
X
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব সফল হলে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেত বলে মনে করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির অধিকারের জায়গায় থেমে থাকেননি। তিনি বলেছেন, পৃথিবী আজ দু’ভাগে বিভক্ত- শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। তিনি বিশ্বের সকল শোষিতের পক্ষে দাঁড়ালেন। একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন। সেটির নাম দিলেন শোষিতের গণতন্ত্র তথা দ্বিতীয় বিপ্লব।’
সোমবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য ড. মশিউর রহমান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লব যদি সেদিন সফল হত, তাহলে আজকে শুধু তোমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয়, বাংলাদেশ ৫০ বছরের যাত্রায় পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী এবং মানবিক রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে অনন্যসাধারণ হয়ে উঠতো। সেকারণেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। কেননা তিনি যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা ভাবছিলেন, সেই বিপ্লব বিশ্বে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির মডেলে পরিণত হতো। আমরা সেখান থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের এই প্রথিতযশা সমাজচিন্তক বলেন, ‘আজকে তোমরা যারা এখানে সুন্দর জামা-কাপড় পরে এসেছ, কথা বলছ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভাবছ। কিন্তু ১৯৭১ সালে এই দেশ সুরক্ষা এবং জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা হয়ে উঠেছিল। কী ছিল সেই গেরিলাদের মনে-প্রাণের ইচ্ছা? তোমাদের যেমন অনেক স্বপ্ন আছে; কেউ ডাক্তার, কেউ বিমান চালাবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আরো নানা কিছু হবে। কিন্তু গেরিলাদের মাথায় শুধু একটি চিন্তা ছিল- একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে হবে। তুমি তোমার স্বপ্নের জন্য কী না কর। অনবরত প্রতিদিন আমরা নিজেকে নিয়ে ভাবি, আমি কীভাবে ভালো থাকবো। যাঁরা সেদিন গেরিলা হয়েছিল, তাঁদের প্রতিটি মানুষ প্রতিক্ষণ জানতো একটি বুলেট এসে বুকে বিদ্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুর মুখে পতিত হতে পারেন। সেরকম একটি অবস্থায় দাঁড়িয়ে একজন একজন করে এই বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের প্রত্যেককে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা বুক চিতিয়ে সেই হত্যাকে বরণ করে নিয়েছে, আত্মাহুতি দিয়েছে। একমাত্র একটি দেশ সৃষ্টি ছাড়া কোনো চাওয়া-পাওয়া তাঁদের সামনে ছিল না।’
উপাচার্য ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেই জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির পেছনের মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। যাঁকে তখন কবর খুঁড়ে পাকিস্তানের কারাগারের পাশে রাখা হয়েছিল যে তাঁকে হত্যা করে কবরস্থ করা হবে। অত্যন্ত সাহসী ও তেজোদীপ্ত মানুষ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমাকে হত্যার পর বাংলাদেশে আমার কফিন পাঠিয়ে দিও। ওই মাটিতে আমার দাফন হবে। কিন্তু পাকিস্তানের ওই সামরিক জান্তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে সাহস পায়নি। কেননা বিশ্ব জনমত তখন বাংলাদেশের পক্ষে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে। কারণ তিনি ধীরে ধীরে আমাদের তৈরি করেছিলেন। বিশে^র কাছে তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অপরিহার্য।’
শিক্ষার্থীদের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে বুকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধকে বুকে ধারণ করে পঁচাত্তরের খুনিদের ঘৃণা করবে। তোমরা শিক্ষার আলোয়, সুস্বাস্থ্যে বিকশিত হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করবে। অন্যের ধর্ম ও মতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে। এসো নিজ হাতে এই সুন্দর দেশমাতৃকাকে সাজিয়ে তুলি। আমাদের আগামীর পথ চলা অনিন্দ্য সুন্দরে ভরে উঠুক। তোমাদের জীবন সাফল্যগাথায় ভরে উঠুক- এই প্রত্যাশা রইল।’
আলোচনা সভায় ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এছাড়া আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি।
বাবু/এ.এস