯৬ সালে সভ্যতার সংঘাত নিয়ে তার এই তত্ত্বটি প্রকাশিত হবার পরপরই বিশ্বব্যাপী এক আলোড়ন তৈরি হয়। তার পক্ষে-বিপক্ষে বহু মণীষী ভিন্ন মত পোষণ করে। হান্টিংটনের এই তত্ত্বটি আংশিক ত্রুটিপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ বলছি এই কারণে যে, তথাকথিত পাশ্চাত্য সভ্যতা ইসলামি জীবন ধারার সাথে ঘোরতরভাবে সাংঘর্ষিক বটে, কিন্তু একে সভ্যতার সংঘাত বলা আদৌও সঙ্গত বা সমীচীন নয়। এই সংঘর্ষ প্রকৃতপক্ষে প্রবৃত্তিতাড়িত আদিম বর্বরতার সঙ্গে সত্য, শুভত্ব ও শাশ^ত জীবনবোধের সংঘর্ষ।

আমেরিকার থিংকট্যাংকগুলো পাশ্চাত্যের শত্রু হিসেবে প্রথমে দুটি অঞ্চলকে চিহ্নিত করে একটি উপসাগরীয় অঞ্চল তথা ইরাক-ইরান ও সিরিয়া। অপরটি মধ্য এশিয়ার অঞ্চল অর্থ্যাৎ ইসলামি রাষ্ট্র আফগানিস্তান। এ উদ্দেশ্যে তারা প্রথমে ইসলামি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরাককে টার্গেট করে এবং সাদ্দাম হোসেনকে কীভাবে উৎখাত করা যায় তার নীলনকশা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক দপ্তরে পেশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে “ইরাক স্বাধীনতা বিল” তৈরি করে আর এই বিলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন সই করার মধ্য দিয়ে ইরাক ও সাদ্দাম হোসেনের নির্মম ও নিষ্ঠুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্যদিকে কীভাবে আফগানিস্তান থেকে তালেবান শাসনকে উৎখাত করে সেখানে মার্কিন আধিপত্য বিস্তার করা যায় এর একটি পরিকল্পনাও তারা গ্রহণ করে। সে পরিকল্পনানুযায়ী তারা নিজেরাই ৯/১১-এর মতো ঘৃণ্য, বর্বরোচিত ট্র্যাজেডির ইতিহাস রচনা করে। পাশ্চাত্য সভ্যতার মুখোশধারীরা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে তারা একে একে লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়ামেনসহ গোটা ইসলামি বিশ্বকে মাত্র এক দশকের মধ্যেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে। স্যামুয়েল হান্টিংটন তার “সভ্যতার দ্বন্দ্ব” গ্রন্থে বিশ্বকে ৮টি সভ্যতার মাঝে বিভাজন করেন। তন্মধ্যে তিনি ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যকার সংঘাতকেই অধিক সম্ভাব্য বলে তার মত প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ইসলাম এবং খ্রিস্টান ধর্মের বিশ্বাসের মধ্যে ধর্মান্তকরণের অভিন্ন প্রতিযোগিতাও আজ বিদ্যমান। সংঘাতের এসব উপাদান বিবেচনায় নিয়ে স্যামুয়েল হান্টিংটন ইসলামি বিশ্বকেই কমিউনিজম পরবর্তী পাশ্চাত্যের প্রধানতম শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। অনেক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীগণ মনে করেন যে, হান্টিংটনের এই তত্ত্বই পশ্চিমাদেরকে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে হামলার মধ্য দিয়ে ইসলামি সভ্যতার বিরুদ্ধে এক অনন্তকালের যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

একবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমাদের ইসলামি সভ্যতার বিরুদ্ধে অনন্তকালের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যারা হান্টিংটনের “সভ্যতার দ্বন্দ্ব” তত্ত্বটিকে দায়ী করেন আমি তাদের সাথে মোটেও একমত নই। কারণ ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব প্রায় হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস। পোপ দ্বিতীয় আরবানের আহ্বানে ১০৯৬ সালে ইউরোপের ধর্মান্ধরা প্রাচ্যের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ধর্মযুদ্ধের সূচনা করেছিলো তার মাধ্যমেই সভ্যতা দুটির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সূচনা ঘটে। ১২৯১ সালে ক্রুসেডের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটলেও পরবর্তী শতাব্দী থেকে নিয়ে আজ অব্ধি বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন নামে সভ্যতা দুটির মধ্যে দ্বন্দ্ব পরিচালিত হয়ে আসছে। সুতরাং ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব নতুন নয় বরং বেশ পুরনো। এই পুরনো দ্বন্দ্ব বা সঙ্ঘাতকে আধুনিক বিশ্বে হান্টিংটন সম্পূর্ণ নতুন বা স্বতন্ত্র পরিভাষার আলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যভাবে বললে এই তত্ত্বকে বলা চলে পুরাতন বোতলে নতুন মদ রেখেছেন মাত্র। হান্টিংটন তার “সভ্যতার দ্বন্দ্ব“ তত্ত্বে আরো বলেছেন, ইসলামি সভ্যতা পশ্চিমাদের জন্য মূল সমস্যা নয়; বরং সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন সভ্যতার ধারক হওয়ার কারণে স্বয়ং ইসলাম ধর্মই তাদের মূল সমস্যা। কারণ এই ধর্মের অনুসারীরা তাদের নিজেদের জীবনাচার বা ইসলামের সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে। একইভাবে ইসলামের জন্যও সিআইএ কিংবা আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সত্যিকার কোন সমস্যা নয়, বরং পুরো পশ্চিমা সভ্যতাই তাদের জন্য একটা বড় সমস্যা। হান্টিংটন আমেরিকার সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স বা সিআইএ-কে মুসলমানদের প্রধান শত্রু মনে করার যৌক্তিকতাকে নাকচ করে দিয়েছেন। যদিও বিভিন্ন দেশের সরকার পতন এবং অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে সিআইএর যথেষ্ট কুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি বলেছেন, সিআইএ ইসলামের প্রধান শত্রু নয়। হান্টিংটন আমেরিকার সেনাবাহিনীকেও এই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন; যদিও বা সৌদি আরবের মাটিতে এই সেনাবাহিনী ঘাঁটি স্থাপন করেছে এবং ইরাককে ধ্বংস করেছে,  সুদান এবং আফগানিস্তানে বৃষ্টির মতো মিসাইল নিক্ষেপ করেছে; প্রকাশ্যে ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে নিয়ে বিংশ শতাব্দীর ৭০-এর দশক পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে পাশ্চাত্যের ঔপনিবেশিক শাসনের আমলে তাদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানরা যে নির্যাতন ও নিপিড়নের শিকার হয়েছিলো তাকে সভ্যতার দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত না করার কোন উপায় নেই। শীতল যুদ্ধোত্তর নব্বইয়ের দশকে ’৯১-এর উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে আরম্ভ করে ’৯৯ সন পর্যন্ত ইরাক, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা, কসোভো, আলবেনিয়া ও চেচনিয়ায় পশ্চিমা সভ্যতার ধারক-বাহকরা! মুসলিম গণহত্যার যে মহোৎসব চালিয়েছে তাকে সভ্যতার সংঘাত ছাড়া আর কী বলা যায়? তারও প্রায় শতাব্দীকাল পূর্বে ১৯১২-১৩ পর্যন্ত বলকান যুদ্ধে সার্বিয়া মন্টেনেগ্রোর সেনাবাহিনী আলবেনিয়া ও কসোভোর মুসলমানদের ওপর নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে যে গণহত্যা চালায় তাও কী সভ্যতার সঙ্ঘাতের কারণ হয় নাই? ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া ও সোমালিয়ায় তারা যে অবর্ণনীয় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের অঘাতে মুসলিম স্থাপনাগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে, ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে মুসলিম নিদর্শনগুলোকে; যেভাবে নির্বিচারে অবিরাম বোমাবর্ষণ করে ব্যাপকভাবে হত্যা করছে মুসলিম নর-নারী ও নিষ্পাপ শিশুদেরকে। ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সবকিছুকে, তখন এটাকে সভ্যতার দ্বন্দ্ব কেন বলা হচ্ছে না? যারা বিবেকবান, যাদের বোধশক্তি লোপ পায়নি, তারা আজ যথেষ্টই বিরক্ত ও অস্বস্তিবোধ করছে পাশ্চাত্যের এহেন বর্বরতা ও পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের জন্য। ২০১৫ সালে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা হওয়ার পর বিশ্বে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতার জন্য পাশ্চাত্যদেরকে দায়ী করে এবং তারা যে বিশ্বকে ক্রমশ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে মার্কিন কলামিস্ট পিটার ভ্যান ব্যারেন, “উইমিন্ট ওয়েল ডটকম” এর ব্লগে তিনি বলেন, “আমাদের যদি আসলে সঠিক কৌশল থাকতো, আমি আপনাদের বলতে পারতাম তা কী এবং আমি ওয়াশিংটন, প্যারিস ও অন্যত্র তা বলতাম। কিন্তু আমার আসলে কিছুই করার নেই এবং আমার সন্দেহ তারা আমার কথা শুনবে কি না। গত ১৪ বছর ধরে আমরা যা কিছু তা বন্ধ করা দরকার। মধ্যপ্রাচ্যকে একা ছেড়ে দিন। আরো ব্যর্থ রাষ্ট্র সৃষ্টি বন্ধ করুন। মিথ্যাচারের ভিত্তিতে সে দেশে আমাদের স্বাধীনতাগুলো ছুড়ে ফেলা বন্ধ করুন।”

আমেরিকা, ব্রিটেন এবং রাশিয়া আজ মধ্যপ্রাচ্যে যা করছে, যেভাবে বোমাবর্ষণ করে মানবসভ্যতা ধ্বংস করছে তা কি করে সভ্য জাতির কাজ বলে গণ্য হতে পারে? যারা মানুষ হত্যার জন্য ব্যবহার করছে ক্লোরেন গ্যাস, নাপাম ও হোয়াইট ফসফরাস বোমা, থার্মোবায়িক বোমা ও গুচ্ছ বোমা। যেগুলো ব্যবহার করা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য। আমি যতটুকু জানি, এসব হলো অসভ্য বর্বর হুন আর মোঙ্গলদের ন্যায় বর্বরদের দ্বারাই সম্ভব। কুখ্যাত আবুগারিব এবং গুয়ান্তোনামো বে কারাগারের বন্দিদের ওপর যে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনো পশুদের সাথেও একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পশ্চিমা সভ্যতা এটার জন্য একটুও লজ্জিত হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮০০ নং মিলিটারি পুলিশের নারী ও পুরুষ সৈনিকরা উলঙ্গ বন্দিদের বিশেষ অঙ্গের দিকে ইশারা এবং যৌন নিপিড়ন, বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে নির্যাতন, শিকারি কুকুর দিয়ে আক্রমণ এগুলো স্পষ্টতই জেনেভা কনভেনশনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। এরূপ ন্যক্কারজনক আচরণ কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের দ্বারাই ইহুদি বন্দিদের সঙ্গে করতে দেখা গিয়েছিলো। ড. পলিয়া যিনি পাশ্চাত্যের এক প্রখ্যাত গবেষক। তিনি তার “বডি কাউন্টে” উল্লেখ করেন, ১৯৫০-২০০৫ সালে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসী নীতির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১৩ লাখ লোকের পরিহার্য মৃত্যু ঘটেছে এবং সারাবিশ্বে ৮৮ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। আর মুসলিম বিশ্বে ১৯৫০-২০০৮ সালের মধ্যে পরিহার্য মৃত্যুর সংখ্যা ৬ কোটি। যেমনÑ প্যালেস্টাইনে ১৩ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে, ৪৩ লাখ লোকের কোনো মানবাধিকার নেই।

আমেরিকার কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীরা শতকরা ৮২ ভাগই ২০ বছরের আগেই যৌনতায় লিপ্ত হয়। বছরে ১৬ লাখ গর্ভপাত ঘটায়। সরকারি এক হিসেবে মতে ১৫-১৯ বছরের অবিবাহিত মেয়েরা ৬৫ শতাংশ সন্তানের জননী। সবমিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যত শিশু জন্ম নেয় তার শতকরা ৩১ শতাংশ জারজ। বিস্ময়কর ব্যাপার হলোÑ আমেরিকার ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে অবাধ যৌনাচার অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে আমেরিকায় প্রতি ৪৬ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষিত হয়। সে হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় ৭৮ জন এবং প্রতি বছরে ৬,৮৩,২৮০ জন নারী এই জঘন্য নির্যাতনের শিকার হন (তুমিও জিতবে, শিব খেরা, পৃ.-২৮-২৯)। যুক্তরাষ্ট্রের বিবাহিত পুরুষের ৬৫ শতাংশ এবং নারীরা ৪০ শতাংশ ব্যাভিচারে আসক্ত। সিআইএ’র অন্য এক হিসেবে মতে, বছরে ৪ কোটি লোক অথবা প্রতি ৪ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন  তাদের বয়স ৯ থেকে ১২ বছরের মধ্যে নিকটাত্মীয়দের দ্বারা যৌন নিপিড়নের শিকার হন।  শতকারা ৫৫টি বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের ২৫ শতাংশ তাদের স্বামীর মারধরের শিকার হন। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ১,৭১,৮৯০ জন এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বর্তমান ১০ লক্ষেরও বেশি এইডস আক্রান্ত। ১৮ বছরের কম বয়সি তরুণ-তরুণীদের ৩০ শতাংশ মাদকাসক্ত। ১৯৯৫ সালে আমেরিকায় স্বাভাবিক মৃত্যু বরণকারীদের সংখ্যা ছিল ২২,৫৫২ জন, সেখানে আত্মহত্যাকারীদের সংখ্যা ছিল ৩১,২৮৪ জন। অর্থ্যাৎ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ৮৬ জন লোক আত্মহত্যা করে। ১,৩৫,০০০ শিশু স্কুলে বন্দুক নিয়ে যায়। প্রতি দশ জনে একজন আমেরিকান নাগরিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য চায়। বছরে ২০-৪০ লাখ নারী নির্যাতিত হন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে ব্রিটেনে দৈনিক গড়ে ৯০ জন নারী ধর্ষিত হয়।

পাশ্চাত্য সভ্যতার এই করুণ পরিণতি সম্পর্কে বার্ট্রান্ড রাসেল এই জন্য বলেছিলেন, “সূদুর অতীতের বন্য গোষ্টিগুলোর পক্ষে সেই নিষ্ঠুরতা আর কুসংস্কার হয়তো স্বাভাবিকই ছিলো, কিন্তু আজকের যুগে তা ধ্বংস করে দেবে আমাদের যাবতীয় সুখকে, তারপর খুব সম্ভবত যাবতীয় জীবনকে।” এই হলো পাশ্চাত্য সভ্যতার সূতিকাগার যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেনের সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। এই যদি হয় তথাকথিত সভ্যতার দাবিদারদের পরিণতি তাহলে গোটা পাশ্চাত্য সমাজের পরিণতি আরো কি ভয়াবহ বিভৎস হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, পাশ্চাত্য সভ্যতা যান্ত্রিক ও বৈশ্বিক উন্নতি লাভ করলেও মানব সভ্যতার নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোন উন্নতি সাধন করতে পারেনি। বরং মানবজাতির নৈতিকতাবোধ ও মূল্যবোধকে আরো ম্লান করে দিয়েছে।

লেখক : প্রভাষক, সরকারি ইস্পাহানী ডিগ্রি কলেজ, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা

বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy